দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ০২ আগস্ট ২০২৪

চাচা-ভাতিজির অনৈতিক সম্পর্কে ভাতিজির বিবাহ বিচ্ছেদ, এলাকায় তোলপাড়

চাচা-ভাতিজির অনৈতিক সম্পর্কে ভাতিজির বিবাহ বিচ্ছেদ, এলাকায় তোলপাড়

নূরুল আনোয়ার ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি দখল ও অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য

কটিয়াদীতে কৃষক হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার রক্তমাখা ছুরি

নওগাঁয় বজ্রপাতে নিহতের কবর পাহারা দিচ্ছেন স্বজনরা, লাশ চুরির আশঙ্কায় রাতভর নজরদারি

বাঞ্ছারামপুর থানা হোগলাকান্দি গ্রামে টেকসই সড়ক ও ড্রেন পেয়ে আনন্দিত সর্বস্তরের গ্রামবাসী...

বাঞ্ছারামপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল, নাশকতা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি

বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: মেঘালয়ের রেকর্ড বৃষ্টিতে সিলেট-সুনামগঞ্জসহ ৬ জেলায় প্লাবনের শঙ্কা

মোহাম্মদপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, কলেজগেট এলাকা থেকে ১০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবি, ২ নারী নিহত, বরসহ ৩ জন নিখোঁজ

মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবি, ২ নারী নিহত, বরসহ ৩ জন নিখোঁজ
-ছবি: সংগৃহীত

মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবি, ২ নারী নিহত, বরসহ ৩ জন নিখোঁজ

শরীয়তপুরের মেঘনা নদীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বরযাত্রীবাহী একটি ট্রলার ডুবে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বরসহ আরও তিনজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।


কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরযাত্রীদের একটি দল বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে রওনা হয়ে শুক্রবার সকালে শরীয়তপুরের কোদালপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা মাঝের চরে যাওয়ার জন্য একটি ট্রলারে ওঠেন।

ট্রলারে মোট ১১ জন যাত্রী ছিলেন। তবে নদীতে তখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল এবং হঠাৎ করেই বাতাস ও ঢেউ বেড়ে যায়। এর ফলে মাঝ নদীতে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়।


প্রাণহানি ও উদ্ধার

ট্রলারডুবির পর চালকসহ স্থানীয় কয়েকজন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে বরযাত্রী দলের অধিকাংশই সাঁতার জানতেন না, ফলে তারা পানিতে আটকে পড়েন।

স্থানীয় জেলে ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতরা হলেন জলি আক্তার (২৩) ও সাহানা আক্তার (৫০)। তারা দুজনই ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন।

অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে পারভীন ও সুফিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। আকাশ নামে আরেকজন সুস্থ রয়েছেন।


নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান

এখনো বর শান্ত, শাওন ও হৃদয়সহ তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, জেলা পুলিশ এবং নৌ-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

নদীতে প্রবল স্রোত ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রশাসনের বক্তব্য

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুষ্পেন দেবনাথ বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।


মেঘনা নদী ও নৌ দুর্ঘটনার পটভূমি

মেঘনা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর একটি। এই নদীতে প্রায়ই যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে, বিশেষ করে শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও ভোলা অঞ্চলে।

তবে এই নদীটি তার প্রবল স্রোত, হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন এবং নৌযান ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে। অতীতেও এখানে একাধিক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

বাংলাদেশে নদীপথ এখনো অনেক অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


শেষ কথা

বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবির এই ঘটনায় দুই নারীর মৃত্যু এবং তিনজনের নিখোঁজ হওয়া পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে। একই সঙ্গে এটি আবারও নৌযান নিরাপত্তা ও আবহাওয়ার সতর্কতা মানার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

উদ্ধার অভিযান চলছে, তবে নিখোঁজদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবি, ২ নারী নিহত, বরসহ ৩ জন নিখোঁজ

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৪

featured Image

মেঘনা নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবি, ২ নারী নিহত, বরসহ ৩ জন নিখোঁজ

শরীয়তপুরের মেঘনা নদীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বরযাত্রীবাহী একটি ট্রলার ডুবে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বরসহ আরও তিনজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।


কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরযাত্রীদের একটি দল বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে রওনা হয়ে শুক্রবার সকালে শরীয়তপুরের কোদালপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা মাঝের চরে যাওয়ার জন্য একটি ট্রলারে ওঠেন।

ট্রলারে মোট ১১ জন যাত্রী ছিলেন। তবে নদীতে তখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল এবং হঠাৎ করেই বাতাস ও ঢেউ বেড়ে যায়। এর ফলে মাঝ নদীতে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়।


প্রাণহানি ও উদ্ধার

ট্রলারডুবির পর চালকসহ স্থানীয় কয়েকজন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে বরযাত্রী দলের অধিকাংশই সাঁতার জানতেন না, ফলে তারা পানিতে আটকে পড়েন।

স্থানীয় জেলে ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতরা হলেন জলি আক্তার (২৩) ও সাহানা আক্তার (৫০)। তারা দুজনই ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন।

অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে পারভীন ও সুফিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। আকাশ নামে আরেকজন সুস্থ রয়েছেন।


নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান

এখনো বর শান্ত, শাওন ও হৃদয়সহ তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, জেলা পুলিশ এবং নৌ-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

নদীতে প্রবল স্রোত ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রশাসনের বক্তব্য

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুষ্পেন দেবনাথ বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।


মেঘনা নদী ও নৌ দুর্ঘটনার পটভূমি

মেঘনা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর একটি। এই নদীতে প্রায়ই যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে, বিশেষ করে শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও ভোলা অঞ্চলে।

তবে এই নদীটি তার প্রবল স্রোত, হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন এবং নৌযান ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে। অতীতেও এখানে একাধিক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

বাংলাদেশে নদীপথ এখনো অনেক অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


শেষ কথা

বরযাত্রীবাহী ট্রলারডুবির এই ঘটনায় দুই নারীর মৃত্যু এবং তিনজনের নিখোঁজ হওয়া পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে। একই সঙ্গে এটি আবারও নৌযান নিরাপত্তা ও আবহাওয়ার সতর্কতা মানার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

উদ্ধার অভিযান চলছে, তবে নিখোঁজদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর