দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে যাত্রী-চালক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ২০ বছর পর নিউইয়র্ক সফর

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

সৌদির স্কুলের বইয়ে আমূল পরিবর্তন, ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে বদলে গেল পুরোনো বয়ান

এপ্রিলের ২০ দিনে দেশে এলো ১২ তেলবাহী জাহাজ, স্বস্তির পথে জ্বালানি সরবরাহ

এপ্রিলের ২০ দিনে দেশে এলো ১২ তেলবাহী জাহাজ, স্বস্তির পথে জ্বালানি সরবরাহ
-ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিলের ২০ দিনে দেশে এসেছে ১২ তেলবাহী জাহাজ, বাড়ছে জ্বালানি মজুত

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছিল। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ এখন অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১২টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি এসেছে ডিজেল। আটটি জাহাজে মোট দুই লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। এছাড়া ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল এসেছে। জ্বালানির মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল হওয়ায় এই সরবরাহকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অকটেন এসেছে দুটি জাহাজে প্রায় ৫৩ হাজার টন। একই সময়ে একটি জাহাজে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং আরেকটি জাহাজে ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল এসেছে। এসব সরবরাহের কারণে গত ১৯ এপ্রিল থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে তেলের কোনো সংকট নেই। অকটেনের মজুত ইতোমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়েও বেশি হয়েছে। সামনে মে ও জুন মাসের চাহিদা মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে ডিজেলের মাসিক চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত ছিল এক লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় নয় দিন চলার মতো। তবে আরও প্রায় এক লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এগুলো যুক্ত হলে মজুত আরও প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অকটেনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভালো। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪৭ হাজার টন হলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত ছিল প্রায় ২৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ২৪ দিন চলবে। এর মধ্যে নতুন করে আরও ২৭ হাজার টন অকটেন আসায় মজুত সক্ষমতার সীমা ছাড়ানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

পেট্রলের মজুত রয়েছে ১৯ হাজার ১২৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চলবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭৮ টন, যা দিয়ে প্রায় ৩০ দিন চালানো সম্ভব।

জেট ফুয়েলের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এর মজুত রয়েছে ২৩ হাজার ৮৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। বিমান চলাচল বাড়ার কারণে এই জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত যথাক্রমে প্রায় ৩৬ ও ৩২ দিনের মতো রয়েছে। এই দুই জ্বালানির ব্যবহার তুলনামূলক কম হওয়ায় সরবরাহেও বড় কোনো চাপ নেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন মূলত দেশের জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা দেখভাল করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ মাসে তেলের কোনো সংকট নেই। সামনে আরও অন্তত পাঁচটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসবে। বিশেষ করে ডিজেলের বড় চালান খালাস হলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসা এবং মজুত বাড়তে থাকায় দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির বার্তা মিলছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে আগাম পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

বিষয় : এপ্রিলের তেলবাহী জ্বালানি সরবরাহ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এপ্রিলের ২০ দিনে দেশে এলো ১২ তেলবাহী জাহাজ, স্বস্তির পথে জ্বালানি সরবরাহ

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

এপ্রিলের ২০ দিনে দেশে এসেছে ১২ তেলবাহী জাহাজ, বাড়ছে জ্বালানি মজুত

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছিল। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ এখন অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১২টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি এসেছে ডিজেল। আটটি জাহাজে মোট দুই লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। এছাড়া ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল এসেছে। জ্বালানির মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল হওয়ায় এই সরবরাহকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অকটেন এসেছে দুটি জাহাজে প্রায় ৫৩ হাজার টন। একই সময়ে একটি জাহাজে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং আরেকটি জাহাজে ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল এসেছে। এসব সরবরাহের কারণে গত ১৯ এপ্রিল থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে তেলের কোনো সংকট নেই। অকটেনের মজুত ইতোমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়েও বেশি হয়েছে। সামনে মে ও জুন মাসের চাহিদা মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে ডিজেলের মাসিক চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত ছিল এক লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় নয় দিন চলার মতো। তবে আরও প্রায় এক লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এগুলো যুক্ত হলে মজুত আরও প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অকটেনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভালো। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪৭ হাজার টন হলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত ছিল প্রায় ২৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ২৪ দিন চলবে। এর মধ্যে নতুন করে আরও ২৭ হাজার টন অকটেন আসায় মজুত সক্ষমতার সীমা ছাড়ানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

পেট্রলের মজুত রয়েছে ১৯ হাজার ১২৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চলবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭৮ টন, যা দিয়ে প্রায় ৩০ দিন চালানো সম্ভব।

জেট ফুয়েলের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এর মজুত রয়েছে ২৩ হাজার ৮৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। বিমান চলাচল বাড়ার কারণে এই জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত যথাক্রমে প্রায় ৩৬ ও ৩২ দিনের মতো রয়েছে। এই দুই জ্বালানির ব্যবহার তুলনামূলক কম হওয়ায় সরবরাহেও বড় কোনো চাপ নেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন মূলত দেশের জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা দেখভাল করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ মাসে তেলের কোনো সংকট নেই। সামনে আরও অন্তত পাঁচটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসবে। বিশেষ করে ডিজেলের বড় চালান খালাস হলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ আসা এবং মজুত বাড়তে থাকায় দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির বার্তা মিলছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে আগাম পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর