দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

কাঁচামাল না পেয়ে বন্ধ চট্টগ্রামের ডিএপি কারখানা, চাপে সার সরবরাহ

কাঁচামাল না পেয়ে বন্ধ চট্টগ্রামের ডিএপি কারখানা, চাপে সার সরবরাহ

প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা: কার্যকর রূপরেখা তৈরির দাবি বিএমএসএফ সভাপতির

ভারত থেকে এলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল, এপ্রিলে মোট আসবে ২৫ হাজার টন

সিএনজি চালক থেকে কোটি টাকার মালিক: মদিনায় বসে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে আলোচনায় রবি

সারাদেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু, আহত অন্তত ২০

মাঠের তর্ক গড়াল রক্তক্ষয়ী ঘটনায়: হবিগঞ্জে প্রাণ গেল এক যুবকের

২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

বান্ধবীকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল দুই স্কুলছাত্রী, একজন এখনও নিখোঁজ

মদিনায় হুন্ডি সিন্ডিকেটের অভিযোগে বাঞ্ছারামপুরের ‘রবি’, গ্রেফতারের দাবি

সিএনজি চালক থেকে কোটি টাকার মালিক: মদিনায় বসে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে আলোচনায় রবি

সিএনজি চালক থেকে কোটি টাকার মালিক: মদিনায় বসে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে আলোচনায় রবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের এক সময়ের সিএনজি চালক রবি উল্লাহ রবি এখন সৌদি আরবের মদিনায় বসে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা করছেন—এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বল্প আয়ের চাকরি করলেও তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সম্পদ, যা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা রবি উল্লাহ রবি একসময় দিনমজুরি ও সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ নেন। বর্তমানে তিনি ‘আল মাজালা আরাবিয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ক্লিনার হিসেবে কর্মরত বলে জানা যায়। তার মাসিক বেতন মাত্র ৭৫০ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫ হাজারের মতো।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সীমিত আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পদের কোনো মিল নেই। তারা বলছেন, প্রবাসে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রবি অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিয়ে তিনি কমিশন নিচ্ছেন, যা থেকেই তার বিপুল আয় হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ঢাকার সাভার ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় তার নামে-বেনামে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। নিজ গ্রামেও আগের কাঁচা ঘরের জায়গায় পাকা দালানঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। দেশে তার হয়ে একটি চক্র এই লেনদেন পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মদিনা প্রবাসী আল আমিন আহমেদ বলেন, “আমরা অনেকেই তার মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাই। কিন্তু সে কীভাবে টাকা পৌঁছায়, সেটা আমরা জানি না।” একইভাবে আরেক প্রবাসী আলম মিয়া বলেন, “রবি বেশি পড়ালেখা জানে না, কিন্তু খুব চালাক। অল্প বেতনের চাকরি করেও হুন্ডির মাধ্যমে অনেক টাকা আয় করছে।”

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রবি উল্লাহ রবি। তার দাবি, তিনি নিয়মিত চাকরি করেই আয় করছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

হুন্ডি পদ্ধতি মূলত একটি অবৈধ অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা, যেখানে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার না করে অনানুষ্ঠানিকভাবে টাকা আদান-প্রদান করা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতি চালু থাকলেও সরকার এটিকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করছে। কারণ, এতে বৈদেশিক মুদ্রা সরকারি হিসাবে আসে না এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠালে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আসে না, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাঞ্ছারামপুর এলাকায় এর আগেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে সেগুলোর অনেকটাই প্রমাণের অভাবে ধামাচাপা পড়ে যায়। এবার রবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বৈধ পথে টাকা পাঠাতে সচেতন করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সবমিলিয়ে, বিষয়টি এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই—এটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সঙ্গেও জড়িত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সন্দেহ ও উদ্বেগ দূর করতে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


সিএনজি চালক থেকে কোটি টাকার মালিক: মদিনায় বসে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে আলোচনায় রবি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের এক সময়ের সিএনজি চালক রবি উল্লাহ রবি এখন সৌদি আরবের মদিনায় বসে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা করছেন—এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বল্প আয়ের চাকরি করলেও তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সম্পদ, যা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা রবি উল্লাহ রবি একসময় দিনমজুরি ও সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ নেন। বর্তমানে তিনি ‘আল মাজালা আরাবিয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ক্লিনার হিসেবে কর্মরত বলে জানা যায়। তার মাসিক বেতন মাত্র ৭৫০ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫ হাজারের মতো।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সীমিত আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পদের কোনো মিল নেই। তারা বলছেন, প্রবাসে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রবি অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিয়ে তিনি কমিশন নিচ্ছেন, যা থেকেই তার বিপুল আয় হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ঢাকার সাভার ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় তার নামে-বেনামে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। নিজ গ্রামেও আগের কাঁচা ঘরের জায়গায় পাকা দালানঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। দেশে তার হয়ে একটি চক্র এই লেনদেন পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মদিনা প্রবাসী আল আমিন আহমেদ বলেন, “আমরা অনেকেই তার মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাই। কিন্তু সে কীভাবে টাকা পৌঁছায়, সেটা আমরা জানি না।” একইভাবে আরেক প্রবাসী আলম মিয়া বলেন, “রবি বেশি পড়ালেখা জানে না, কিন্তু খুব চালাক। অল্প বেতনের চাকরি করেও হুন্ডির মাধ্যমে অনেক টাকা আয় করছে।”

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রবি উল্লাহ রবি। তার দাবি, তিনি নিয়মিত চাকরি করেই আয় করছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

হুন্ডি পদ্ধতি মূলত একটি অবৈধ অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা, যেখানে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার না করে অনানুষ্ঠানিকভাবে টাকা আদান-প্রদান করা হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতি চালু থাকলেও সরকার এটিকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করছে। কারণ, এতে বৈদেশিক মুদ্রা সরকারি হিসাবে আসে না এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠালে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আসে না, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাঞ্ছারামপুর এলাকায় এর আগেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে সেগুলোর অনেকটাই প্রমাণের অভাবে ধামাচাপা পড়ে যায়। এবার রবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বৈধ পথে টাকা পাঠাতে সচেতন করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সবমিলিয়ে, বিষয়টি এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই—এটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সঙ্গেও জড়িত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সন্দেহ ও উদ্বেগ দূর করতে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর