দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

স্বাধীনতার পর অর্জন আছে, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জেসিআই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতার পর অর্জন আছে, কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জেসিআই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

জ্বালানি সংকটে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি: ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা

পুলিশ আধুনিকায়নে নতুন সহযোগিতার বার্তা: আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ জরুরি: এজিইসি প্লাস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

বনানীর ১১ তলা ভবনের কাপড়ের গোডাউনে আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার: এক মাসে কোটি টাকার সম্পদে দুদকের হস্তক্ষেপ

সংসদে নিজের বক্তব্য সংশোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, প্রাইভেট স্কুলে গাইডলাইন থাকার কথা স্বীকার

সংস্কার ও রাজনীতি নিয়ে টাঙ্গাইলে তপ্ত ভাষণ, বিরোধীদের কড়া সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার: এক মাসে কোটি টাকার সম্পদে দুদকের হস্তক্ষেপ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার: এক মাসে কোটি টাকার সম্পদে দুদকের হস্তক্ষেপ
-ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের মার্চ মাসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের ১২টি আলাদা আদেশের মাধ্যমে মোট ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক (জব্দ) ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মাসজুড়ে এমন ধারাবাহিক পদক্ষেপ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন গতি এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে আদালত থেকে পাওয়া এসব আদেশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা মেনেই প্রতিটি সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আদালতের ১২টি আদেশের মধ্যে ৫টি আদেশে স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে, যার মোট মূল্য ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ৬০৫ টাকা। এই সম্পদের তালিকায় রয়েছে ১৭ একর জমি, একটি ভবন, একটি টিনশেড বাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট, একটি পুকুর, চারটি বাণিজ্যিক স্পেস এবং একটি বাড়ি। এসব সম্পদ বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগে এগুলো জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাকি ৭টি আদেশে আর্থিক সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যার পরিমাণ ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৮ টাকা ৬৪ পয়সা। অবরুদ্ধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৭৪টি ব্যাংক হিসাব, ৮টি সঞ্চয়ী হিসাব, ১টি চলতি হিসাব, ৩টি ক্রেডিট কার্ড, ২টি এমএসডি, ১টি এসবি হিসাব, ৫টি এফডিআর, ২টি বিও হিসাব, ১টি সঞ্চয়পত্র এবং ৪টি মেয়াদি আমানত। অর্থাৎ শুধু জমি-বাড়িই নয়, নগদ অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেও দুর্নীতির অর্থ চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে দুদক।

সব মিলিয়ে মার্চ মাসে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার ১১৩ টাকা। সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো থেকে এসব সম্পদের বিস্তারিত তালিকা ইতোমধ্যে কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুদক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে মামলা দায়ের করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। আদালতের অনুমোদন নিয়ে সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা হয়, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্ত চলাকালে সম্পদ সরিয়ে ফেলতে না পারে।

গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, বড় বড় দুর্নীতির মামলায় সম্পদ জব্দের হার বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব, ফ্ল্যাট ও জমির মতো সম্পদের ওপর নজর বাড়ানো হয়েছে। এতে করে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবশেষে বলা যায়, মার্চ মাসে দুদকের এই পদক্ষেপ দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের একটি শক্ত বার্তা। তবে শুধু সম্পদ জব্দ করাই নয়, এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার: এক মাসে কোটি টাকার সম্পদে দুদকের হস্তক্ষেপ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চলতি বছরের মার্চ মাসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের ১২টি আলাদা আদেশের মাধ্যমে মোট ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক (জব্দ) ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মাসজুড়ে এমন ধারাবাহিক পদক্ষেপ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নতুন গতি এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে আদালত থেকে পাওয়া এসব আদেশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা মেনেই প্রতিটি সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আদালতের ১২টি আদেশের মধ্যে ৫টি আদেশে স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে, যার মোট মূল্য ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ৬০৫ টাকা। এই সম্পদের তালিকায় রয়েছে ১৭ একর জমি, একটি ভবন, একটি টিনশেড বাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট, একটি পুকুর, চারটি বাণিজ্যিক স্পেস এবং একটি বাড়ি। এসব সম্পদ বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগে এগুলো জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাকি ৭টি আদেশে আর্থিক সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যার পরিমাণ ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৮ টাকা ৬৪ পয়সা। অবরুদ্ধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৭৪টি ব্যাংক হিসাব, ৮টি সঞ্চয়ী হিসাব, ১টি চলতি হিসাব, ৩টি ক্রেডিট কার্ড, ২টি এমএসডি, ১টি এসবি হিসাব, ৫টি এফডিআর, ২টি বিও হিসাব, ১টি সঞ্চয়পত্র এবং ৪টি মেয়াদি আমানত। অর্থাৎ শুধু জমি-বাড়িই নয়, নগদ অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেও দুর্নীতির অর্থ চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে দুদক।

সব মিলিয়ে মার্চ মাসে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার ১১৩ টাকা। সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো থেকে এসব সম্পদের বিস্তারিত তালিকা ইতোমধ্যে কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুদক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে মামলা দায়ের করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। আদালতের অনুমোদন নিয়ে সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা হয়, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্ত চলাকালে সম্পদ সরিয়ে ফেলতে না পারে।

গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, বড় বড় দুর্নীতির মামলায় সম্পদ জব্দের হার বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব, ফ্ল্যাট ও জমির মতো সম্পদের ওপর নজর বাড়ানো হয়েছে। এতে করে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবশেষে বলা যায়, মার্চ মাসে দুদকের এই পদক্ষেপ দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের একটি শক্ত বার্তা। তবে শুধু সম্পদ জব্দ করাই নয়, এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর