দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

নারায়ণগঞ্জে তৈরি বিয়ের গাউন যাচ্ছে ইউরোপ–আমেরিকায়, বছরে রপ্তানি ৫০ লাখ ডলারের বেশি

শেরপুরে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই শিশুর মরদেহ

শেখ মোহাম্মদ মাজেদুল হক যিনি -মাজেদুল হক নামে অধিক পরিচিত "বিরহী কবি" উপাধিতে সমধিক খ্যাত ও সমাদৃত।

মহাখালী সাততলা ফাঁড়িতে অপকর্মের পাহাড়: পোশাকের আড়ালে ‘অসীম-গং’-এর মাদক ও ফিটিং বাণিজ্য!

চার সাংবাদিকের স্মরণে খিলক্ষেত প্রেস ক্লাবে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

নাসিরনগরে হাডুডু খেলা শেষে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১২–১৫ জন; পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ

বৈশাখের রঙে বাঙালির প্রাণ: ঐতিহ্য, উৎসব আর স্মৃতির আবাহন

বৈশাখের রঙে বাঙালির প্রাণ: ঐতিহ্য, উৎসব আর স্মৃতির আবাহন
-ছবি: সংগৃহীত

বৈশাখ বাঙালি জীবনের সবচেয়ে বড় সার্বজনীন উৎসব। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে এই মাস শুধু ক্যালেন্ডারের একটি সময় নয়, বরং এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক জীবনের গভীরে প্রোথিত এক আবেগের নাম। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা এবং পুরোনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে শুরু করার বার্তা নিয়ে।

শৈশবের বৈশাখ মানেই ছিল নতুন জামাকাপড়, দোকানে দোকানে মিষ্টিমুখ, আর উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যবসায়ীরা এই সময় ‘হালখাতা’ খুলে নতুন বছরের হিসাব শুরু করতেন। পুরোনো দেনা-পাওনা মিটিয়ে নতুন খাতায় লেনদেনের সূচনা হতো। এই প্রথা আজও গ্রামবাংলার অনেক স্থানে প্রচলিত।

বৈশাখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মেলার রঙিন আয়োজন। একসময় গ্রামগঞ্জের মেলায় দেখা যেত নানা ধরনের খেলনা—মাটির পুতুল, বাঘ-হরিণের মূর্তি, কাগজের তৈরি খেলনা, ঘুড়ি, বেলুনসহ আরও অনেক কিছু। শুধু বিনোদন নয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন দা, বঁটি, কুলা, চালনি ইত্যাদিও পাওয়া যেত এসব মেলায়। শিশুদের কাছে এই মেলাই ছিল আনন্দের এক বিশাল জগৎ। বাবার হাত ধরে মেলায় ঘোরা, বিস্ময়ে ভরা চোখে সবকিছু দেখা—এসব স্মৃতি আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে।

তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা মেলার প্রাণচাঞ্চল্য যেন কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। হয়তো বড় হয়ে যাওয়ার কারণে সেই আগের অনুভূতি আর ফিরে পাওয়া যায় না, তবে নতুন প্রজন্ম এখনও সেই আনন্দ খুঁজে পায় নিজেদের মতো করে।

বৈশাখ মানেই বিশেষ কিছু খাবারের আয়োজনও। ‘আমানি’ নামে একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। আগের রাতে ভাতে পানি দিয়ে রেখে সকালে পেঁয়াজ, মরিচ, আলু ভর্তা, ডাল ভর্তা কিংবা শুঁটকি দিয়ে খাওয়া হতো। এই খাবারের স্বাদ ছিল অনন্য, যদিও সবার পছন্দের তালিকায় তা নাও থাকতে পারে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকেই বাংলা সনের প্রচলন শুরু হয়। প্রাবন্ধিক শামসুজ্জামান খানের গবেষণা অনুযায়ী, তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনে কর আদায় করা হতো এবং বৈশাখের প্রথম দিন থেকে নতুন হিসাব শুরু করা হতো। সেই ঐতিহ্যই আজকের ‘হালখাতা’ প্রথার ভিত্তি।

বর্তমানে নগর জীবনে বৈশাখ নতুন মাত্রা পেয়েছে। টেলিভিশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, চলচ্চিত্র—সবখানেই বৈশাখের উপস্থিতি লক্ষণীয়। চারদিকে উৎসবের আমেজ, গান, মেলা, আর মানুষের মিলনমেলায় বৈশাখ হয়ে ওঠে এক সার্বজনীন আনন্দের প্রতীক।

সব মিলিয়ে, বৈশাখ শুধু একটি মাস নয়—এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের অংশ, ঐতিহ্যের ধারক এবং নতুন সূচনার এক চিরন্তন প্রতীক।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


বৈশাখের রঙে বাঙালির প্রাণ: ঐতিহ্য, উৎসব আর স্মৃতির আবাহন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বৈশাখ বাঙালি জীবনের সবচেয়ে বড় সার্বজনীন উৎসব। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে এই মাস শুধু ক্যালেন্ডারের একটি সময় নয়, বরং এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক জীবনের গভীরে প্রোথিত এক আবেগের নাম। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ আসে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা এবং পুরোনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে শুরু করার বার্তা নিয়ে।

শৈশবের বৈশাখ মানেই ছিল নতুন জামাকাপড়, দোকানে দোকানে মিষ্টিমুখ, আর উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যবসায়ীরা এই সময় ‘হালখাতা’ খুলে নতুন বছরের হিসাব শুরু করতেন। পুরোনো দেনা-পাওনা মিটিয়ে নতুন খাতায় লেনদেনের সূচনা হতো। এই প্রথা আজও গ্রামবাংলার অনেক স্থানে প্রচলিত।

বৈশাখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মেলার রঙিন আয়োজন। একসময় গ্রামগঞ্জের মেলায় দেখা যেত নানা ধরনের খেলনা—মাটির পুতুল, বাঘ-হরিণের মূর্তি, কাগজের তৈরি খেলনা, ঘুড়ি, বেলুনসহ আরও অনেক কিছু। শুধু বিনোদন নয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন দা, বঁটি, কুলা, চালনি ইত্যাদিও পাওয়া যেত এসব মেলায়। শিশুদের কাছে এই মেলাই ছিল আনন্দের এক বিশাল জগৎ। বাবার হাত ধরে মেলায় ঘোরা, বিস্ময়ে ভরা চোখে সবকিছু দেখা—এসব স্মৃতি আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে।

তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা মেলার প্রাণচাঞ্চল্য যেন কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। হয়তো বড় হয়ে যাওয়ার কারণে সেই আগের অনুভূতি আর ফিরে পাওয়া যায় না, তবে নতুন প্রজন্ম এখনও সেই আনন্দ খুঁজে পায় নিজেদের মতো করে।

বৈশাখ মানেই বিশেষ কিছু খাবারের আয়োজনও। ‘আমানি’ নামে একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। আগের রাতে ভাতে পানি দিয়ে রেখে সকালে পেঁয়াজ, মরিচ, আলু ভর্তা, ডাল ভর্তা কিংবা শুঁটকি দিয়ে খাওয়া হতো। এই খাবারের স্বাদ ছিল অনন্য, যদিও সবার পছন্দের তালিকায় তা নাও থাকতে পারে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকেই বাংলা সনের প্রচলন শুরু হয়। প্রাবন্ধিক শামসুজ্জামান খানের গবেষণা অনুযায়ী, তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনে কর আদায় করা হতো এবং বৈশাখের প্রথম দিন থেকে নতুন হিসাব শুরু করা হতো। সেই ঐতিহ্যই আজকের ‘হালখাতা’ প্রথার ভিত্তি।

বর্তমানে নগর জীবনে বৈশাখ নতুন মাত্রা পেয়েছে। টেলিভিশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, চলচ্চিত্র—সবখানেই বৈশাখের উপস্থিতি লক্ষণীয়। চারদিকে উৎসবের আমেজ, গান, মেলা, আর মানুষের মিলনমেলায় বৈশাখ হয়ে ওঠে এক সার্বজনীন আনন্দের প্রতীক।

সব মিলিয়ে, বৈশাখ শুধু একটি মাস নয়—এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের অংশ, ঐতিহ্যের ধারক এবং নতুন সূচনার এক চিরন্তন প্রতীক।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর