দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত উমর হায়াতের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাসহ ৫০ ভাষায় পৌঁছাবে হজের খুতবা, বহুভাষিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মক্কার হজ ব্যবস্থাপনা

তুরস্কে এক কিশোরের বন্দুক হামলা, নিহত ৪: আতঙ্কে তারসুস, চলছে ব্যাপক অভিযান

আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ

ত্রিশালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অবরুদ্ধ চিকিৎসক

নদীর মাছেও মিলছে প্লাস্টিক কণা, খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে ঢুকছে নীরব বিষ

উখিয়ায় বিজিবির দুই অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

শুজাইয়ার স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গাজায় নতুন করে প্রাণহানি

শুজাইয়ার স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গাজায় নতুন করে প্রাণহানি
গাজার স্কুলে ভয়াবহ হামলা -ছবি: সংগৃহীত

গাজার স্কুলে ভয়াবহ হামলা, ১৫ জন নিহত; একদিনে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু

ফিলিস্তিনের গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার সময় স্কুলটিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দালাল মুগরাবি স্কুলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা মানুষজন হতাহতের শিকার হন।


আশ্রয়কেন্দ্রেই হামলার অভিযোগ

যে স্কুলে হামলা হয়েছে, সেটি মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, সেখানে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

হামলার পর আহতদের দ্রুত গাজা শহরের আল-আহলি আরব হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

⚔️ গাজায় সহিংসতা আরও বাড়ছে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮০ জনে।

একই সময়ে আহত হয়েছেন ৯১ হাজার ১২৮ জনেরও বেশি মানুষ।

পটভূমি: গাজা সংঘাতের ইতিহাস

গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ২০০০ সালের পর থেকে অঞ্চলটি বারবার যুদ্ধ ও হামলার মুখে পড়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় অবকাঠামো, হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রও বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

 আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রের মতো নিরাপদ স্থানে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে এবং গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

 

গাজার এই সাম্প্রতিক হামলা আবারও দেখিয়েছে, সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদ না থাকা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গাজায় চলমান সহিংসতা এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এবং অনিশ্চয়তা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


শুজাইয়ার স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গাজায় নতুন করে প্রাণহানি

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

গাজার স্কুলে ভয়াবহ হামলা, ১৫ জন নিহত; একদিনে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু

ফিলিস্তিনের গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার সময় স্কুলটিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দালাল মুগরাবি স্কুলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা মানুষজন হতাহতের শিকার হন।


আশ্রয়কেন্দ্রেই হামলার অভিযোগ

যে স্কুলে হামলা হয়েছে, সেটি মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, সেখানে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

হামলার পর আহতদের দ্রুত গাজা শহরের আল-আহলি আরব হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

⚔️ গাজায় সহিংসতা আরও বাড়ছে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮০ জনে।

একই সময়ে আহত হয়েছেন ৯১ হাজার ১২৮ জনেরও বেশি মানুষ।

পটভূমি: গাজা সংঘাতের ইতিহাস

গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ২০০০ সালের পর থেকে অঞ্চলটি বারবার যুদ্ধ ও হামলার মুখে পড়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় অবকাঠামো, হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রও বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

 আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রের মতো নিরাপদ স্থানে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে এবং গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

 

গাজার এই সাম্প্রতিক হামলা আবারও দেখিয়েছে, সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদ না থাকা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গাজায় চলমান সহিংসতা এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এবং অনিশ্চয়তা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর