দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০২৪

মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের

মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের

বিদেশি শিক্ষার্থীদের OPT-তে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস: সিআরএস

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০

দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গ না দিলেও ইরানে হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের

কাশ্মীরে ১৫০ বাংলাদেশিকে আটকের দাবি ভারতের, ৭ অক্টোবর ফেরত পাঠানোর কথা

শুজাইয়ার স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গাজায় নতুন করে প্রাণহানি

শুজাইয়ার স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গাজায় নতুন করে প্রাণহানি
গাজার স্কুলে ভয়াবহ হামলা -ছবি: সংগৃহীত

গাজার স্কুলে ভয়াবহ হামলা, ১৫ জন নিহত; একদিনে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু

ফিলিস্তিনের গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার সময় স্কুলটিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দালাল মুগরাবি স্কুলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা মানুষজন হতাহতের শিকার হন।


আশ্রয়কেন্দ্রেই হামলার অভিযোগ

যে স্কুলে হামলা হয়েছে, সেটি মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, সেখানে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

হামলার পর আহতদের দ্রুত গাজা শহরের আল-আহলি আরব হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

⚔️ গাজায় সহিংসতা আরও বাড়ছে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮০ জনে।

একই সময়ে আহত হয়েছেন ৯১ হাজার ১২৮ জনেরও বেশি মানুষ।

পটভূমি: গাজা সংঘাতের ইতিহাস

গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ২০০০ সালের পর থেকে অঞ্চলটি বারবার যুদ্ধ ও হামলার মুখে পড়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় অবকাঠামো, হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রও বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

 আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রের মতো নিরাপদ স্থানে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে এবং গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

 

গাজার এই সাম্প্রতিক হামলা আবারও দেখিয়েছে, সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদ না থাকা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গাজায় চলমান সহিংসতা এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এবং অনিশ্চয়তা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


শুজাইয়ার স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গাজায় নতুন করে প্রাণহানি

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

গাজার স্কুলে ভয়াবহ হামলা, ১৫ জন নিহত; একদিনে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু

ফিলিস্তিনের গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার সময় স্কুলটিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দালাল মুগরাবি স্কুলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরে থাকা মানুষজন হতাহতের শিকার হন।


আশ্রয়কেন্দ্রেই হামলার অভিযোগ

যে স্কুলে হামলা হয়েছে, সেটি মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, সেখানে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

হামলার পর আহতদের দ্রুত গাজা শহরের আল-আহলি আরব হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

⚔️ গাজায় সহিংসতা আরও বাড়ছে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮০ জনে।

একই সময়ে আহত হয়েছেন ৯১ হাজার ১২৮ জনেরও বেশি মানুষ।

পটভূমি: গাজা সংঘাতের ইতিহাস

গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ২০০০ সালের পর থেকে অঞ্চলটি বারবার যুদ্ধ ও হামলার মুখে পড়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় অবকাঠামো, হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রও বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

 আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রের মতো নিরাপদ স্থানে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে এবং গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

 

গাজার এই সাম্প্রতিক হামলা আবারও দেখিয়েছে, সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদ না থাকা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গাজায় চলমান সহিংসতা এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা এবং অনিশ্চয়তা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর