দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

কক্সবাজার আয়কর অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী মোঃ ছাবের আহমদের দাফন সম্পন্ন

মিরপুরের কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট

সাতক্ষীরায় কারাবন্দি সাবেক পিপি আব্দুল লতিফের মৃত্যু, হাসপাতালে নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস

বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-মেয়ে নিহত, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিল পরিবার

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮, একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ ঘোষণা, সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে উন্মুক্ত ২৬ ব্লক

করতোয়া নদীতে জালে ধরা পড়ল মর্টারসেল, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোবিন্দগঞ্জ

করতোয়া নদীতে জালে ধরা পড়ল মর্টারসেল, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোবিন্দগঞ্জ
-ছবি: সংগৃহীত

বিন্দগঞ্জে ৫৩ বছর পুরোনো মর্টারসেল উদ্ধার, সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয়

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদী থেকে মাছ ধরার জালে উঠে এসেছে একটি মর্টারসেল, যা ৫৩ বছর পরেও সক্রিয় অবস্থায় ছিল। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল সেটি নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে।

এই ঘটনার সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলের জালে অস্বাভাবিক বস্তু

গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দরবস্ত ও সাপমারা ইউনিয়নের সীমানায় গোসাইপুর এলাকার করতোয়া নদীতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলে এমারত আলী। হঠাৎ তার জালে একটি ভারী ধাতব বস্তু উঠে আসে।

প্রথমে সেটিকে সাধারণ কোনো পুরোনো লোহা বা বোমার অংশ মনে হলেও পরে স্থানীয়রা সন্দেহ করলে বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়।

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি হেফাজতে নেয় এবং পরে বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দলকে বিষয়টি জানায়।

উদ্ধারের প্রায় পাঁচ দিন পর বুধবার (৩১ জুলাই) রংপুর থেকে সেনাবাহিনীর ৬৩ পদাতিক বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয়

সেনাবাহিনী করতোয়া নদীর তীরে নিরাপদ এলাকা তৈরি করে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এরপর পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে মর্টারসেলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে আশপাশের দরবস্ত ও সাপমারা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অবশিষ্ট অস্ত্র?

স্থানীয়দের ধারণা, মর্টারসেলটি সম্ভবত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। তখন এটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটির নিচে রয়ে গিয়েছিল।

পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় নদীভাঙনের কারণে এটি করতোয়া নদীর তলদেশে চলে আসে এবং সেখানে চাপা অবস্থায় ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধকালীন সময়ের অনেক অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো পাওয়া যায়, বিশেষ করে নদী ও খোলা জমিতে। সময়ের সাথে মাটি সরে যাওয়ায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু কখনও কখনও সামনে চলে আসে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সতর্কতা

এ ধরনের পুরোনো বিস্ফোরক অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকলেও অনেক সময় এগুলো সক্রিয় অবস্থায় থেকে যায়। সামান্য নাড়াচাড়ায়ও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাধারণ মানুষকে এ ধরনের কোনো সন্দেহজনক বস্তু পেলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানায়।

পুলিশের বক্তব্য

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আফম আছাদুজ্জামান আসাদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল এসে সফলভাবে মর্টারসেলটি নিষ্ক্রিয় করে।

শেষ কথা

গোবিন্দগঞ্জের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো যুদ্ধকালীন সময়ের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, স্থানীয়দের সতর্কতা, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সেনাবাহিনীর দক্ষতায় একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা সফলভাবে এড়ানো গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


করতোয়া নদীতে জালে ধরা পড়ল মর্টারসেল, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোবিন্দগঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

বিন্দগঞ্জে ৫৩ বছর পুরোনো মর্টারসেল উদ্ধার, সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয়

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদী থেকে মাছ ধরার জালে উঠে এসেছে একটি মর্টারসেল, যা ৫৩ বছর পরেও সক্রিয় অবস্থায় ছিল। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল সেটি নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে।

এই ঘটনার সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলের জালে অস্বাভাবিক বস্তু

গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দরবস্ত ও সাপমারা ইউনিয়নের সীমানায় গোসাইপুর এলাকার করতোয়া নদীতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলে এমারত আলী। হঠাৎ তার জালে একটি ভারী ধাতব বস্তু উঠে আসে।

প্রথমে সেটিকে সাধারণ কোনো পুরোনো লোহা বা বোমার অংশ মনে হলেও পরে স্থানীয়রা সন্দেহ করলে বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়।

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি হেফাজতে নেয় এবং পরে বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দলকে বিষয়টি জানায়।

উদ্ধারের প্রায় পাঁচ দিন পর বুধবার (৩১ জুলাই) রংপুর থেকে সেনাবাহিনীর ৬৩ পদাতিক বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয়

সেনাবাহিনী করতোয়া নদীর তীরে নিরাপদ এলাকা তৈরি করে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এরপর পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে মর্টারসেলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে আশপাশের দরবস্ত ও সাপমারা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অবশিষ্ট অস্ত্র?

স্থানীয়দের ধারণা, মর্টারসেলটি সম্ভবত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। তখন এটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটির নিচে রয়ে গিয়েছিল।

পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় নদীভাঙনের কারণে এটি করতোয়া নদীর তলদেশে চলে আসে এবং সেখানে চাপা অবস্থায় ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধকালীন সময়ের অনেক অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো পাওয়া যায়, বিশেষ করে নদী ও খোলা জমিতে। সময়ের সাথে মাটি সরে যাওয়ায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু কখনও কখনও সামনে চলে আসে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সতর্কতা

এ ধরনের পুরোনো বিস্ফোরক অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকলেও অনেক সময় এগুলো সক্রিয় অবস্থায় থেকে যায়। সামান্য নাড়াচাড়ায়ও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাধারণ মানুষকে এ ধরনের কোনো সন্দেহজনক বস্তু পেলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানায়।

পুলিশের বক্তব্য

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আফম আছাদুজ্জামান আসাদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল এসে সফলভাবে মর্টারসেলটি নিষ্ক্রিয় করে।

শেষ কথা

গোবিন্দগঞ্জের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো যুদ্ধকালীন সময়ের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, স্থানীয়দের সতর্কতা, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সেনাবাহিনীর দক্ষতায় একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা সফলভাবে এড়ানো গেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর