গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদী থেকে মাছ ধরার জালে উঠে এসেছে একটি মর্টারসেল, যা ৫৩ বছর পরেও সক্রিয় অবস্থায় ছিল। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল সেটি নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে।
এই ঘটনার সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দরবস্ত ও সাপমারা ইউনিয়নের সীমানায় গোসাইপুর এলাকার করতোয়া নদীতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলে এমারত আলী। হঠাৎ তার জালে একটি ভারী ধাতব বস্তু উঠে আসে।
প্রথমে সেটিকে সাধারণ কোনো পুরোনো লোহা বা বোমার অংশ মনে হলেও পরে স্থানীয়রা সন্দেহ করলে বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি হেফাজতে নেয় এবং পরে বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দলকে বিষয়টি জানায়।
উদ্ধারের প্রায় পাঁচ দিন পর বুধবার (৩১ জুলাই) রংপুর থেকে সেনাবাহিনীর ৬৩ পদাতিক বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সেনাবাহিনী করতোয়া নদীর তীরে নিরাপদ এলাকা তৈরি করে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এরপর পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে মর্টারসেলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে আশপাশের দরবস্ত ও সাপমারা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের ধারণা, মর্টারসেলটি সম্ভবত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। তখন এটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটির নিচে রয়ে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় নদীভাঙনের কারণে এটি করতোয়া নদীর তলদেশে চলে আসে এবং সেখানে চাপা অবস্থায় ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধকালীন সময়ের অনেক অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো পাওয়া যায়, বিশেষ করে নদী ও খোলা জমিতে। সময়ের সাথে মাটি সরে যাওয়ায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু কখনও কখনও সামনে চলে আসে।
এ ধরনের পুরোনো বিস্ফোরক অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকলেও অনেক সময় এগুলো সক্রিয় অবস্থায় থেকে যায়। সামান্য নাড়াচাড়ায়ও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাধারণ মানুষকে এ ধরনের কোনো সন্দেহজনক বস্তু পেলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানায়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আফম আছাদুজ্জামান আসাদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল এসে সফলভাবে মর্টারসেলটি নিষ্ক্রিয় করে।
গোবিন্দগঞ্জের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো যুদ্ধকালীন সময়ের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্থানীয়দের সতর্কতা, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সেনাবাহিনীর দক্ষতায় একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা সফলভাবে এড়ানো গেছে।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদী থেকে মাছ ধরার জালে উঠে এসেছে একটি মর্টারসেল, যা ৫৩ বছর পরেও সক্রিয় অবস্থায় ছিল। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল সেটি নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে।
এই ঘটনার সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দরবস্ত ও সাপমারা ইউনিয়নের সীমানায় গোসাইপুর এলাকার করতোয়া নদীতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলে এমারত আলী। হঠাৎ তার জালে একটি ভারী ধাতব বস্তু উঠে আসে।
প্রথমে সেটিকে সাধারণ কোনো পুরোনো লোহা বা বোমার অংশ মনে হলেও পরে স্থানীয়রা সন্দেহ করলে বিষয়টি গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি হেফাজতে নেয় এবং পরে বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দলকে বিষয়টি জানায়।
উদ্ধারের প্রায় পাঁচ দিন পর বুধবার (৩১ জুলাই) রংপুর থেকে সেনাবাহিনীর ৬৩ পদাতিক বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সেনাবাহিনী করতোয়া নদীর তীরে নিরাপদ এলাকা তৈরি করে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এরপর পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে মর্টারসেলটি নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে আশপাশের দরবস্ত ও সাপমারা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের ধারণা, মর্টারসেলটি সম্ভবত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। তখন এটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটির নিচে রয়ে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় নদীভাঙনের কারণে এটি করতোয়া নদীর তলদেশে চলে আসে এবং সেখানে চাপা অবস্থায় ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধকালীন সময়ের অনেক অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো পাওয়া যায়, বিশেষ করে নদী ও খোলা জমিতে। সময়ের সাথে মাটি সরে যাওয়ায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু কখনও কখনও সামনে চলে আসে।
এ ধরনের পুরোনো বিস্ফোরক অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকলেও অনেক সময় এগুলো সক্রিয় অবস্থায় থেকে যায়। সামান্য নাড়াচাড়ায়ও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাধারণ মানুষকে এ ধরনের কোনো সন্দেহজনক বস্তু পেলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানায়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আফম আছাদুজ্জামান আসাদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় দল এসে সফলভাবে মর্টারসেলটি নিষ্ক্রিয় করে।
গোবিন্দগঞ্জের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো যুদ্ধকালীন সময়ের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্থানীয়দের সতর্কতা, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সেনাবাহিনীর দক্ষতায় একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা সফলভাবে এড়ানো গেছে।

আপনার মতামত লিখুন