দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০২৪

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

নারায়ণগঞ্জে তৈরি বিয়ের গাউন যাচ্ছে ইউরোপ–আমেরিকায়, বছরে রপ্তানি ৫০ লাখ ডলারের বেশি

শেরপুরে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই শিশুর মরদেহ

শেখ মোহাম্মদ মাজেদুল হক যিনি -মাজেদুল হক নামে অধিক পরিচিত "বিরহী কবি" উপাধিতে সমধিক খ্যাত ও সমাদৃত।

মহাখালী সাততলা ফাঁড়িতে অপকর্মের পাহাড়: পোশাকের আড়ালে ‘অসীম-গং’-এর মাদক ও ফিটিং বাণিজ্য!

চার সাংবাদিকের স্মরণে খিলক্ষেত প্রেস ক্লাবে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

নাসিরনগরে হাডুডু খেলা শেষে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১২–১৫ জন; পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ

উজানচর কংশ নারায়ণ উচ্চবিদ্যালয়ে মরণোত্তর সম্মাননা ও শিক্ষক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত।

লক্ষ্মীপুরে প্রতীকী প্রতিবাদে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, হাতে শিকল নিয়ে মিছিল

লক্ষ্মীপুরে প্রতীকী প্রতিবাদে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, হাতে শিকল নিয়ে মিছিল
-ছবি: সংগৃহীত

রামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: শিকল হাতে প্রতীকী প্রতিবাদে উত্তাল শহর

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচি ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। হাতে শিকল বেঁধে এবং স্লোগান দিয়ে তারা গুম-খুন, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার বিচার দাবি করে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রামগঞ্জ পৌর শহরের সিটি প্লাজার সামনে থেকে এই মিছিল শুরু হয়। শতাধিক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী এতে অংশ নেন।

মিছিলের শুরু থেকেই উত্তপ্ত স্লোগান

মিছিল শুরু হতেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে এলাকা মুখর করে তোলে। তাদের হাতে থাকা ফেস্টুনে লেখা ছিল—
“আমার ভাই মরলো কেন, বিচার চাই বিচার চাই”, “জেগেছে রে ছাত্র সমাজ জেগেছে”, “রক্তে আগুন লেগেছে”, “আমার ভাইদের মারলি কেন বিচার চাই” ইত্যাদি।

এই স্লোগানগুলো পুরো মিছিলজুড়ে এক ধরনের প্রতিবাদী পরিবেশ তৈরি করে, যা পথচারী ও স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 শিকল হাতে প্রতীকী প্রতিবাদ

এই কর্মসূচির সবচেয়ে নজরকাড়া দিক ছিল শিক্ষার্থীদের গলায় ও হাতে শিকল বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ করা। তারা এটিকে দমন-পীড়নের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন।

আন্দোলনকারীদের মতে, এটি তাদের স্বাধীন মত প্রকাশ ও অধিকার আদায়ের পথে বাধা ও নির্যাতনের প্রতিচ্ছবি।

শহরজুড়ে মিছিল ও সমাবেশ

মিছিলটি রামগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এটি লক্ষ্মীপুর-হাজীগঞ্জ সড়কের পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

দাবি ও অবস্থান

আন্দোলনকারীরা জানান, তারা শুধু একটি ঘটনার প্রতিবাদ নয়, বরং একটি বৃহত্তর ন্যায্যতার দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের ওপর হামলা ও মামলার সঠিক তদন্ত
  • গুম-খুনের ঘটনার বিচার
  • শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ
  • এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন

তারা জাতিসংঘের মাধ্যমে এসব ঘটনার তদন্তের দাবিও জানান।

পুলিশের অবস্থান

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করেছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে ছিল।

পটভূমি: ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কী

‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ মূলত কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠা একটি স্মরণমূলক ও প্রতিবাদী কর্মসূচি। এতে আন্দোলনের সময় নিহত বা ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণ করা হয় এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবি তোলা হয়।

বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এমন প্রতীকী কর্মসূচি নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে শিকল, দেয়াল লিখন, মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে তারা প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে।

শেষ কথা

রামগঞ্জের এই কর্মসূচি আবারও দেখিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুলে ধরতে শান্তিপূর্ণ কিন্তু প্রতীকী শক্তিশালী ভাষা ব্যবহার করছে। শিকল হাতে মিছিল থেকে শুরু করে স্লোগান—সব মিলিয়ে এটি ছিল এক ধরনের প্রতিবাদের প্রকাশ।

সবশেষে, প্রশাসনের শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি শেষ হলেও, শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রশ্নগুলো এখনো থেকে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার ও তদন্তের দাবি কতটা এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


লক্ষ্মীপুরে প্রতীকী প্রতিবাদে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, হাতে শিকল নিয়ে মিছিল

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

রামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: শিকল হাতে প্রতীকী প্রতিবাদে উত্তাল শহর

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচি ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। হাতে শিকল বেঁধে এবং স্লোগান দিয়ে তারা গুম-খুন, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার বিচার দাবি করে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রামগঞ্জ পৌর শহরের সিটি প্লাজার সামনে থেকে এই মিছিল শুরু হয়। শতাধিক শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী এতে অংশ নেন।

মিছিলের শুরু থেকেই উত্তপ্ত স্লোগান

মিছিল শুরু হতেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে এলাকা মুখর করে তোলে। তাদের হাতে থাকা ফেস্টুনে লেখা ছিল—
“আমার ভাই মরলো কেন, বিচার চাই বিচার চাই”, “জেগেছে রে ছাত্র সমাজ জেগেছে”, “রক্তে আগুন লেগেছে”, “আমার ভাইদের মারলি কেন বিচার চাই” ইত্যাদি।

এই স্লোগানগুলো পুরো মিছিলজুড়ে এক ধরনের প্রতিবাদী পরিবেশ তৈরি করে, যা পথচারী ও স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 শিকল হাতে প্রতীকী প্রতিবাদ

এই কর্মসূচির সবচেয়ে নজরকাড়া দিক ছিল শিক্ষার্থীদের গলায় ও হাতে শিকল বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ করা। তারা এটিকে দমন-পীড়নের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন।

আন্দোলনকারীদের মতে, এটি তাদের স্বাধীন মত প্রকাশ ও অধিকার আদায়ের পথে বাধা ও নির্যাতনের প্রতিচ্ছবি।

শহরজুড়ে মিছিল ও সমাবেশ

মিছিলটি রামগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এটি লক্ষ্মীপুর-হাজীগঞ্জ সড়কের পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

দাবি ও অবস্থান

আন্দোলনকারীরা জানান, তারা শুধু একটি ঘটনার প্রতিবাদ নয়, বরং একটি বৃহত্তর ন্যায্যতার দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের ওপর হামলা ও মামলার সঠিক তদন্ত
  • গুম-খুনের ঘটনার বিচার
  • শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ
  • এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন

তারা জাতিসংঘের মাধ্যমে এসব ঘটনার তদন্তের দাবিও জানান।

পুলিশের অবস্থান

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করেছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে ছিল।

পটভূমি: ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কী

‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ মূলত কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠা একটি স্মরণমূলক ও প্রতিবাদী কর্মসূচি। এতে আন্দোলনের সময় নিহত বা ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণ করা হয় এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবি তোলা হয়।

বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এমন প্রতীকী কর্মসূচি নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে শিকল, দেয়াল লিখন, মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে তারা প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে।

শেষ কথা

রামগঞ্জের এই কর্মসূচি আবারও দেখিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুলে ধরতে শান্তিপূর্ণ কিন্তু প্রতীকী শক্তিশালী ভাষা ব্যবহার করছে। শিকল হাতে মিছিল থেকে শুরু করে স্লোগান—সব মিলিয়ে এটি ছিল এক ধরনের প্রতিবাদের প্রকাশ।

সবশেষে, প্রশাসনের শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি শেষ হলেও, শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রশ্নগুলো এখনো থেকে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার ও তদন্তের দাবি কতটা এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর