বগুড়ায় আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে একটি কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। গান, প্ল্যাকার্ড ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে ‘রিমেমবারিং আওয়ার হিরোস’ নামে এই আয়োজনটি করা হয়, যা শহরের সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে হাতে প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা নিয়ে অংশ নেন এই আয়োজনে।
কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন। এরপর তারা কলেজের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন দেয়ালে। এই সময় পুরো এলাকা এক ধরনের নীরব কিন্তু আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ছিল শান্তিপূর্ণ, তবে দৃঢ়। তারা বলেন, আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের স্মরণ করা এবং ন্যায্য বিচার দাবি করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী নূরা জেরিন বলেন, আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়েছে। তার মতে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি—এই ঘটনার সঠিক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে বর্তমান শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, শিক্ষকরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে যখন শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করছে, তখন অনেকেই পাশে নেই। তিনি শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ন্যায্য বিচার, নিরাপত্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি।
কর্মসূচি চলাকালে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। তবে তারা কোনো ধরনের বাধা দেননি। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামান জানান, শিক্ষার্থীরা কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করেছে।
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ দীর্ঘদিনের ইতিহাস বহন করে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবিতে শিক্ষার্থীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান হয়েছে। অনেক সময় তারা গান, দেয়াল লিখন, মানববন্ধন ও প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করে থাকে।
‘রিমেমবারিং আওয়ার হিরোস’ ধরনের কর্মসূচি মূলত একটি স্মরণমূলক প্রতিবাদ, যেখানে নিহত বা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবি তোলা হয়।
বগুড়ার এই কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ, কিন্তু আবেগে ভরা। গান ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে—নিহতদের স্মরণ এবং ন্যায়বিচারের দাবি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবাদের এক শান্তিপূর্ণ প্রকাশ। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগগুলো আরও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪
বগুড়ায় আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে একটি কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। গান, প্ল্যাকার্ড ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে ‘রিমেমবারিং আওয়ার হিরোস’ নামে এই আয়োজনটি করা হয়, যা শহরের সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে হাতে প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা নিয়ে অংশ নেন এই আয়োজনে।
কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন। এরপর তারা কলেজের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন দেয়ালে। এই সময় পুরো এলাকা এক ধরনের নীরব কিন্তু আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ছিল শান্তিপূর্ণ, তবে দৃঢ়। তারা বলেন, আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের স্মরণ করা এবং ন্যায্য বিচার দাবি করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী নূরা জেরিন বলেন, আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়েছে। তার মতে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি—এই ঘটনার সঠিক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে বর্তমান শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, শিক্ষকরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে যখন শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করছে, তখন অনেকেই পাশে নেই। তিনি শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ন্যায্য বিচার, নিরাপত্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি।
কর্মসূচি চলাকালে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। তবে তারা কোনো ধরনের বাধা দেননি। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামান জানান, শিক্ষার্থীরা কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ করেছে।
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ দীর্ঘদিনের ইতিহাস বহন করে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবিতে শিক্ষার্থীরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরও দৃশ্যমান হয়েছে। অনেক সময় তারা গান, দেয়াল লিখন, মানববন্ধন ও প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করে থাকে।
‘রিমেমবারিং আওয়ার হিরোস’ ধরনের কর্মসূচি মূলত একটি স্মরণমূলক প্রতিবাদ, যেখানে নিহত বা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবি তোলা হয়।
বগুড়ার এই কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ, কিন্তু আবেগে ভরা। গান ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে—নিহতদের স্মরণ এবং ন্যায়বিচারের দাবি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবাদের এক শান্তিপূর্ণ প্রকাশ। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগগুলো আরও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

আপনার মতামত লিখুন