দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

২৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান উদ্ধার, কী ঘটেছিল এই সময়ে?

রাঙ্গুনিয়ায় ওমানে নিহত ৪ ভাইকে পাশাপাশি দাফন, জানাজা পড়ালেন একমাত্র জীবিত ভাই

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, আইসিইউ রোগীর মৃত্যু; আহত ৫

ডিএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা: ঢাকায় ‘মব’ ও গণপিটুনি বরদাশত নয়, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বজনদের সংঘর্ষ, দুই যুবককে আটকে রাখার অভিযোগ

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: স্বামীকে পালাতে সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার স্ত্রী স্বপ্না

মিরপুরে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে হত্যা: ওয়াশরুমে মিলল নিথর দেহ, ক্ষোভে উত্তাল এলাকা

‘নীরব মহামারি’ তাপপ্রবাহ: প্রতিদিন বাড়ছে ঝুঁকি, বিপর্যস্ত জনজীবন

‘নীরব মহামারি’ তাপপ্রবাহ: প্রতিদিন বাড়ছে ঝুঁকি, বিপর্যস্ত জনজীবন
-ছবি: সংগৃহীত

ঝড় বা বন্যার মতো হঠাৎ তাণ্ডব নয়—ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে বিস্তার লাভ করছে এক গভীর সংকট। নাম তার তাপপ্রবাহ। প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাড়তে থাকা এই তাপই এখন মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও জীবিকার ওপর নীরব চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি।

এপ্রিল থেকেই তাপপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট

চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক জেলায় ইতোমধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, পুরো মাসজুড়ে দফায় দফায় এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, এমনকি এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহও আঘাত হানতে পারে।

তাপমাত্রার ভিত্তিতে তাপপ্রবাহকে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়—
মৃদু (৩৬–৩৭.৯°সে), মাঝারি (৩৮–৩৯.৯°সে), তীব্র (৪০–৪১.৯°সে) এবং অতি তীব্র (৪২°সে বা তার বেশি)। ইতোমধ্যে রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই তাপমাত্রার প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে।


জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়ছে বড় ঝুঁকি

তাপপ্রবাহ এখন আর শুধু আবহাওয়ার বিষয় নয়; এটি পরিণত হয়েছে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে—বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত ২৪ জন তাপজনিত কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

শহরভেদে এই ঝুঁকির মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় প্রতি লাখে প্রায় ৩৬ জন, ঢাকায় ২২ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন মানুষের তাপজনিত মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বলেন, “তাপপ্রবাহকে আমরা এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছি না। কিন্তু এটি ধীরে ধীরে একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।”

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শ্রমজীবী মানুষ

তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষরা। নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিকসহ দিনমজুর শ্রেণির মানুষ দীর্ঘ সময় প্রখর রোদে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এর ফলে শরীরে পানিশূন্যতা, লবণের ভারসাম্যহীনতা, হিটস্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থতা দেখা দিলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বা সচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে শহরের বস্তি এলাকাগুলোর বাসিন্দারা আরও বেশি সংকটে রয়েছেন। ঘনবসতি, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব এবং নিরাপদ পানির সংকট তাদের জন্য তাপপ্রবাহকে আরও মারাত্মক করে তুলছে।

বাড়ছে বিভিন্ন রোগ ও জটিলতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং হৃদরোগজনিত জটিলতা বাড়ছে। এছাড়া পরোক্ষভাবে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং দারিদ্র্যও বাড়ছে।

একজন চিকিৎসক জানান, “গরমে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে শুধু তাৎক্ষণিক অসুস্থতাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক দুর্বলতা ও নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।”

সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তারা কয়েকটি জরুরি উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন—

  • আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা
  • নগর এলাকায় সবুজায়ন বৃদ্ধি
  • কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ও সন্ধ্যায় কাজ করা
  • বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা
  • কর্মক্ষেত্রে ছায়া ও বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা
  • হাসপাতালগুলোতে তাপজনিত রোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, ছাদে সবুজায়ন, প্রতিফলক উপকরণ ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

অর্থনীতি ও সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব

তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের অর্থনীতি ও সমাজেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত গরমে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে।


একই সঙ্গে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

‘নীরব মহামারি’র সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহ এক ধরনের “নীরব মহামারি”—যার প্রভাব ধীরে ধীরে প্রকাশ পেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর। প্রতিটি অতিরিক্ত ডিগ্রি তাপমাত্রা মানে নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রাণহানি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপসংহার

জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনকার বাস্তবতা। তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজন সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার, প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এই অদৃশ্য সংকট মোকাবিলা করতে। অন্যথায়, এই নীরব তাপপ্রবাহই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ।


বিষয় : তাপপ্রবাহ বাংলাদেশ হিটস্ট্রোক ঝুঁকি জলবায়ু পরিবর্তন গরমে অসুস্থতা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


‘নীরব মহামারি’ তাপপ্রবাহ: প্রতিদিন বাড়ছে ঝুঁকি, বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঝড় বা বন্যার মতো হঠাৎ তাণ্ডব নয়—ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে বিস্তার লাভ করছে এক গভীর সংকট। নাম তার তাপপ্রবাহ। প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাড়তে থাকা এই তাপই এখন মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও জীবিকার ওপর নীরব চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি।

এপ্রিল থেকেই তাপপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট

চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক জেলায় ইতোমধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, পুরো মাসজুড়ে দফায় দফায় এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, এমনকি এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহও আঘাত হানতে পারে।

তাপমাত্রার ভিত্তিতে তাপপ্রবাহকে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়—
মৃদু (৩৬–৩৭.৯°সে), মাঝারি (৩৮–৩৯.৯°সে), তীব্র (৪০–৪১.৯°সে) এবং অতি তীব্র (৪২°সে বা তার বেশি)। ইতোমধ্যে রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই তাপমাত্রার প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে।


জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়ছে বড় ঝুঁকি

তাপপ্রবাহ এখন আর শুধু আবহাওয়ার বিষয় নয়; এটি পরিণত হয়েছে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে—বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত ২৪ জন তাপজনিত কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

শহরভেদে এই ঝুঁকির মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় প্রতি লাখে প্রায় ৩৬ জন, ঢাকায় ২২ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন মানুষের তাপজনিত মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বলেন, “তাপপ্রবাহকে আমরা এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছি না। কিন্তু এটি ধীরে ধীরে একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।”

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শ্রমজীবী মানুষ

তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষরা। নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিকসহ দিনমজুর শ্রেণির মানুষ দীর্ঘ সময় প্রখর রোদে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এর ফলে শরীরে পানিশূন্যতা, লবণের ভারসাম্যহীনতা, হিটস্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থতা দেখা দিলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বা সচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে শহরের বস্তি এলাকাগুলোর বাসিন্দারা আরও বেশি সংকটে রয়েছেন। ঘনবসতি, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব এবং নিরাপদ পানির সংকট তাদের জন্য তাপপ্রবাহকে আরও মারাত্মক করে তুলছে।

বাড়ছে বিভিন্ন রোগ ও জটিলতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং হৃদরোগজনিত জটিলতা বাড়ছে। এছাড়া পরোক্ষভাবে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং দারিদ্র্যও বাড়ছে।

একজন চিকিৎসক জানান, “গরমে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে শুধু তাৎক্ষণিক অসুস্থতাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক দুর্বলতা ও নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।”

সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তারা কয়েকটি জরুরি উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন—

  • আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা
  • নগর এলাকায় সবুজায়ন বৃদ্ধি
  • কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ও সন্ধ্যায় কাজ করা
  • বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা
  • কর্মক্ষেত্রে ছায়া ও বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা
  • হাসপাতালগুলোতে তাপজনিত রোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, ছাদে সবুজায়ন, প্রতিফলক উপকরণ ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

অর্থনীতি ও সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব

তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের অর্থনীতি ও সমাজেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত গরমে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে।


একই সঙ্গে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

‘নীরব মহামারি’র সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহ এক ধরনের “নীরব মহামারি”—যার প্রভাব ধীরে ধীরে প্রকাশ পেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর। প্রতিটি অতিরিক্ত ডিগ্রি তাপমাত্রা মানে নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রাণহানি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপসংহার

জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনকার বাস্তবতা। তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজন সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার, প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এই অদৃশ্য সংকট মোকাবিলা করতে। অন্যথায়, এই নীরব তাপপ্রবাহই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ।



দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর