দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০২৪

চাচা-ভাতিজির অনৈতিক সম্পর্কে ভাতিজির বিবাহ বিচ্ছেদ, এলাকায় তোলপাড়

চাচা-ভাতিজির অনৈতিক সম্পর্কে ভাতিজির বিবাহ বিচ্ছেদ, এলাকায় তোলপাড়

নূরুল আনোয়ার ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি দখল ও অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য

কটিয়াদীতে কৃষক হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার রক্তমাখা ছুরি

নওগাঁয় বজ্রপাতে নিহতের কবর পাহারা দিচ্ছেন স্বজনরা, লাশ চুরির আশঙ্কায় রাতভর নজরদারি

বাঞ্ছারামপুর থানা হোগলাকান্দি গ্রামে টেকসই সড়ক ও ড্রেন পেয়ে আনন্দিত সর্বস্তরের গ্রামবাসী...

বাঞ্ছারামপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল, নাশকতা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি

বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: মেঘালয়ের রেকর্ড বৃষ্টিতে সিলেট-সুনামগঞ্জসহ ৬ জেলায় প্লাবনের শঙ্কা

মোহাম্মদপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, কলেজগেট এলাকা থেকে ১০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

খুলনায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ১৪

খুলনায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ১৪
-ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করে।

পুলিশ জানায়, দুটি মামলায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকালে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়—রয়েল মোড়, সাত রাস্তা মোড়, ময়লাপোতা মোড়সহ একাধিক স্থানে জড়ো হন। তারা সেখানে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়ক অবরোধ করেন।

পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এ সময় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সংঘর্ষ চলতে থাকে বিকেল পর্যন্ত। এ সময় ময়লাপোতা মোড়, শেরে বাংলা রোড, সাতরাস্তা মোড়, রয়েল মোড়সহ একাধিক এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ঘটনায় প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের অধিকাংশকে অভিভাবক ও শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের ১৪ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রাকিবুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের মধ্যে কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটক অনেক শিক্ষার্থীকে পরে মানবিক বিবেচনায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বারবার এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে অফিস ফেরত মানুষ ও জরুরি কাজে বের হওয়া নাগরিকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন সহিংসতা না ঘটে সে বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে খুলনার এই ঘটনার পর শহরে এখনো এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


খুলনায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ১৪

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৪

featured Image

খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করে।

পুলিশ জানায়, দুটি মামলায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকালে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়—রয়েল মোড়, সাত রাস্তা মোড়, ময়লাপোতা মোড়সহ একাধিক স্থানে জড়ো হন। তারা সেখানে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়ক অবরোধ করেন।

পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এ সময় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সংঘর্ষ চলতে থাকে বিকেল পর্যন্ত। এ সময় ময়লাপোতা মোড়, শেরে বাংলা রোড, সাতরাস্তা মোড়, রয়েল মোড়সহ একাধিক এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ঘটনায় প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের অধিকাংশকে অভিভাবক ও শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের ১৪ জনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রাকিবুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের মধ্যে কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটক অনেক শিক্ষার্থীকে পরে মানবিক বিবেচনায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বারবার এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে অফিস ফেরত মানুষ ও জরুরি কাজে বের হওয়া নাগরিকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন সহিংসতা না ঘটে সে বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে খুলনার এই ঘটনার পর শহরে এখনো এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর