দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

পানিবণ্টনে ভারতের কাছে ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পানিবণ্টনে ভারতের কাছে ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বায়রার অনুমোদনের অপেক্ষা, উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুরের প্রথম ইউনিট

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুর সিটির উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প অনুমোদন

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস

সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ, ৩০ দিনের মধ্যে সরানোর সময়

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা, উঠছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প

রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ইরানের আকাশে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু: উদ্ধার অভিযানে মুখোমুখি উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান!

ইরানের আকাশে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু: উদ্ধার অভিযানে মুখোমুখি উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান!
-ছবি: সংগৃহীত

ইরানের আকাশে বিধ্বস্ত এক মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। ঘটনাটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতায়, যেখানে উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ওই ক্রুকে খুঁজে বের করার জন্য।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মার্কিন উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। একইসঙ্গে ইরানও তাদের নিজস্ব তৎপরতা বাড়িয়েছে, ফলে পুরো ঘটনাটি ক্রমেই জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

মার্কিন কূটনীতিক ও সামরিক কৌশলবিদ James Jeffrey বলেন,
“আমার জানা মতে, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিক উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি।”
তিনি পূর্বে সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাধারণত এ ধরনের উচ্চঝুঁকির উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত হয় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হেলিকপ্টার, সঙ্গে থাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং আকাশপথে সুরক্ষার জন্য যুদ্ধবিমান।

শুক্রবার ইরান থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে Khuzestan Province-এর আকাশে এমন একটি জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনার দৃশ্য দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযানে যুক্ত থাকেন মার্কিন বিমানবাহিনীর এলিট স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের সদস্যরা। এরা Delta Force বা Navy SEALs-এর মতো উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীর সমতুল্য।

তারা শুধু যুদ্ধ নয়, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিতেও পারদর্শী।

জেমস জেফরি বলেন,
“যতক্ষণ সামান্যতম সম্ভাবনাও থাকে, তারা কোনো পাইলটকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত হাল ছাড়ে না।”

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক Jennifer Kavanagh জানিয়েছেন, শত্রু এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত হলে পাইলট ও ক্রুদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া থাকে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।

তিনি বলেন,
“তাদের প্রথম লক্ষ্য থাকে বেঁচে থাকা এবং শত্রুর হাতে ধরা পড়া এড়িয়ে চলা।”

যদি তারা শারীরিকভাবে সক্ষম থাকেন, তবে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে গিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়াই তাদের প্রধান কৌশল। পাশাপাশি তাদের এমনভাবে লুকিয়ে থাকতে হয় যাতে সহজে শনাক্ত না করা যায়।

এই ধরনের প্রশিক্ষণে ক্রুদের শেখানো হয় কীভাবে সীমিত সম্পদ নিয়েও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে হয়। তারা স্থানীয় পরিবেশ থেকে খাবার ও পানির উৎস খুঁজে নিতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় না খেয়েও বেঁচে থাকার কৌশল জানেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি উদ্ধার অভিযান নয়—এটি এখন দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনার নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।

কে আগে নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে পাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আর সেই উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির দিকনির্দেশ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ইরানের আকাশে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু: উদ্ধার অভিযানে মুখোমুখি উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান!

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের আকাশে বিধ্বস্ত এক মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। ঘটনাটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতায়, যেখানে উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ওই ক্রুকে খুঁজে বের করার জন্য।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মার্কিন উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। একইসঙ্গে ইরানও তাদের নিজস্ব তৎপরতা বাড়িয়েছে, ফলে পুরো ঘটনাটি ক্রমেই জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

মার্কিন কূটনীতিক ও সামরিক কৌশলবিদ James Jeffrey বলেন,
“আমার জানা মতে, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিক উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি।”
তিনি পূর্বে সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাধারণত এ ধরনের উচ্চঝুঁকির উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত হয় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হেলিকপ্টার, সঙ্গে থাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং আকাশপথে সুরক্ষার জন্য যুদ্ধবিমান।

শুক্রবার ইরান থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে Khuzestan Province-এর আকাশে এমন একটি জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনার দৃশ্য দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযানে যুক্ত থাকেন মার্কিন বিমানবাহিনীর এলিট স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের সদস্যরা। এরা Delta Force বা Navy SEALs-এর মতো উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীর সমতুল্য।

তারা শুধু যুদ্ধ নয়, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিতেও পারদর্শী।

জেমস জেফরি বলেন,
“যতক্ষণ সামান্যতম সম্ভাবনাও থাকে, তারা কোনো পাইলটকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত হাল ছাড়ে না।”

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক Jennifer Kavanagh জানিয়েছেন, শত্রু এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত হলে পাইলট ও ক্রুদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া থাকে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।

তিনি বলেন,
“তাদের প্রথম লক্ষ্য থাকে বেঁচে থাকা এবং শত্রুর হাতে ধরা পড়া এড়িয়ে চলা।”

যদি তারা শারীরিকভাবে সক্ষম থাকেন, তবে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে গিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়াই তাদের প্রধান কৌশল। পাশাপাশি তাদের এমনভাবে লুকিয়ে থাকতে হয় যাতে সহজে শনাক্ত না করা যায়।

এই ধরনের প্রশিক্ষণে ক্রুদের শেখানো হয় কীভাবে সীমিত সম্পদ নিয়েও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে হয়। তারা স্থানীয় পরিবেশ থেকে খাবার ও পানির উৎস খুঁজে নিতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় না খেয়েও বেঁচে থাকার কৌশল জানেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি উদ্ধার অভিযান নয়—এটি এখন দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনার নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।

কে আগে নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে পাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আর সেই উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির দিকনির্দেশ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর