দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড

ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড

ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মুরাদনগর হাসপাতালে ৫ চিকিৎসক অনুপস্থিত, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সড়কে থামছে না মৃত্যু: ১৩ বছরে নিহত ১ লাখ ২৫ হাজার, ঢাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে পথচারীরা

১ নভেম্বর থেকে খাবারের দোকান-রেস্তোরাঁর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

সাড়ে ৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

ডিসেম্বরে প্রথমবার ইউএনও সম্মেলন, উন্নয়নের বাধা দূর করতে দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন, ইসির নতুন সিদ্ধান্ত

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তাপ ত্রয়োদশ সংসদে, অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তাপ ত্রয়োদশ সংসদে, অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা
-ফাইল ফটো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন এবং পৃথক অধিবেশন আহ্বানের দাবিকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে মতবিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংসদের ভেতর ও বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।

সংসদের প্রথম অধিবেশনেই হট্টগোল

গত বৃহস্পতিবার Bangladesh জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার সময় বিরোধী জোটের কিছু সদস্য হট্টগোল শুরু করেন।


পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠলে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। এতে পুরো অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

ওয়াকআউটের পর ব্যাখ্যার ঘোষণা

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টার আলোচনায় অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ওয়াকআউটের কারণ সংসদে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এমন উত্তেজনা ভবিষ্যতে সংসদীয় কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে।

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে বিতর্ক

রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টি। এই সনদ অনুযায়ী নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে বিরোধী জোট বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মিত্ররা তীব্র অবস্থান নিয়েছে।

তাদের দাবি, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে এবং সনদ অনুযায়ী প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

বিরোধী জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোট সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার যদি অধিবেশন আহ্বান না করে, তাহলে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।

তিনি আরও বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।”

এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আন্দোলনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরকারের অবস্থান: সংসদই সমাধানের জায়গা

অন্যদিকে সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সংবিধান সংশোধনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।

কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের অবস্থান হলো, সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সব ইস্যুর সমাধান করা।

একই সুরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, আলাদা অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয়তা নেই এবং সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা চলবে।

বিএনপির অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অবস্থান। দলটি বিষয়টিকে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় বলে জানা গেছে।

তাদের মতে, অতিরিক্ত চাপ বা আলাদা কাঠামো তৈরি না করে বিদ্যমান সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব সমাধান সম্ভব।


সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি

সংসদ সচিবালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ রবিবার বেলা ১১টায় মুলতবি অধিবেশন পুনরায় শুরু হচ্ছে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

এছাড়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে এই কমিটি কাজ করবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্যস্ত সংসদ

সংসদে এবার প্রশ্নোত্তর পর্বেও ব্যাপক ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং বিভিন্ন মন্ত্রীদের জন্য মোট ৪৬০টি প্রশ্ন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমও পূর্ণ গতিতে এগোতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষণ: সংঘাত নাকি সমঝোতা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দুই ধরনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে—একদিকে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংঘাত বাড়তে পারে, অন্যদিকে সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথও তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ তীব্র হলে রাজপথের আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

উপসংহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার ইস্যু এখন শুধু সংসদের বিষয় নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সব পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান সংসদের ভেতরেই আসবে, নাকি রাজপথে নতুন আন্দোলনের সূচনা হবে—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয় : সংবিধান সংস্কার ইস্যু বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন জুলাই জাতীয় সনদ বিতর্ক বাংলাদেশ রাজনৈতিক উত্তাপ 2026

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে উত্তাপ ত্রয়োদশ সংসদে, অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন এবং পৃথক অধিবেশন আহ্বানের দাবিকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে মতবিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংসদের ভেতর ও বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।

সংসদের প্রথম অধিবেশনেই হট্টগোল

গত বৃহস্পতিবার Bangladesh জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার সময় বিরোধী জোটের কিছু সদস্য হট্টগোল শুরু করেন।


পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠলে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। এতে পুরো অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

ওয়াকআউটের পর ব্যাখ্যার ঘোষণা

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টার আলোচনায় অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ওয়াকআউটের কারণ সংসদে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এমন উত্তেজনা ভবিষ্যতে সংসদীয় কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে।

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে বিতর্ক

রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টি। এই সনদ অনুযায়ী নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে বিরোধী জোট বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মিত্ররা তীব্র অবস্থান নিয়েছে।

তাদের দাবি, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে এবং সনদ অনুযায়ী প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

বিরোধী জোটের কঠোর হুঁশিয়ারি

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোট সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার যদি অধিবেশন আহ্বান না করে, তাহলে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।

তিনি আরও বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।”

এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আন্দোলনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরকারের অবস্থান: সংসদই সমাধানের জায়গা

অন্যদিকে সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সংবিধান সংশোধনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।

কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের অবস্থান হলো, সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সব ইস্যুর সমাধান করা।

একই সুরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, আলাদা অধিবেশন ডাকার প্রয়োজনীয়তা নেই এবং সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা চলবে।

বিএনপির অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অবস্থান। দলটি বিষয়টিকে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় বলে জানা গেছে।

তাদের মতে, অতিরিক্ত চাপ বা আলাদা কাঠামো তৈরি না করে বিদ্যমান সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব সমাধান সম্ভব।


সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি

সংসদ সচিবালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ রবিবার বেলা ১১টায় মুলতবি অধিবেশন পুনরায় শুরু হচ্ছে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

এছাড়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে এই কমিটি কাজ করবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্যস্ত সংসদ

সংসদে এবার প্রশ্নোত্তর পর্বেও ব্যাপক ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং বিভিন্ন মন্ত্রীদের জন্য মোট ৪৬০টি প্রশ্ন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমও পূর্ণ গতিতে এগোতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষণ: সংঘাত নাকি সমঝোতা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দুই ধরনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে—একদিকে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংঘাত বাড়তে পারে, অন্যদিকে সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথও তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ তীব্র হলে রাজপথের আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

উপসংহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার ইস্যু এখন শুধু সংসদের বিষয় নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সব পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান সংসদের ভেতরেই আসবে, নাকি রাজপথে নতুন আন্দোলনের সূচনা হবে—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর