দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

মিরপুরের কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট

মিরপুরের কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট

সাতক্ষীরায় কারাবন্দি সাবেক পিপি আব্দুল লতিফের মৃত্যু, হাসপাতালে নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস

বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-মেয়ে নিহত, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিল পরিবার

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮, একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ ঘোষণা, সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে উন্মুক্ত ২৬ ব্লক

অস্ট্রেলিয়ায় চার দিনের কর্মসপ্তাহে মিলল ইতিবাচক ফল, উৎপাদনশীলতা কমেনি কোনো প্রতিষ্ঠানে

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলায় শাকিল হোসেনের ফাঁসির রায়

টিএনটি-বিটিসিএল কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

টিএনটি-বিটিসিএল কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
-ছবি: সংগৃহীত

গুলশান-বনানী-টিএন্ডটি-কড়াইল বস্তিতে চাঁদাবাজির দাপট: ক্ষমতা বদলেছে, দখলদার বদলায়নি

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, টিএন্ডটি কলোনি এবং কড়াইল বস্তি—এই পুরো অঞ্চলে গত ১৬ বছর ধরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তারা মার্কেট বসিয়ে চাঁদাবাজি, ঘর দখল, ঘর কেনাবেচায় কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ খাতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।


সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ ভেবেছিল এই দৌরাত্ম্যের অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা এলাকা ছেড়ে গেলেও চাঁদাবাজি, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ বাণিজ্যের শিকল এখনো অটুট। বরং অভিযোগ উঠেছে—আগের মতোই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এসব সেবা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বস্তিবাসী।

স্থানীয় সূত্র বলছে, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ রাজনৈতিক ‘খোলস’ বদলেছেন। একসময় এক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তি এখন নতুন পরিচয়ে সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগেই তারা আবারও নিজেদের প্রভাব জাহির করছেন।


সরকারি চাকরি, কিন্তু বাণিজ্যে দাপট!অভিযোগের তীর এখন বিটিসিএল-এর এক সরকারি কর্মচারী মোঃ ইমান আলীর দিকে। তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড-এর কর্মকর্তা হয়েও এলাকায় গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিটিসিএল কলোনির পূর্বপাড়ায় নতুন বা পুরাতন যেকোনো ঘর নির্মাণ, সংস্কার কিংবা বিক্রি করতে হলে ‘হাদিয়া’ নামে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ আছে, সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। যদিও দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে আছেন—এমন তথ্য মেলেনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ না থাকলেও চাঁদাবাজির দৌড়ে তিনি এগিয়ে।


অবৈধ গ্যারেজ ও সংযোগ বাণিজ্য

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জায়গায় একাধিক গ্যারেজ গড়ে তুলে সেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অটো গাড়ি চার্জ করানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিটিসিএল-এর কর্মকর্তাদের ‘নাকের ডগায়’ এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অবৈধ গ্যাস সংযোগে ঝুঁকির মুখে জনজীবন

নীয় সূত্র জানায়, চিকন পাইপ দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নিয়ম-শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে গ্যাসের অবাধ ব্যবহার থেকে যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। অতীতে এমন ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও কার্যকর বিচার হয়নি—এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যদি কেউ প্রকাশ্যে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তা শুধু ব্যক্তি নয়—পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্থানীয়দের সরাসরি প্রশ্ন—

ইমান আলী কি আইনের ঊর্ধ্বে?

কেন তার বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

কেন ক্ষমতা বদলালেও বস্তিবাসীর ভাগ্য বদলায় না?

গোপন সূত্রে স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী জানিয়েছেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও ‘চাঁদার সিস্টেম’ একই আছে—শুধু সাইনবোর্ড বদলেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে যদি অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, গ্যাস-বিদ্যুৎ বাণিজ্য চলতেই থাকে, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায়? সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যদি কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নইলে প্রশ্ন থেকেই যাবে— আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা?


সূত্র: অপরাধ বিচিত্রা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


টিএনটি-বিটিসিএল কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গুলশান-বনানী-টিএন্ডটি-কড়াইল বস্তিতে চাঁদাবাজির দাপট: ক্ষমতা বদলেছে, দখলদার বদলায়নি

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, টিএন্ডটি কলোনি এবং কড়াইল বস্তি—এই পুরো অঞ্চলে গত ১৬ বছর ধরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তারা মার্কেট বসিয়ে চাঁদাবাজি, ঘর দখল, ঘর কেনাবেচায় কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ খাতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।


সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ ভেবেছিল এই দৌরাত্ম্যের অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা এলাকা ছেড়ে গেলেও চাঁদাবাজি, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ বাণিজ্যের শিকল এখনো অটুট। বরং অভিযোগ উঠেছে—আগের মতোই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এসব সেবা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বস্তিবাসী।

স্থানীয় সূত্র বলছে, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ রাজনৈতিক ‘খোলস’ বদলেছেন। একসময় এক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তি এখন নতুন পরিচয়ে সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগেই তারা আবারও নিজেদের প্রভাব জাহির করছেন।


সরকারি চাকরি, কিন্তু বাণিজ্যে দাপট!অভিযোগের তীর এখন বিটিসিএল-এর এক সরকারি কর্মচারী মোঃ ইমান আলীর দিকে। তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড-এর কর্মকর্তা হয়েও এলাকায় গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিটিসিএল কলোনির পূর্বপাড়ায় নতুন বা পুরাতন যেকোনো ঘর নির্মাণ, সংস্কার কিংবা বিক্রি করতে হলে ‘হাদিয়া’ নামে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ আছে, সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। যদিও দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে আছেন—এমন তথ্য মেলেনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ না থাকলেও চাঁদাবাজির দৌড়ে তিনি এগিয়ে।


অবৈধ গ্যারেজ ও সংযোগ বাণিজ্য

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জায়গায় একাধিক গ্যারেজ গড়ে তুলে সেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অটো গাড়ি চার্জ করানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিটিসিএল-এর কর্মকর্তাদের ‘নাকের ডগায়’ এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অবৈধ গ্যাস সংযোগে ঝুঁকির মুখে জনজীবন

নীয় সূত্র জানায়, চিকন পাইপ দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নিয়ম-শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে গ্যাসের অবাধ ব্যবহার থেকে যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। অতীতে এমন ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও কার্যকর বিচার হয়নি—এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যদি কেউ প্রকাশ্যে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তা শুধু ব্যক্তি নয়—পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্থানীয়দের সরাসরি প্রশ্ন—

ইমান আলী কি আইনের ঊর্ধ্বে?

কেন তার বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

কেন ক্ষমতা বদলালেও বস্তিবাসীর ভাগ্য বদলায় না?

গোপন সূত্রে স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী জানিয়েছেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও ‘চাঁদার সিস্টেম’ একই আছে—শুধু সাইনবোর্ড বদলেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে যদি অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি, গ্যাস-বিদ্যুৎ বাণিজ্য চলতেই থাকে, তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায়? সরকারি কর্মকর্তা হয়েও যদি কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নইলে প্রশ্ন থেকেই যাবে— আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা?


সূত্র: অপরাধ বিচিত্রা


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর