দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত উমর হায়াতের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাসহ ৫০ ভাষায় পৌঁছাবে হজের খুতবা, বহুভাষিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মক্কার হজ ব্যবস্থাপনা

তুরস্কে এক কিশোরের বন্দুক হামলা, নিহত ৪: আতঙ্কে তারসুস, চলছে ব্যাপক অভিযান

আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ

ত্রিশালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অবরুদ্ধ চিকিৎসক

নদীর মাছেও মিলছে প্লাস্টিক কণা, খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে ঢুকছে নীরব বিষ

উখিয়ায় বিজিবির দুই অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

গাজা যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে, দাবি ট্রাম্পের

গাজা যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে, দাবি ট্রাম্পের
গাজায় চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। -ছবি: সংগৃহীত

গাজায় চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের “চূড়ান্ত সমাপ্তি” দেখা যেতে পারে।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনারা এই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি দেখতে চলেছেন।”

তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ, গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা হামলা, খাদ্য সংকট এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।

মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, সেখানে ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

তার মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বারবার সতর্ক করে বলছে, গাজায় চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য সরবরাহ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নও আছে

তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

তাদের মতে, অতীতেও একাধিকবার যুদ্ধ বন্ধ বা সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও বাস্তবে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে বিপুল অস্ত্র সহায়তা দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে কঠোর অবস্থান না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এছাড়া স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্যোগের বিরুদ্ধেও ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নাসের হাসপাতালে হামলা ঘিরে ক্ষোভ

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলি হামলা আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক হামলায় গাজার নাসের হাসপাতালে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters এবং Al Jazeera-এর কর্মীরাও ছিলেন।

এই ঘটনার পর সাংবাদিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চাপ

গাজা যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে।

জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা বারবার যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন তারা।

এখন নজর কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের “দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ” হওয়ার মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে বাস্তবে যুদ্ধ কত দ্রুত শেষ হবে এবং কোনো স্থায়ী সমঝোতা সম্ভব হবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কেবল রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপই গাজা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

বিষয় : গাজা যুদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


গাজা যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে, দাবি ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৫

featured Image

গাজায় চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের “চূড়ান্ত সমাপ্তি” দেখা যেতে পারে।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনারা এই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি দেখতে চলেছেন।”

তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ, গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা হামলা, খাদ্য সংকট এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।

মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, সেখানে ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

তার মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বারবার সতর্ক করে বলছে, গাজায় চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য সরবরাহ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নও আছে

তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

তাদের মতে, অতীতেও একাধিকবার যুদ্ধ বন্ধ বা সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও বাস্তবে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে বিপুল অস্ত্র সহায়তা দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে কঠোর অবস্থান না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এছাড়া স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্যোগের বিরুদ্ধেও ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নাসের হাসপাতালে হামলা ঘিরে ক্ষোভ

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলি হামলা আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক হামলায় গাজার নাসের হাসপাতালে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters এবং Al Jazeera-এর কর্মীরাও ছিলেন।

এই ঘটনার পর সাংবাদিক নিরাপত্তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চাপ

গাজা যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে।

জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা বারবার যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন তারা।

এখন নজর কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের “দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ” হওয়ার মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে বাস্তবে যুদ্ধ কত দ্রুত শেষ হবে এবং কোনো স্থায়ী সমঝোতা সম্ভব হবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কেবল রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপই গাজা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর