নেত্রকোনায় বিএনপির জেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলটির একটি অংশ অভিযোগ করেছে, “পকেট কমিটি” গঠন করে প্রকৃত ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী নিজের আত্মীয়স্বজন ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যুক্ত করে কমিটি গঠন করেছেন।
তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর খসরু, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম এবং রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।
বক্তারা বলেন, বর্তমান কমিটি গঠনের পদ্ধতি স্বচ্ছ ছিল না এবং এতে যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
তারা আরও বলেন, এই ধরনের কমিটি সংগঠনের ঐক্য নষ্ট করতে পারে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে।
বক্তারা অবিলম্বে গঠিত কমিটি বাতিল করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানান।
তাদের মতে, একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে হলে ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি, অন্যথায় সংগঠনের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে নেত্রকোনায় বিএনপির কমিটি গঠনকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন