দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’, ওয়াল স্ট্রিটে বললেন প্রধানমন্ত্রী

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’, ওয়াল স্ট্রিটে বললেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ

পুলিশে নতুন সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট, শাখা থাকবে মেট্রো-জেলা পর্যায়ে

নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক

এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

আগামী জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে: ইসি আনোয়ারুল

‘বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত থাকুক’: তারেক রহমান

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক, প্রবাসী নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের শঙ্কা জানালেন তারেক রহমান

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’, ওয়াল স্ট্রিটে বললেন প্রধানমন্ত্রী

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’, ওয়াল স্ট্রিটে বললেন প্রধানমন্ত্রী
নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’ একই সঙ্গে তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক সফর করছেন তিনি।

রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের দায়িত্ব ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা, আর তাঁর দায়িত্ব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। দায়িত্ব আলাদা হলেও উভয়ের মূলনীতি সাফল্য নিশ্চিত করা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। ওয়াল স্ট্রিটের এই বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য দেশের সম্ভাবনা তুলে ধরতে চান।

বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস এবং দেশটির তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব মূলত উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। তবে এসবের বাইরে জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায়ও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবে কী হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়—এসব বিষয় বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতির মাধ্যমে এবং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের বদলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সংযোগ দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি হয়েছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করবেন এবং তাদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল—আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।’

বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে, তাদের কথা শুনতে এবং সম্ভব হলে বাধা দূর করতে সরকার প্রস্তুত।

বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতিগত ঘোষণা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাস্তবে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, মুনাফা প্রত্যাবাসন, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বিনিয়োগ ওয়াল স্ট্রিট বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত বাংলাদেশ বিনিয়োগ সুযোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’, ওয়াল স্ট্রিটে বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’ একই সঙ্গে তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক সফর করছেন তিনি।

রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের দায়িত্ব ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা, আর তাঁর দায়িত্ব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। দায়িত্ব আলাদা হলেও উভয়ের মূলনীতি সাফল্য নিশ্চিত করা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। ওয়াল স্ট্রিটের এই বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য দেশের সম্ভাবনা তুলে ধরতে চান।

বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস এবং দেশটির তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব মূলত উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। তবে এসবের বাইরে জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায়ও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশের ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবে কী হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়—এসব বিষয় বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতির মাধ্যমে এবং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের বদলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সংযোগ দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি হয়েছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করবেন এবং তাদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল—আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।’

বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে, তাদের কথা শুনতে এবং সম্ভব হলে বাধা দূর করতে সরকার প্রস্তুত।

বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতিগত ঘোষণা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাস্তবে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, মুনাফা প্রত্যাবাসন, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর