দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারের এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ১ লাখের বেশি প্রার্থী

সরকারের এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ১ লাখের বেশি প্রার্থী

১২ দিনে ২৮ লাখ ডাউনলোড, মেটার মিউজের দ্রুত উত্থান

বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে

রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান, ছড়াচ্ছে তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি

আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ বাজারে, জানা গেল মডেলগুলোর দাম

ফোল্ডেবল আইফোন এনে বড় ঝুঁকি নিল অ্যাপল

Google Pixel 11 সিরিজ আসছে ৪ মডেলে, থাকছে Tensor G6 ও Android 17

৯.৩৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার, বোল্টের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল চীনের হিউম্যানয়েড রোবট

সরকারের এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ১ লাখের বেশি প্রার্থী

সরকারের এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ১ লাখের বেশি প্রার্থী
দেশের ৬৪ জেলার কেন্দ্রে সরকারি এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এক লাখের বেশি প্রার্থী। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় তরুণদের এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের কথা রয়েছে। সেই হিসাবে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছেন।

তবে রাজধানী ঢাকায় প্রতিযোগিতার মাত্রা আরও বেশি। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ সেখানে প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী রয়েছেন।

পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার।

তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ, আসনব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটির আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।

প্রতিটি প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস। এতে মোট ৫০টি ক্লাসে ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আধুনিক বিভিন্ন এআই টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক দিক শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেই।

এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সময়ে তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবে কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করছেন এবং সেই দক্ষতা কর্মক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগছে, সেটিও প্রকল্পটির সাফল্য মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিষয় : যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এআই প্রশিক্ষণ সরকারি এআই প্রশিক্ষণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ এআই প্রশিক্ষণ পরীক্ষা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সরকারের এআই প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় ১ লাখের বেশি প্রার্থী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এক লাখের বেশি প্রার্থী। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় তরুণদের এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের কথা রয়েছে। সেই হিসাবে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছেন।

তবে রাজধানী ঢাকায় প্রতিযোগিতার মাত্রা আরও বেশি। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ সেখানে প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী রয়েছেন।

পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার।

তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ, আসনব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটির আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।

প্রতিটি প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস। এতে মোট ৫০টি ক্লাসে ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আধুনিক বিভিন্ন এআই টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক দিক শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেই।

এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সময়ে তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবে কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করছেন এবং সেই দক্ষতা কর্মক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগছে, সেটিও প্রকল্পটির সাফল্য মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর