নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজমা আক্তার নাজু (৩৫) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন নাজুকে হত্যার পর নদের পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জমির কীটনাশক কিনতে নুরুল আমিন নেত্রকোনা শহরে গেলে নাজু তাকে ফোন করেন। পরে বড়বাজার এলাকায় তাদের দেখা হয়।
সেখানে নাজু নুরুলের মোবাইল ফোন নিয়ে নিলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দেন।
পরে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় রাজুর বাজারে যান নুরুল। সেখান থেকে ভাড়া করা মোটরসাইকেলে তারা মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া ব্রিজ এলাকায় যান বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খাটপুড়া সেতুর কাছে আবারও নাজু ও নুরুলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
পরে তাকে কাঁধে করে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর মরদেহটি বাড়ির পাশে ঢুকিয়ালি নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি।
তবে এসব তথ্য পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর সত্যতা যাচাই হবে।
নাজু বাড়িতে ফিরে না আসায় ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে নুরুল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নুরুলের দেখানো স্থান থেকে নাজুর ব্যবহৃত ওড়না, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নদীর পাড়ে মাটি খুঁড়ে নাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাজু ও নুরুল আমিনের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর প্রায় আড়াই বছর আগে তাদের মধ্যে দুই দফা বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দেনমোহরের টাকা হিসেবে নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।
পরে নাজু নুরুলের বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা মীমাংসার জন্য তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে নাজমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্তে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য প্রমাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজমা আক্তার নাজু (৩৫) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন নাজুকে হত্যার পর নদের পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জমির কীটনাশক কিনতে নুরুল আমিন নেত্রকোনা শহরে গেলে নাজু তাকে ফোন করেন। পরে বড়বাজার এলাকায় তাদের দেখা হয়।
সেখানে নাজু নুরুলের মোবাইল ফোন নিয়ে নিলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দেন।
পরে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় রাজুর বাজারে যান নুরুল। সেখান থেকে ভাড়া করা মোটরসাইকেলে তারা মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপুড়া ব্রিজ এলাকায় যান বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খাটপুড়া সেতুর কাছে আবারও নাজু ও নুরুলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
পরে তাকে কাঁধে করে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর মরদেহটি বাড়ির পাশে ঢুকিয়ালি নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি।
তবে এসব তথ্য পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর সত্যতা যাচাই হবে।
নাজু বাড়িতে ফিরে না আসায় ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে নুরুল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নুরুলের দেখানো স্থান থেকে নাজুর ব্যবহৃত ওড়না, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নদীর পাড়ে মাটি খুঁড়ে নাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাজু ও নুরুল আমিনের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর প্রায় আড়াই বছর আগে তাদের মধ্যে দুই দফা বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দেনমোহরের টাকা হিসেবে নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।
পরে নাজু নুরুলের বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা মীমাংসার জন্য তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে নাজমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্তে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য প্রমাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন