ইসরায়েলকে জমি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রসিকতা করার একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তিনি বলেছেন, গোলান মালভূমি ইসরায়েলকে দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে ট্রাম্পকে তিনি বলেছিলেন—এতই যদি জমি দিতে চান, তাহলে নিউ জার্সি দিয়ে দিন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে এক আলোচনা সভায় ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে এ কথা বলেন আল-শারা।
আল-শারা জানান, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।
সেই সময় তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, ‘ইসরায়েলকে জমি দিতে আপনার যদি এতই আগ্রহ থাকে, তবে কেন আপনি তাদের নিউ জার্সি দিয়ে দিচ্ছেন না?’
আল-শারার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, নিউ জার্সি মূলত ডেমোক্র্যাটদের অধীনে এবং সেখানকার মানুষ ট্রাম্পকে ভোট দেয় না—তাই জায়গাটি ইসরায়েলকে দিয়ে দেওয়া ট্রাম্পের জন্য ভালো হতে পারে।
রসিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরলেও গোলান মালভূমির মালিকানা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘নিউ জার্সির মালিকানা হয়তো ট্রাম্পের থাকতে পারে, কিন্তু গোলান মালভূমির মালিকানা তার নেই।’
আল-শারা আরও বলেন, কৌতুক যাই হোক না কেন, গোলান মালভূমি সেখানকার জনগণের এবং সিরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্ট বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের এই ভূখণ্ড অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই।
আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেন আল-শারা। তিনি বলেন, ট্রাম্প সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশটিকে সমর্থন করেছেন।
সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করে আল-শারা বলেন, তিনি ট্রাম্পকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন এবং তার সঙ্গে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর গোলান মালভূমির বড় অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল ওই অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই পদক্ষেপকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। গোলান মালভূমির মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
অধিকাংশ দেশ অঞ্চলটিকে ইসরায়েলের দখলে থাকা সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোলান মালভূমি শুধু ভূখণ্ডগত বিরোধের বিষয় নয়; এটি সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাখ্যার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে আল-শারার বক্তব্যে রসিকতার অংশ থাকলেও এর পেছনে থাকা ভূখণ্ডের মালিকানা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের অংশ।
এখানে আল-শারার বক্তব্য তার নিজস্ব অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। গোলান মালভূমির মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পক্ষের অবস্থান এক নয়।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসরায়েলকে জমি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রসিকতা করার একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তিনি বলেছেন, গোলান মালভূমি ইসরায়েলকে দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে ট্রাম্পকে তিনি বলেছিলেন—এতই যদি জমি দিতে চান, তাহলে নিউ জার্সি দিয়ে দিন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে এক আলোচনা সভায় ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে এ কথা বলেন আল-শারা।
আল-শারা জানান, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।
সেই সময় তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, ‘ইসরায়েলকে জমি দিতে আপনার যদি এতই আগ্রহ থাকে, তবে কেন আপনি তাদের নিউ জার্সি দিয়ে দিচ্ছেন না?’
আল-শারার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, নিউ জার্সি মূলত ডেমোক্র্যাটদের অধীনে এবং সেখানকার মানুষ ট্রাম্পকে ভোট দেয় না—তাই জায়গাটি ইসরায়েলকে দিয়ে দেওয়া ট্রাম্পের জন্য ভালো হতে পারে।
রসিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরলেও গোলান মালভূমির মালিকানা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘নিউ জার্সির মালিকানা হয়তো ট্রাম্পের থাকতে পারে, কিন্তু গোলান মালভূমির মালিকানা তার নেই।’
আল-শারা আরও বলেন, কৌতুক যাই হোক না কেন, গোলান মালভূমি সেখানকার জনগণের এবং সিরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্ট বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের এই ভূখণ্ড অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই।
আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেন আল-শারা। তিনি বলেন, ট্রাম্প সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশটিকে সমর্থন করেছেন।
সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করে আল-শারা বলেন, তিনি ট্রাম্পকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন এবং তার সঙ্গে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর গোলান মালভূমির বড় অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল ওই অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই পদক্ষেপকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। গোলান মালভূমির মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
অধিকাংশ দেশ অঞ্চলটিকে ইসরায়েলের দখলে থাকা সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোলান মালভূমি শুধু ভূখণ্ডগত বিরোধের বিষয় নয়; এটি সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাখ্যার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে আল-শারার বক্তব্যে রসিকতার অংশ থাকলেও এর পেছনে থাকা ভূখণ্ডের মালিকানা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের অংশ।
এখানে আল-শারার বক্তব্য তার নিজস্ব অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। গোলান মালভূমির মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পক্ষের অবস্থান এক নয়।

আপনার মতামত লিখুন