রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। নিরাপদ পরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করে তাদের নিজভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন সেগুলো হলো—
প্রথমত, রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
পঞ্চমত, মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।
তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ দেশটি থেকে পালিয়ে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রতিবছর শিবিরগুলোতে হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে নতুন একটি প্রজন্মও যুক্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গা তরুণদের অনিশ্চয়তা এবং প্রবীণদের নিজভূমিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিবিরগুলোতে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি, যাতে ভবিষ্যতে তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
তবে শিবিরগুলো দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য আদর্শ স্থান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এর প্রভাব বহন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা থেকে মানবপাচার, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, একটি দেশে দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকা এই সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।
রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ জানান প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একইভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুধু বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের দায়ভার বহন করার প্রত্যাশাও করা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।
রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম ও নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে বলে বাংলাদেশ মনে করে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে এখনো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন শুধু সহমর্মিতা দেখানোর পরিবর্তে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। আমরা চাই, তারা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যাক।’
বাংলাদেশ মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, গাম্বিয়ার উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ বি. এস. জ্যালো, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। নিরাপদ পরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করে তাদের নিজভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন সেগুলো হলো—
প্রথমত, রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
পঞ্চমত, মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।
তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ দেশটি থেকে পালিয়ে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রতিবছর শিবিরগুলোতে হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে নতুন একটি প্রজন্মও যুক্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গা তরুণদের অনিশ্চয়তা এবং প্রবীণদের নিজভূমিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিবিরগুলোতে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি, যাতে ভবিষ্যতে তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
তবে শিবিরগুলো দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য আদর্শ স্থান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এর প্রভাব বহন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা থেকে মানবপাচার, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, একটি দেশে দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকা এই সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।
রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ জানান প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একইভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুধু বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের দায়ভার বহন করার প্রত্যাশাও করা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।
রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম ও নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে বলে বাংলাদেশ মনে করে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে এখনো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন শুধু সহমর্মিতা দেখানোর পরিবর্তে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। আমরা চাই, তারা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যাক।’
বাংলাদেশ মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, গাম্বিয়ার উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ বি. এস. জ্যালো, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।

আপনার মতামত লিখুন