লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে লা লিগায় দুর্দান্ত শুরু ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। প্রথম পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে ১৫ পয়েন্টে টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটি শুধু পয়েন্টেই এগিয়ে নেই, কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে গড়ে তুলছে একের পর এক রেকর্ডও।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচেই জয় পেয়েছে বার্সা। এই ছয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে তারা দিয়েছে ২৬ গোল। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে চার গোলের বেশি—আক্রমণভাগের ধার কতটা ভয়ংকর, সংখ্যাটিই তার বড় প্রমাণ।
তবে এমন জয়ের পরও পুরোপুরি খুশি নন ফ্লিক। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর বার্সেলোনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে দলকে আরও শান্ত থেকে খেলতে হবে।
লেভান্তের বিপক্ষে জয়টি ফ্লিকের জন্য শুধু তিন পয়েন্টের ম্যাচ ছিল না। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে লা লিগায় টেবিলের শীর্ষে থেকে ৬১টি ম্যাচডে শেষ করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
এই সংখ্যায় ফ্লিক পেছনে ফেলেছেন বার্সার সাবেক কোচ টেরি ভেনাবলসকে। ভেনাবলসের রেকর্ড ছিল ৬০ ম্যাচডে।
অর্থাৎ মাত্র দুই মৌসুমের মধ্যে ফ্লিক বার্সার কোচদের ঐতিহাসিক তালিকায় নিজের জায়গা আরও শক্ত করেছেন। সামনে এখন রিনাস মিচেলস—তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৬৩ ম্যাচডে।
ফ্লিকের সামনে থাকা রেকর্ড খুব বেশি দূরের নয়। রিনাস মিচেলসকে ছাড়িয়ে যেতে তাঁকে আর মাত্র তিন ম্যাচডে শীর্ষে থাকতে হবে।
তবে সবার ওপরে থাকা পেপ গার্দিওলার রেকর্ড এখনও বেশ দূরে। গার্দিওলার বার্সেলোনা লা লিগায় টেবিলের শীর্ষে থেকে শেষ করেছে ৮৭ ম্যাচডে।
ফ্লিকের বর্তমান গতিপথ ধরে রাখলে মিচেলসকে পেছনে ফেলা সময়ের ব্যাপার হতে পারে। কিন্তু গার্দিওলার ৮৭ ম্যাচডের রেকর্ড ছুঁতে হলে শুধু দুর্দান্ত শুরু নয়, দীর্ঘ সময় ধরে শিরোপা-লড়াইয়ে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
বার্সেলোনার এবারের শুরুটা সংখ্যার দিক থেকে অসাধারণ। প্রথম ছয় ম্যাচে ছয় জয় এবং ২৬ গোল—এমন আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু লেভান্তের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানের ম্যাচটি দেখিয়েছে, শুধু গোল করা নয়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও ফ্লিকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দলের ছন্দ নষ্ট হওয়া নিয়ে তাঁর অসন্তুষ্টি আসলে মৌসুমের বড় ছবির দিকেই ইঙ্গিত করে।
দীর্ঘ মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচে চার-পাঁচ গোল করা সম্ভব নয়। তাই ফ্লিকের জন্য বড় পরীক্ষা হবে—গোলের ধার কমে গেলেও বার্সেলোনা যেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে।
বার্সেলোনার সমর্থকদের কাছে টানা জয় ও গোলের উৎসব অবশ্যই স্বস্তির খবর। কিন্তু ফুটবলে মৌসুমের শুরু আর শেষের হিসাব এক নয়। এখন যে দল গোলের পর গোল করছে, সেটি চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিকে চাপের ম্যাচেও একইভাবে কার্যকর থাকে কি না—সেটিই বড় প্রশ্ন।
ফ্লিকের জন্য তাই লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচটি একই সঙ্গে সাফল্য ও সতর্কবার্তা। জয় এসেছে, রেকর্ড হয়েছে, গোলও হয়েছে; কিন্তু বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারানোর জায়গাটি ঠিক করতে না পারলে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার মূল্য দিতে হতে পারে।
ফ্লিকের সবচেয়ে বড় সাফল্য আপাতত শুধু ৬১ ম্যাচডের রেকর্ড নয়; বরং রেকর্ডের পাশাপাশি নিজের দলের দুর্বলতাও প্রকাশ্যে স্বীকার করা। ২৬ গোলের দুর্দান্ত পরিসংখ্যানের মধ্যেও কোচ যখন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি নিয়ে কথা বলেন, তখন বোঝা যায় তাঁর লক্ষ্য শুধু দর্শনীয় ফুটবল নয়—পুরো ৯০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
এখন দেখার বিষয়, এই সতর্কতাকে ফ্লিকের দল কত দ্রুত নিজেদের খেলায় পরিণত করতে পারে। কারণ রেকর্ড শুরুতে আলোচনায় আনে, কিন্তু দীর্ঘ মৌসুমে ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতায়।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লেভান্তেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে লা লিগায় দুর্দান্ত শুরু ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। প্রথম পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে ১৫ পয়েন্টে টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটি শুধু পয়েন্টেই এগিয়ে নেই, কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে গড়ে তুলছে একের পর এক রেকর্ডও।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচেই জয় পেয়েছে বার্সা। এই ছয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে তারা দিয়েছে ২৬ গোল। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে চার গোলের বেশি—আক্রমণভাগের ধার কতটা ভয়ংকর, সংখ্যাটিই তার বড় প্রমাণ।
তবে এমন জয়ের পরও পুরোপুরি খুশি নন ফ্লিক। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর বার্সেলোনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে দলকে আরও শান্ত থেকে খেলতে হবে।
লেভান্তের বিপক্ষে জয়টি ফ্লিকের জন্য শুধু তিন পয়েন্টের ম্যাচ ছিল না। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে লা লিগায় টেবিলের শীর্ষে থেকে ৬১টি ম্যাচডে শেষ করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
এই সংখ্যায় ফ্লিক পেছনে ফেলেছেন বার্সার সাবেক কোচ টেরি ভেনাবলসকে। ভেনাবলসের রেকর্ড ছিল ৬০ ম্যাচডে।
অর্থাৎ মাত্র দুই মৌসুমের মধ্যে ফ্লিক বার্সার কোচদের ঐতিহাসিক তালিকায় নিজের জায়গা আরও শক্ত করেছেন। সামনে এখন রিনাস মিচেলস—তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৬৩ ম্যাচডে।
ফ্লিকের সামনে থাকা রেকর্ড খুব বেশি দূরের নয়। রিনাস মিচেলসকে ছাড়িয়ে যেতে তাঁকে আর মাত্র তিন ম্যাচডে শীর্ষে থাকতে হবে।
তবে সবার ওপরে থাকা পেপ গার্দিওলার রেকর্ড এখনও বেশ দূরে। গার্দিওলার বার্সেলোনা লা লিগায় টেবিলের শীর্ষে থেকে শেষ করেছে ৮৭ ম্যাচডে।
ফ্লিকের বর্তমান গতিপথ ধরে রাখলে মিচেলসকে পেছনে ফেলা সময়ের ব্যাপার হতে পারে। কিন্তু গার্দিওলার ৮৭ ম্যাচডের রেকর্ড ছুঁতে হলে শুধু দুর্দান্ত শুরু নয়, দীর্ঘ সময় ধরে শিরোপা-লড়াইয়ে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
বার্সেলোনার এবারের শুরুটা সংখ্যার দিক থেকে অসাধারণ। প্রথম ছয় ম্যাচে ছয় জয় এবং ২৬ গোল—এমন আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু লেভান্তের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানের ম্যাচটি দেখিয়েছে, শুধু গোল করা নয়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও ফ্লিকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দলের ছন্দ নষ্ট হওয়া নিয়ে তাঁর অসন্তুষ্টি আসলে মৌসুমের বড় ছবির দিকেই ইঙ্গিত করে।
দীর্ঘ মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচে চার-পাঁচ গোল করা সম্ভব নয়। তাই ফ্লিকের জন্য বড় পরীক্ষা হবে—গোলের ধার কমে গেলেও বার্সেলোনা যেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে।
বার্সেলোনার সমর্থকদের কাছে টানা জয় ও গোলের উৎসব অবশ্যই স্বস্তির খবর। কিন্তু ফুটবলে মৌসুমের শুরু আর শেষের হিসাব এক নয়। এখন যে দল গোলের পর গোল করছে, সেটি চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিকে চাপের ম্যাচেও একইভাবে কার্যকর থাকে কি না—সেটিই বড় প্রশ্ন।
ফ্লিকের জন্য তাই লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচটি একই সঙ্গে সাফল্য ও সতর্কবার্তা। জয় এসেছে, রেকর্ড হয়েছে, গোলও হয়েছে; কিন্তু বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারানোর জায়গাটি ঠিক করতে না পারলে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার মূল্য দিতে হতে পারে।
ফ্লিকের সবচেয়ে বড় সাফল্য আপাতত শুধু ৬১ ম্যাচডের রেকর্ড নয়; বরং রেকর্ডের পাশাপাশি নিজের দলের দুর্বলতাও প্রকাশ্যে স্বীকার করা। ২৬ গোলের দুর্দান্ত পরিসংখ্যানের মধ্যেও কোচ যখন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি নিয়ে কথা বলেন, তখন বোঝা যায় তাঁর লক্ষ্য শুধু দর্শনীয় ফুটবল নয়—পুরো ৯০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
এখন দেখার বিষয়, এই সতর্কতাকে ফ্লিকের দল কত দ্রুত নিজেদের খেলায় পরিণত করতে পারে। কারণ রেকর্ড শুরুতে আলোচনায় আনে, কিন্তু দীর্ঘ মৌসুমে ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতায়।

আপনার মতামত লিখুন