দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জে গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে যান অভিযুক্ত শিক্ষক

নরসিংদীতে বাসে তল্লাশি, ১৪০ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক

মোহাম্মদপুরে নারী ও কিশোরসহ ১৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

টঙ্গীতে যৌথ অভিযানে ধরা পড়লো ৩ চিহ্নিত অপরাধী, অস্ত্র উদ্ধার

বনানীর ‘প্ল্যান বি’ বারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান

বগুড়ায় ২৮ মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশের ওপর হামলা

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি: লুণ্ঠিত মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২

শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১, গুরুতর আহত শিশু

শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১, গুরুতর আহত শিশু
চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু নিহত ও ১০ বছরের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় রেললাইনের ওপর থাকা এক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ বছর বয়সী রাহাত গুরুতর আহত হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কান্তি দে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রেললাইনের ওপর থাকা শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু নিহত হন। শিশুটিও আহত হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেন মিন্টু পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় এবং নিহত ব্যক্তি ও আহত শিশুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।

অন্যদিকে আহত রাহাতকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

রাহাত পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকার আব্দুল মালেকের বাসার মো. ফারুকের ছেলে।

রাহাতের বাবা মো. ফারুক জানান, জুমার নামাজের পর তার ছেলে ২০ টাকা নিয়ে চটপটি খেতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই ট্রেনের ধাক্কায় তার গুরুতর আহত হওয়ার খবর পান তারা।

ছেলের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফারুক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় তার ছেলে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কীভাবে শিশুটি রেললাইনে উঠেছিল এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাকে বাঁচাতে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন মিন্টু ট্রেনের সামনে পড়েন, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

রেললাইনের আশপাশে শিশুদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) নিহত হয়েছেন।
  • আহত শিশুটির বয়স ১০ বছর।
  • শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে মিন্টু নিহত হন বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্য।
  • আহত শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
  • নিহত মিন্টু পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন।

রেললাইন কোনোভাবেই চলাচল বা খেলার নিরাপদ জায়গা নয়। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকার রেললাইনের পাশে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের আরও সতর্ক থাকা জরুরি।

একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে একজন মানুষের প্রাণ হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে আহত শিশুটির দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, রেললাইনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে। যেসব এলাকায় মানুষের নিয়মিত চলাচল রয়েছে, সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, নজরদারি এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিষয় : পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় নিহত চট্টগ্রাম রেল দুর্ঘটনা ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং চট্টগ্রাম ট্রেন দুর্ঘটনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১, গুরুতর আহত শিশু

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় রেললাইনের ওপর থাকা এক শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ বছর বয়সী রাহাত গুরুতর আহত হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কান্তি দে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রেললাইনের ওপর থাকা শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু নিহত হন। শিশুটিও আহত হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেন মিন্টু পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় এবং নিহত ব্যক্তি ও আহত শিশুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।

অন্যদিকে আহত রাহাতকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

রাহাত পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকার আব্দুল মালেকের বাসার মো. ফারুকের ছেলে।

রাহাতের বাবা মো. ফারুক জানান, জুমার নামাজের পর তার ছেলে ২০ টাকা নিয়ে চটপটি খেতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই ট্রেনের ধাক্কায় তার গুরুতর আহত হওয়ার খবর পান তারা।

ছেলের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফারুক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় তার ছেলে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কীভাবে শিশুটি রেললাইনে উঠেছিল এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাকে বাঁচাতে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন মিন্টু ট্রেনের সামনে পড়েন, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

রেললাইনের আশপাশে শিশুদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • ট্রেনের ধাক্কায় দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) নিহত হয়েছেন।
  • আহত শিশুটির বয়স ১০ বছর।
  • শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে মিন্টু নিহত হন বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্য।
  • আহত শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
  • নিহত মিন্টু পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন।

রেললাইন কোনোভাবেই চলাচল বা খেলার নিরাপদ জায়গা নয়। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকার রেললাইনের পাশে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের আরও সতর্ক থাকা জরুরি।

একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে একজন মানুষের প্রাণ হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে আহত শিশুটির দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, রেললাইনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে। যেসব এলাকায় মানুষের নিয়মিত চলাচল রয়েছে, সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, নজরদারি এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর