নেত্রকোনা সদর উপজেলার নন্দীপুর চরপাড়া গ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ রমজান আলীর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে শহীদ রমজানের কবর জিয়ারতের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নেত্রকোনা শহরে এক বিজয় মিছিল বের করা হয়, যা মোক্তারপাড়া ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাবলিক হলে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বক্তারা বলেন, রমজান আলী ছিলেন একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। তিনি জীবিকার তাগিদে বিদেশে না গিয়ে দেশের ভেতরেই কাজ করতেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, রমজান আলী যে উদ্দেশ্যে জীবন দিয়েছেন, সেই চেতনা ধারণ করে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। তার আত্মত্যাগ আমাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।
রমজান আলীর মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন। সে যেন শহীদের মর্যাদা পায়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান আলী নেত্রকোনা জেলার নন্দীপুর চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় যান এবং একটি বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরায় ‘জুলাই বিপ্লব’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার মিছিলে তিনি নিহত হন বলে জানা যায়। ওই সময় পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে অনেক সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অনেককেই ‘শহীদ’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় স্মরণসভা, কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত সাম্প্রতিক আন্দোলনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে অংশ নেওয়া অনেক শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
নেত্রকোনা জেলার মতো বিভিন্ন অঞ্চলে শহীদদের স্মরণে এ ধরনের আয়োজন স্থানীয়ভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শহীদ রমজান আলীর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি শুধু স্মরণ নয়, বরং তার আত্মত্যাগকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তাও দিয়েছে।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৫
নেত্রকোনা সদর উপজেলার নন্দীপুর চরপাড়া গ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ রমজান আলীর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে শহীদ রমজানের কবর জিয়ারতের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নেত্রকোনা শহরে এক বিজয় মিছিল বের করা হয়, যা মোক্তারপাড়া ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাবলিক হলে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বক্তারা বলেন, রমজান আলী ছিলেন একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। তিনি জীবিকার তাগিদে বিদেশে না গিয়ে দেশের ভেতরেই কাজ করতেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, রমজান আলী যে উদ্দেশ্যে জীবন দিয়েছেন, সেই চেতনা ধারণ করে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। তার আত্মত্যাগ আমাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।
রমজান আলীর মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন। সে যেন শহীদের মর্যাদা পায়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান আলী নেত্রকোনা জেলার নন্দীপুর চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় যান এবং একটি বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরায় ‘জুলাই বিপ্লব’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার মিছিলে তিনি নিহত হন বলে জানা যায়। ওই সময় পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে অনেক সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অনেককেই ‘শহীদ’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় স্মরণসভা, কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত সাম্প্রতিক আন্দোলনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে অংশ নেওয়া অনেক শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
নেত্রকোনা জেলার মতো বিভিন্ন অঞ্চলে শহীদদের স্মরণে এ ধরনের আয়োজন স্থানীয়ভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শহীদ রমজান আলীর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি শুধু স্মরণ নয়, বরং তার আত্মত্যাগকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তাও দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন