ত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় কংশ নদের তীব্র ভাঙনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে থাকা পাঁচ গ্রামের মানুষ এবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। তারা নগুয়া থেকে ঢেউটুকোন বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঢেউটুকোন বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া, ঢেউটুকোন, কৈলাটী, নয়াপাড়া ও গন্ডা বেড় গ্রামের শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, কংশ নদের অব্যাহত ভাঙনের কারণে নদীর তীরবর্তী সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে গ্রামগুলোর মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারছেন না। এতে ন্যায্য দাম থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুল ও মাদরাসায় যেতে পারে না। রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া গর্ভবতী নারী বা হঠাৎ অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. মুস্তাক আহমেদ, আলমগীর হোসাইন, পল্লী চিকিৎসক মো. শফিকুল ইসলাম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তোরা রানী, পুষ্প রানী বর্মন, মো. কাউসার, মো. শহীদ মিয়া ও আবু শহীদসহ অনেকে।
তারা বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে কষ্টে আছি। এখন আর ধৈর্য নেই। দ্রুত বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়ক নির্মাণ না হলে আমাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে যাবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের দাবি, কংশ নদের ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য পাকা সড়ক তৈরি করতে হবে।
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও আশপাশের অঞ্চল কংশ নদের ভাঙনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে অনেক গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। এর ফলে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকায় নদীভাঙন একটি নিয়মিত সমস্যা, যেখানে সঠিক অবকাঠামো না থাকায় মানুষ বারবার ক্ষতির মুখে পড়ে।
স্থানীয়দের এই মানববন্ধন আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কংশ নদের ভাঙন শুধু একটি ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৫
ত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় কংশ নদের তীব্র ভাঙনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে থাকা পাঁচ গ্রামের মানুষ এবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। তারা নগুয়া থেকে ঢেউটুকোন বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঢেউটুকোন বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া, ঢেউটুকোন, কৈলাটী, নয়াপাড়া ও গন্ডা বেড় গ্রামের শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, কংশ নদের অব্যাহত ভাঙনের কারণে নদীর তীরবর্তী সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে গ্রামগুলোর মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারছেন না। এতে ন্যায্য দাম থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুল ও মাদরাসায় যেতে পারে না। রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া গর্ভবতী নারী বা হঠাৎ অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. মুস্তাক আহমেদ, আলমগীর হোসাইন, পল্লী চিকিৎসক মো. শফিকুল ইসলাম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তোরা রানী, পুষ্প রানী বর্মন, মো. কাউসার, মো. শহীদ মিয়া ও আবু শহীদসহ অনেকে।
তারা বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে কষ্টে আছি। এখন আর ধৈর্য নেই। দ্রুত বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়ক নির্মাণ না হলে আমাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে যাবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের দাবি, কংশ নদের ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য পাকা সড়ক তৈরি করতে হবে।
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর ও আশপাশের অঞ্চল কংশ নদের ভাঙনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে অনেক গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। এর ফলে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক এলাকায় নদীভাঙন একটি নিয়মিত সমস্যা, যেখানে সঠিক অবকাঠামো না থাকায় মানুষ বারবার ক্ষতির মুখে পড়ে।
স্থানীয়দের এই মানববন্ধন আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কংশ নদের ভাঙন শুধু একটি ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পাঁচ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন