দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চলাচল রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান

এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চলাচল রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান

ঈদের দিন যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, মাদক ও অবৈধ মালামালসহ আটক ১

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

কক্সবাজার আয়কর অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী মোঃ ছাবের আহমদের দাফন সম্পন্ন

মিরপুরের কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট

সাতক্ষীরায় কারাবন্দি সাবেক পিপি আব্দুল লতিফের মৃত্যু, হাসপাতালে নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস

বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-মেয়ে নিহত, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিল পরিবার

মুন্সিগঞ্জ এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক দুর্ঘটনা: ট্রাকচালক নিহত, আহত ৩

এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চলাচল রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান

এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চলাচল রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান
এক্সপ্রেসওয়েতে অবৈধভাবে চলাচলকারী রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রাফিক পুলিশ।

রাজধানীর এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়েগুলোতে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রিকশা চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিকশার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক পুলিশ।

আজ রাজধানীর একটি এক্সপ্রেসওয়েতে পরিচালিত এই অভিযানে বেশ কয়েকটি রিকশা আটক করা হয়। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের আইন সম্পর্কে অবহিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত থেকে বিরত থাকতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

ঝুঁকি জেনেও এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়ে মূলত দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য নির্মিত। সেখানে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তারপরও কিছু রিকশাচালক যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে নিয়ম ভেঙে এসব সড়কে উঠে পড়ছেন।


অভিযান চলাকালে দেখা যায়, অনেক চালক যাত্রী নিয়ে সরাসরি মূল এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ করছেন। এতে শুধু রিকশার যাত্রীই নয়, দ্রুতগতির অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীরাও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

ট্রাফিক পুলিশের কঠোর অবস্থান

কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানান, আইন অমান্য করে এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চালানো সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়। তাই নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযানে আটক রিকশাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি চালকদের সতর্ক করা হয় যাতে ভবিষ্যতে তারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে রিকশা না চালান।

পুলিশের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিও এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। কারণ অনেক চালক ও যাত্রী এখনো বুঝতে পারছেন না যে এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চালানো কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুতগতির সড়কে ধীরগতির যানবাহন প্রবেশ করলে চালকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে যায়। এতে সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং দুর্ঘটনা ঘটলে হতাহতের আশঙ্কাও বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর এলাকায় বিকল্প নিরাপদ রুট থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় সময় বাঁচানো বা অতিরিক্ত ভাড়ার আশায় কিছু চালক নিষিদ্ধ সড়ক ব্যবহার করেন। এই প্রবণতা বন্ধ না হলে দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে এক্সপ্রেসওয়ে বা হাইওয়েতে রিকশায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, যাত্রীরা যদি এসব সড়কে রিকশায় উঠতে নিরুৎসাহিত করেন, তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।

একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অনুমোদিত যানবাহন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত

ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়েতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এক্সপ্রেসওয়ে ও মহাসড়কগুলো আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে।

বিষয় : এক্সপ্রেসওয়ে রিকশা ট্রাফিক পুলিশ অভিযান সড়ক নিরাপত্তা রিকশা জরিমানা ঢাকা ট্রাফিক নিউজ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চলাচল রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়েগুলোতে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রিকশা চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিকশার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক পুলিশ।

আজ রাজধানীর একটি এক্সপ্রেসওয়েতে পরিচালিত এই অভিযানে বেশ কয়েকটি রিকশা আটক করা হয়। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের আইন সম্পর্কে অবহিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত থেকে বিরত থাকতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

ঝুঁকি জেনেও এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়ে মূলত দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য নির্মিত। সেখানে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তারপরও কিছু রিকশাচালক যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে নিয়ম ভেঙে এসব সড়কে উঠে পড়ছেন।


অভিযান চলাকালে দেখা যায়, অনেক চালক যাত্রী নিয়ে সরাসরি মূল এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ করছেন। এতে শুধু রিকশার যাত্রীই নয়, দ্রুতগতির অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীরাও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

ট্রাফিক পুলিশের কঠোর অবস্থান

কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানান, আইন অমান্য করে এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চালানো সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়। তাই নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযানে আটক রিকশাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি চালকদের সতর্ক করা হয় যাতে ভবিষ্যতে তারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে রিকশা না চালান।

পুলিশের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিও এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। কারণ অনেক চালক ও যাত্রী এখনো বুঝতে পারছেন না যে এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা চালানো কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুতগতির সড়কে ধীরগতির যানবাহন প্রবেশ করলে চালকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে যায়। এতে সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং দুর্ঘটনা ঘটলে হতাহতের আশঙ্কাও বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর এলাকায় বিকল্প নিরাপদ রুট থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় সময় বাঁচানো বা অতিরিক্ত ভাড়ার আশায় কিছু চালক নিষিদ্ধ সড়ক ব্যবহার করেন। এই প্রবণতা বন্ধ না হলে দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে এক্সপ্রেসওয়ে বা হাইওয়েতে রিকশায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, যাত্রীরা যদি এসব সড়কে রিকশায় উঠতে নিরুৎসাহিত করেন, তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।

একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অনুমোদিত যানবাহন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত

ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ে ও হাইওয়েতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এক্সপ্রেসওয়ে ও মহাসড়কগুলো আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর