দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুসলিম যুবকদের দূরে থাকার আহ্বান কেন?

ডায়মন্ড হারবারে লাইব্রেরিতে বইয়ের বদলে মদের বোতল! কপাটহাটের ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত উমর হায়াতের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাসহ ৫০ ভাষায় পৌঁছাবে হজের খুতবা, বহুভাষিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মক্কার হজ ব্যবস্থাপনা

তুরস্কে এক কিশোরের বন্দুক হামলা, নিহত ৪: আতঙ্কে তারসুস, চলছে ব্যাপক অভিযান

আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ

গাজায় একদিনে ৮০ নিহত, অনাহারে শিশুসহ আরও ১৪ জনের মৃত্যু—মানবিক বিপর্যয় চরমে

গাজায় একদিনে ৮০ নিহত, অনাহারে শিশুসহ আরও ১৪ জনের মৃত্যু—মানবিক বিপর্যয় চরমে
গাজায় অব্যাহত হামলা ও খাদ্য সংকটে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের অসহায় জীবন।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিনেই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। একই সময়ে তীব্র খাদ্য সংকট ও অনাহারে শিশুসহ আরও ১৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যা গাজার মানবিক বিপর্যয়কে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এখন শুধু যুদ্ধ নয়, ক্ষুধা আর অপুষ্টিও গাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বেঁচে থাকা এবং মৃত্যুর সীমারেখা প্রায় মুছে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।


একদিনে মৃত্যু, প্রতিদিন বাড়ছে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলার ঘটনায় একদিনেই গাজায় ৮০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন আরও ১৪ জন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে।

এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে। এর মধ্যে ৮৮ জনই শিশু—যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।


খাদ্য সংকটে ধসে পড়ছে জীবনযাত্রা

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। পরে মে মাস থেকে সীমিত আকারে কিছু ত্রাণ প্রবেশ করলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

ফলে গাজার বাজার, হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষের ঘর—সব জায়গাতেই দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। অনেক পরিবার দিনে একবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাবার না থাকায় শিশুদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং অপুষ্টিজনিত রোগ বাড়ছে।


শিশুদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত গাজায় অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত ৭৪ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছেন ৬৩ জন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৫ বছরের কম বয়সী ২৪ জন শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।

শিশুদের পাশাপাশি বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরাও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি চরমে পৌঁছেছে।


“হাঁটতে থাকা লাশের মতো মানুষ”

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন UNRWA প্রধান ফিলিপ ল্যাজারিনি। তিনি বলেন, গাজায় এমন মানুষ দেখা যাচ্ছে যারা “না বেঁচে আছে, না মরেছে—যেন হাঁটতে থাকা লাশের মতো অবস্থায় আছে।”

তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি এখন আর শুধু যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক বিপর্যয়।


যুদ্ধ ও অবরোধে ধ্বংসস্তূপে গাজা

গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই অবরুদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে গেছে।

একদিকে অব্যাহত বোমা হামলা, অন্যদিকে খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট—এই দুই চাপে গাজার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার মানবিক করিডোর খোলার আহ্বান জানালেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।


আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, কিন্তু সমাধান নেই

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা গাজায় চলমান সহিংসতা ও মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত মানবিক সহায়তা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তাদের মতে, বর্তমানে গাজা এমন এক অবস্থায় আছে যেখানে খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা—সবকিছুই বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।


উপসংহার

গাজায় একদিকে অব্যাহত হামলা, অন্যদিকে অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যু—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন চরম মানবিক বিপর্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, আর সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান সত্ত্বেও সমাধান না আসায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—এই ভয়াবহ সংকট থামবে কবে?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


গাজায় একদিনে ৮০ নিহত, অনাহারে শিশুসহ আরও ১৪ জনের মৃত্যু—মানবিক বিপর্যয় চরমে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৫

featured Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিনেই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। একই সময়ে তীব্র খাদ্য সংকট ও অনাহারে শিশুসহ আরও ১৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যা গাজার মানবিক বিপর্যয়কে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এখন শুধু যুদ্ধ নয়, ক্ষুধা আর অপুষ্টিও গাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বেঁচে থাকা এবং মৃত্যুর সীমারেখা প্রায় মুছে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।


একদিনে মৃত্যু, প্রতিদিন বাড়ছে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলার ঘটনায় একদিনেই গাজায় ৮০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন আরও ১৪ জন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে।

এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে। এর মধ্যে ৮৮ জনই শিশু—যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।


খাদ্য সংকটে ধসে পড়ছে জীবনযাত্রা

চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। পরে মে মাস থেকে সীমিত আকারে কিছু ত্রাণ প্রবেশ করলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

ফলে গাজার বাজার, হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষের ঘর—সব জায়গাতেই দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। অনেক পরিবার দিনে একবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাবার না থাকায় শিশুদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং অপুষ্টিজনিত রোগ বাড়ছে।


শিশুদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত গাজায় অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত ৭৪ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছেন ৬৩ জন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৫ বছরের কম বয়সী ২৪ জন শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।

শিশুদের পাশাপাশি বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরাও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি চরমে পৌঁছেছে।


“হাঁটতে থাকা লাশের মতো মানুষ”

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন UNRWA প্রধান ফিলিপ ল্যাজারিনি। তিনি বলেন, গাজায় এমন মানুষ দেখা যাচ্ছে যারা “না বেঁচে আছে, না মরেছে—যেন হাঁটতে থাকা লাশের মতো অবস্থায় আছে।”

তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি এখন আর শুধু যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক বিপর্যয়।


যুদ্ধ ও অবরোধে ধ্বংসস্তূপে গাজা

গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই অবরুদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে গেছে।

একদিকে অব্যাহত বোমা হামলা, অন্যদিকে খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট—এই দুই চাপে গাজার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার মানবিক করিডোর খোলার আহ্বান জানালেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।


আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, কিন্তু সমাধান নেই

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা গাজায় চলমান সহিংসতা ও মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত মানবিক সহায়তা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তাদের মতে, বর্তমানে গাজা এমন এক অবস্থায় আছে যেখানে খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা—সবকিছুই বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।


উপসংহার

গাজায় একদিকে অব্যাহত হামলা, অন্যদিকে অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যু—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন চরম মানবিক বিপর্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, আর সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান সত্ত্বেও সমাধান না আসায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—এই ভয়াবহ সংকট থামবে কবে?


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর