দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

২৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান উদ্ধার, কী ঘটেছিল এই সময়ে?

রাঙ্গুনিয়ায় ওমানে নিহত ৪ ভাইকে পাশাপাশি দাফন, জানাজা পড়ালেন একমাত্র জীবিত ভাই

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, আইসিইউ রোগীর মৃত্যু; আহত ৫

ডিএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা: ঢাকায় ‘মব’ ও গণপিটুনি বরদাশত নয়, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বজনদের সংঘর্ষ, দুই যুবককে আটকে রাখার অভিযোগ

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: স্বামীকে পালাতে সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার স্ত্রী স্বপ্না

মিরপুরে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে হত্যা: ওয়াশরুমে মিলল নিথর দেহ, ক্ষোভে উত্তাল এলাকা

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯
তিস্তা টোল প্লাজায় হামলার ঘটনার পর আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। -ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

দিনাজপুরে শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তিস্তা সেতুর টোল প্লাজা। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, চিৎকার আর মারধরের অভিযোগ। সেই ঘটনায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকসহ অন্তত আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রাতভর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, টোল আদায়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। যদিও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তারাও হামলার মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টার দিকে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা সেতুর টোল প্লাজায় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রাশেদুল ইসলাম এবং লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ।


আহত শিক্ষক রাফি আব্দুর রাজ্জাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক। আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত।

টোল দেওয়া নিয়ে শুরু, পরে সংঘর্ষ

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিনাজপুরে একটি ফিল্ড ট্রিপ শেষে দুটি বাসে করে কুড়িগ্রামে ফিরছিলেন। পথে তিস্তা টোল প্লাজায় পৌঁছালে টোল আদায় নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িগুলো সাধারণত টোল ছাড় পেয়ে থাকে। সেই বিষয়টি জানানো হলেও বাস আটকে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে শিক্ষক রাফি আব্দুর রাজ্জাক নিজেই টোল পরিশোধ করেন। কিন্তু এরপরও উত্তেজনা থামেনি।

ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল বাকি অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এরপর টোল প্লাজার কয়েকজন কর্মী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

তাঁর ভাষ্য, “স্যার টোল দেওয়ার পরও কথা কাটাকাটি চলছিল। পরে দেখি কয়েকজন এসে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। অনেককে মারধরও করা হয়।”

“শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে আমিও আহত”

আহত শিক্ষক রাফি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাঁর অভিযোগ, এক পুলিশ সদস্য তাঁকে ধাক্কা দেন এবং অপমানজনক আচরণ করেন।

তিনি বলেন, “আমি প্রতিবাদ করার পর দেখি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। ওদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আমিও আঘাত পাই। পরে শিক্ষার্থীরাই আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।”

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো।

পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র

তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য কিছুটা আলাদা। লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

তিনি জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমাদের সদস্যদেরও আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।”

ওসি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


প্রশাসনের তৎপরতা, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রাশেদুল ইসলাম দ্রুত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভিসি বলেন, “আমরা চাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”

তবে এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যদি সড়কে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

কেন বাড়ছে এমন সংঘাত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে টোল প্লাজা, পরিবহন কাউন্টার কিংবা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সামান্য বিষয় নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় দায়িত্বশীল আচরণের অভাব, ক্ষমতার প্রদর্শন কিংবা পারস্পরিক অসম্মান বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের সঙ্গে এমন ঘটনায় সামাজিকভাবে নেতিবাচক বার্তা যায় বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, শিক্ষার্থীরা সাধারণত রাষ্ট্র ও সমাজের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা দ্রুত জনমনে ক্ষোভ তৈরি করে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক, হাসপাতাল, টোল প্লাজা কিংবা সরকারি সেবা কেন্দ্রগুলোতে উত্তেজনা বাড়ার পেছনে দায়সারা ব্যবস্থাপনা, অসহিষ্ণুতা এবং তাৎক্ষণিক উত্তেজনাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য মেলেনি

ঘটনার বিষয়ে জানতে তিস্তা টোল প্লাজার ইজারাদার প্রতিষ্ঠান রানা কনস্ট্রাকশনের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিষয় : তিস্তা টোল প্লাজা হামলা, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক শিক্ষার্থী হামলা, লালমনিরহাট খবর, টোল প্লাজা সংঘর্ষ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

দিনাজপুরে শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তিস্তা সেতুর টোল প্লাজা। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, চিৎকার আর মারধরের অভিযোগ। সেই ঘটনায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকসহ অন্তত আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রাতভর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, টোল আদায়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। যদিও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তারাও হামলার মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টার দিকে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা সেতুর টোল প্লাজায় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রাশেদুল ইসলাম এবং লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ।


আহত শিক্ষক রাফি আব্দুর রাজ্জাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক। আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত।

টোল দেওয়া নিয়ে শুরু, পরে সংঘর্ষ

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিনাজপুরে একটি ফিল্ড ট্রিপ শেষে দুটি বাসে করে কুড়িগ্রামে ফিরছিলেন। পথে তিস্তা টোল প্লাজায় পৌঁছালে টোল আদায় নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িগুলো সাধারণত টোল ছাড় পেয়ে থাকে। সেই বিষয়টি জানানো হলেও বাস আটকে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে শিক্ষক রাফি আব্দুর রাজ্জাক নিজেই টোল পরিশোধ করেন। কিন্তু এরপরও উত্তেজনা থামেনি।

ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল বাকি অভিযোগ করে বলেন, দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এরপর টোল প্লাজার কয়েকজন কর্মী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

তাঁর ভাষ্য, “স্যার টোল দেওয়ার পরও কথা কাটাকাটি চলছিল। পরে দেখি কয়েকজন এসে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। অনেককে মারধরও করা হয়।”

“শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে আমিও আহত”

আহত শিক্ষক রাফি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাঁর অভিযোগ, এক পুলিশ সদস্য তাঁকে ধাক্কা দেন এবং অপমানজনক আচরণ করেন।

তিনি বলেন, “আমি প্রতিবাদ করার পর দেখি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। ওদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আমিও আঘাত পাই। পরে শিক্ষার্থীরাই আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।”

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো।

পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র

তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য কিছুটা আলাদা। লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

তিনি জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমাদের সদস্যদেরও আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।”

ওসি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


প্রশাসনের তৎপরতা, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রাশেদুল ইসলাম দ্রুত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভিসি বলেন, “আমরা চাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”

তবে এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যদি সড়কে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

কেন বাড়ছে এমন সংঘাত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে টোল প্লাজা, পরিবহন কাউন্টার কিংবা জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সামান্য বিষয় নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় দায়িত্বশীল আচরণের অভাব, ক্ষমতার প্রদর্শন কিংবা পারস্পরিক অসম্মান বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের সঙ্গে এমন ঘটনায় সামাজিকভাবে নেতিবাচক বার্তা যায় বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, শিক্ষার্থীরা সাধারণত রাষ্ট্র ও সমাজের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা দ্রুত জনমনে ক্ষোভ তৈরি করে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক, হাসপাতাল, টোল প্লাজা কিংবা সরকারি সেবা কেন্দ্রগুলোতে উত্তেজনা বাড়ার পেছনে দায়সারা ব্যবস্থাপনা, অসহিষ্ণুতা এবং তাৎক্ষণিক উত্তেজনাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য মেলেনি

ঘটনার বিষয়ে জানতে তিস্তা টোল প্লাজার ইজারাদার প্রতিষ্ঠান রানা কনস্ট্রাকশনের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর