রাজধানীর কলাবাগান থানার নিখোঁজ উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকারকে ২৩ দিন পর হঠাৎ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গবাজার এলাকার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের আশপাশ থেকে তাঁকে পাওয়া যায়। দীর্ঘ এই সময় তিনি কোথায় ছিলেন—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়ার পর তাঁকে দ্রুত রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল কি না, সেটিও এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
ঘটনাটি ঘিরে রাজধানীজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন—একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে ২৩ দিন নিখোঁজ থাকলেন, আর কীভাবে হঠাৎ করে তিনি আবার শহরের মাঝেই পাওয়া গেলেন?
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রাকিবুলকে উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তিনি এখন চিকিৎসাধীন আছেন।”
তবে তিনি আরও জানান, রাকিবুলের বিরুদ্ধে কিছু “অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ” আগে থেকেই ছিল। এসব বিষয় তদন্তাধীন থাকলেও নিখোঁজ হওয়ার কারণ বা এই দীর্ঘ সময়ের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কাঁঠালবাগান ব্যারাক থেকে রাত্রিকালীন ডিউটির জন্য সাধারণ পোশাকে বের হন এসআই রাকিবুল।
এরপর আর তিনি থানায় ফিরে আসেননি।
সেই দিন থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। শুরু হয় উদ্বেগ, খোঁজাখুঁজি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা।
পরে কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, দেশজুড়ে সব থানায় তাঁর সন্ধানের জন্য বার্তাও পাঠানো হয়।
তবুও দীর্ঘ ২৩ দিন ধরে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকালে তাঁকে যখন বঙ্গবাজার এলাকার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের আশপাশ থেকে পাওয়া যায়, তখন তিনি একা ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বেশ ক্লান্ত ও অসুস্থ দেখাচ্ছিলেন। তবে কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছালেন বা এই সময়টায় কোথায় ছিলেন—সে বিষয়ে তিনি এখনো কোনো পরিষ্কার বক্তব্য দেননি।
পুলিশ বলছে, হাসপাতালে চিকিৎসা চলার কারণে এখনই বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এসআই রাকিবুলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কিছু অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যদিও এসব অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তাঁর নিখোঁজ থাকা এবং আবার হঠাৎ ফিরে আসা—সব মিলিয়ে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, এটি নিছক নিখোঁজ ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কারণ আছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে রাকিবুলের পরিবার ও সহকর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাপ্তা গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুলের খোঁজ না পেয়ে পরিবার একাধিকবার দুশ্চিন্তায় পড়ে।
সহকর্মীরাও বলছেন, তিনি সাধারণত দায়িত্বশীল ছিলেন, তবে ঘটনার আগের দিনগুলোতে কিছুটা চাপা স্বভাবের আচরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মানসিক বা ব্যক্তিগত কোনো সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন।
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। চিকিৎসা শেষে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হবে। তারপরই আসল পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।”
একজন পুলিশ কর্মকর্তার ২৩ দিন নিখোঁজ থাকা শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং এটি প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরের চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়েও প্রশ্ন তোলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাপ, ডিউটির অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে কাজ করেন। অনেক সময় ব্যক্তিগত সমস্যা বা মানসিক চাপ প্রকাশ করার সুযোগও থাকে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় তিনটি বিষয় প্রায়ই সামনে আসে—
এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো সিস্টেমের ওপরই প্রশ্ন তুলে দেয়। কারণ দায়িত্বশীল একটি বাহিনীর সদস্য নিখোঁজ হয়ে গেলে সেটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বোধেও প্রভাব ফেলে।
এসআই রাকিবুল হাসানের উদ্ধার একটি রহস্যের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন প্রশ্নের শুরু।
তিনি এই ২৩ দিন কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন, এবং কেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
চিকিৎসা শেষে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো ঘটনার আসল চিত্র পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
রাজধানীর কলাবাগান থানার নিখোঁজ উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকারকে ২৩ দিন পর হঠাৎ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গবাজার এলাকার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের আশপাশ থেকে তাঁকে পাওয়া যায়। দীর্ঘ এই সময় তিনি কোথায় ছিলেন—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়ার পর তাঁকে দ্রুত রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল কি না, সেটিও এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
ঘটনাটি ঘিরে রাজধানীজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন—একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে ২৩ দিন নিখোঁজ থাকলেন, আর কীভাবে হঠাৎ করে তিনি আবার শহরের মাঝেই পাওয়া গেলেন?
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রাকিবুলকে উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তিনি এখন চিকিৎসাধীন আছেন।”
তবে তিনি আরও জানান, রাকিবুলের বিরুদ্ধে কিছু “অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ” আগে থেকেই ছিল। এসব বিষয় তদন্তাধীন থাকলেও নিখোঁজ হওয়ার কারণ বা এই দীর্ঘ সময়ের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কাঁঠালবাগান ব্যারাক থেকে রাত্রিকালীন ডিউটির জন্য সাধারণ পোশাকে বের হন এসআই রাকিবুল।
এরপর আর তিনি থানায় ফিরে আসেননি।
সেই দিন থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। শুরু হয় উদ্বেগ, খোঁজাখুঁজি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা।
পরে কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, দেশজুড়ে সব থানায় তাঁর সন্ধানের জন্য বার্তাও পাঠানো হয়।
তবুও দীর্ঘ ২৩ দিন ধরে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকালে তাঁকে যখন বঙ্গবাজার এলাকার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের আশপাশ থেকে পাওয়া যায়, তখন তিনি একা ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বেশ ক্লান্ত ও অসুস্থ দেখাচ্ছিলেন। তবে কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছালেন বা এই সময়টায় কোথায় ছিলেন—সে বিষয়ে তিনি এখনো কোনো পরিষ্কার বক্তব্য দেননি।
পুলিশ বলছে, হাসপাতালে চিকিৎসা চলার কারণে এখনই বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এসআই রাকিবুলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কিছু অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যদিও এসব অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তাঁর নিখোঁজ থাকা এবং আবার হঠাৎ ফিরে আসা—সব মিলিয়ে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, এটি নিছক নিখোঁজ ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কারণ আছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে রাকিবুলের পরিবার ও সহকর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাপ্তা গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুলের খোঁজ না পেয়ে পরিবার একাধিকবার দুশ্চিন্তায় পড়ে।
সহকর্মীরাও বলছেন, তিনি সাধারণত দায়িত্বশীল ছিলেন, তবে ঘটনার আগের দিনগুলোতে কিছুটা চাপা স্বভাবের আচরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মানসিক বা ব্যক্তিগত কোনো সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন।
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। চিকিৎসা শেষে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হবে। তারপরই আসল পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।”
একজন পুলিশ কর্মকর্তার ২৩ দিন নিখোঁজ থাকা শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং এটি প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরের চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়েও প্রশ্ন তোলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাপ, ডিউটির অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে কাজ করেন। অনেক সময় ব্যক্তিগত সমস্যা বা মানসিক চাপ প্রকাশ করার সুযোগও থাকে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় তিনটি বিষয় প্রায়ই সামনে আসে—
এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো সিস্টেমের ওপরই প্রশ্ন তুলে দেয়। কারণ দায়িত্বশীল একটি বাহিনীর সদস্য নিখোঁজ হয়ে গেলে সেটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বোধেও প্রভাব ফেলে।
এসআই রাকিবুল হাসানের উদ্ধার একটি রহস্যের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন প্রশ্নের শুরু।
তিনি এই ২৩ দিন কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন, এবং কেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
চিকিৎসা শেষে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো ঘটনার আসল চিত্র পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন