দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, খারাপ আবহাওয়ায় বায়তুল মোকাররমে আয়োজন

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, খারাপ আবহাওয়ায় বায়তুল মোকাররমে আয়োজন

গাজীপুরের কামতা গ্যাসক্ষেত্র থেকে আগামী জুনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস: প্রতিমন্ত্রী

বেনাপোলে বিজিবির বড় অভিযান, ১২ লাখ টাকার মালামাল আটক

প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—একটি পোস্টে কাঁদালেন জামায়াত আমির

টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর আজ

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু হাবিবার সফল অপারেশন, নতুন নাম রাখা হলো ‘জুবাইদা’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন সময়, ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টারে কেক কাটলেন।

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে প্রটোকল কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, ঘিরে নানা প্রশ্ন

প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—একটি পোস্টে কাঁদালেন জামায়াত আমির

প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—একটি পোস্টে কাঁদালেন জামায়াত আমির
রামিসাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্টে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। © সংগৃহীত

‘প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—আবেগঘন পোস্টে দ্রুত বিচার দাবি জামায়াত আমিরের

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যখন ক্ষোভ আর শোক ছড়িয়ে পড়েছে, তখন আবেগঘন এক বার্তায় গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি লিখেছেন, “প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত।”

বুধবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন। তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি জানান।



নিষ্পাপ এক শিশুর জন্য হৃদয়ছোঁয়া বার্তা

ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, রামিসা ছিল একটি নিষ্পাপ শিশু, যে এখনো জীবনের পূর্ণ বিকাশের সুযোগই পায়নি। তার ভাষায়, ছোট্ট এই মেয়েটি ছিল তার মা-বাবা ও পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা এবং ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল আশা।

তিনি বলেন, এমন নির্মম পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দেয়।


‘হায়েনার লালসা নয়, বিচারই হোক শেষ কথা’

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রামিসার চলে যাওয়া কোনো অপরাধীর বিকৃত লালসাকে মহিমান্বিত করে না; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তি চিরকাল ঘৃণিত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত।

তিনি আল্লাহর কাছে রামিসার জন্য জান্নাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা জানান।


দেশজুড়ে ক্ষোভ, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

অনেকেই বলছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা কেবল আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়; এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরও একটি ভয়াবহ সংকেত। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।


কেন বারবার ঘটছে এমন ঘটনা?

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু কঠোর আইন করলেই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দ্রুত বিচার, অপরাধীর নিশ্চিত শাস্তি, পারিবারিক সচেতনতা এবং সামাজিক নজরদারি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন অপরাধীরা মনে করে তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারে, তখন এমন অপরাধের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা শিক্ষা, অভিভাবকদের সতর্কতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দিকে সবার নজর

ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও বিচারিক অগ্রগতি এখন জনমনে বড় প্রত্যাশা হয়ে উঠেছে।

সচেতন মহল বলছে, রামিসার মতো নিরপরাধ শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শুধু একটি মামলার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের মানবিক দায়বদ্ধতারও পরীক্ষা।


ছোট্ট রামিসা, বড় প্রশ্ন

রামিসার মৃত্যু একটি নিষ্ঠুর অপরাধের শিকার এক শিশুর গল্পই নয়; এটি সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক নির্মম প্রশ্ন। আমরা কি আমাদের শিশুদের যথেষ্ট নিরাপদ রাখতে পারছি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই আজ একই কথাই বলছেন—শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়, অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হতে হবে একমাত্র বার্তা।

বিষয় : শিশু নির্যাতন রামিসা হত্যা ডা. শফিকুর রহমান পল্লবী শিশু হত্যা জামায়াত আমির

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—একটি পোস্টে কাঁদালেন জামায়াত আমির

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

‘প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—আবেগঘন পোস্টে দ্রুত বিচার দাবি জামায়াত আমিরের

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যখন ক্ষোভ আর শোক ছড়িয়ে পড়েছে, তখন আবেগঘন এক বার্তায় গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি লিখেছেন, “প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত।”

বুধবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন। তার পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি জানান।



নিষ্পাপ এক শিশুর জন্য হৃদয়ছোঁয়া বার্তা

ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, রামিসা ছিল একটি নিষ্পাপ শিশু, যে এখনো জীবনের পূর্ণ বিকাশের সুযোগই পায়নি। তার ভাষায়, ছোট্ট এই মেয়েটি ছিল তার মা-বাবা ও পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা এবং ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল আশা।

তিনি বলেন, এমন নির্মম পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দেয়।


‘হায়েনার লালসা নয়, বিচারই হোক শেষ কথা’

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রামিসার চলে যাওয়া কোনো অপরাধীর বিকৃত লালসাকে মহিমান্বিত করে না; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তি চিরকাল ঘৃণিত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এই নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত।

তিনি আল্লাহর কাছে রামিসার জন্য জান্নাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা জানান।


দেশজুড়ে ক্ষোভ, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

অনেকেই বলছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা কেবল আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়; এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরও একটি ভয়াবহ সংকেত। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।


কেন বারবার ঘটছে এমন ঘটনা?

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু কঠোর আইন করলেই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দ্রুত বিচার, অপরাধীর নিশ্চিত শাস্তি, পারিবারিক সচেতনতা এবং সামাজিক নজরদারি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন অপরাধীরা মনে করে তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারে, তখন এমন অপরাধের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা শিক্ষা, অভিভাবকদের সতর্কতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দিকে সবার নজর

ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও বিচারিক অগ্রগতি এখন জনমনে বড় প্রত্যাশা হয়ে উঠেছে।

সচেতন মহল বলছে, রামিসার মতো নিরপরাধ শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শুধু একটি মামলার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের মানবিক দায়বদ্ধতারও পরীক্ষা।


ছোট্ট রামিসা, বড় প্রশ্ন

রামিসার মৃত্যু একটি নিষ্ঠুর অপরাধের শিকার এক শিশুর গল্পই নয়; এটি সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক নির্মম প্রশ্ন। আমরা কি আমাদের শিশুদের যথেষ্ট নিরাপদ রাখতে পারছি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই আজ একই কথাই বলছেন—শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়, অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হতে হবে একমাত্র বার্তা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর