দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

সৌদির স্কুলের বইয়ে আমূল পরিবর্তন, ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে বদলে গেল পুরোনো বয়ান

৬ মাস শেষে সরকারের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী, চলছে সূক্ষ্ম মূল্যায়ন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?

জ্বালানি খাত নিয়ে বড় সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, নিয়োগ হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জমজমাট সমাপনী

মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে আসছে? ট্রাম্পের কড়া জবাবে চাঞ্চল্য

শারীরিক অসুস্থতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন সময়, ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টারে কেক কাটলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন সময়, ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টারে কেক কাটলেন।
ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের সঙ্গে কেক কেটে আনন্দঘন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। -ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সঙ্গে ‘অন্যরকম’ সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

ছোট ছোট শিশুরা দৌড়ে এসে ঘিরে ধরছে, কেউ হাত ধরছে, কেউ আবার বলছে—“আঙ্কেল আমার!” এমন এক ব্যতিক্রমী পরিবেশে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টারে সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির বাইরে শিশুদের সঙ্গে তার এই মুহূর্ত ঘিরে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী নিচতলায় অবস্থিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল কয়েক ডজন শিশু। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে তারা। কেউ হাসছিল, কেউ চিৎকার করে নিজের অনুভূতি জানাচ্ছিল, আবার কেউ প্রধানমন্ত্রীকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করছিল।


“আজ তোমাদের সবার জন্মদিন”

ডে-কেয়ার সেন্টারের একটি টেবিলে আগে থেকেই রাখা ছিল একটি কেক। সেটি দেখে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে জানতে চান, “আজকে কার জন্মদিন বলো তো?” সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন শিশু বলে ওঠে—“আমার!”, “আমার!”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বলেন, “আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো, আমরা সবাই মিলে কেক কাটি।”

এরপর শিশুদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে কেক কাটেন তিনি। পুরো কক্ষজুড়ে তখন উৎসবের আমেজ। শিশুরা একসঙ্গে “হ্যাপি হ্যাপি বার্থডে” বলতে থাকে। উপস্থিত কর্মকর্তারাও এই মুহূর্তকে ব্যতিক্রমী ও আবেগময় বলে উল্লেখ করেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুরা প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যে আনন্দ প্রকাশ করেছে, তা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সময় কাটিয়েছেন।

চকলেট, টফি আর ছোট্টদের উচ্ছ্বাস

কেক কাটার পর শিশুদের হাতে নিজে চকলেট, টফি, ললিপপ ও উপহারের ব্যাগ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিতরা জানান, শিশুদের মধ্যে কেউ যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও খেয়াল রাখছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “আর কেউ কি বাকি আছে?”

এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অভিভাবক ও কর্মকর্তাদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তিকে এতটা স্বাভাবিক ও শিশুদের সঙ্গে মিশে যেতে সচরাচর দেখা যায় না বলেই মত তাদের।

ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভা তামান্না প্রধানমন্ত্রীকে শিশুদের দৈনন্দিন যত্ন, খাবার ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জানান। প্রধানমন্ত্রীও মনোযোগ দিয়ে পুরো বিষয়টি শোনেন এবং শিশুদের কী ধরনের খাবার দেওয়া হয়, সে বিষয়েও খোঁজ নেন।

“আঙ্কেল খুব ভালো, খুব সুইট”

প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় ছোট্ট শিশু আরিবাকে। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী আঙ্কেলকে দেখে আমি যে কী খুশি বলতে পারছি না। আঙ্কেলের সঙ্গে মজা করে কেক খেয়েছি। আঙ্কেলও কেক খেয়েছেন। কি মজা, কি মজা। আঙ্কেল খুব ভালো, খুব সুইট।”

শিশুর এই সরল অনুভূতি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে শিশুদের সঙ্গে নেতাদের এমন নির্ভেজাল মুহূর্ত খুব কমই সামনে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জনসংযোগ ও মানবিক উপস্থিতিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে নেতাদের এমন স্বাভাবিক মেলামেশা সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেয়।

ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে মূলত কর্মজীবী অভিভাবকদের শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে দেখাশোনা করা হয়।


মন্ত্রী অধ্যাপক জাহিদ হোসেন জানান, ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। তেজগাঁওয়ের এই কেন্দ্রে মোট ৬০ জন শিশুর জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। মঙ্গলবার সেখানে উপস্থিত ছিল ৫৫ জন শিশু।

সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নগরজীবনের ব্যস্ততায় এমন ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। অনেক কর্মজীবী মা-বাবা সন্তানকে নিরাপদ জায়গায় রেখে কাজে যেতে চান। কিন্তু দেশে এখনও পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন দিবাযত্ন কেন্দ্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মানসিক বিকাশে নিরাপদ, স্নেহপূর্ণ ও সামাজিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত এমন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম আরও বাড়ানো গেলে কর্মজীবী পরিবারগুলো উপকৃত হবে।

১৫ মিনিটের সফরে জমে ওঠে অন্যরকম সকাল

প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রবেশ করেন এবং প্রায় ১৫ মিনিটের বেশি সময় সেখানে অবস্থান করেন। বিদায়ের সময় শিশুদের দিকে হাত নেড়ে “টা টা” জানান তিনি। শিশুরাও হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে বিদায় দেয়।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক ব্যস্ততা, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা আর প্রশাসনিক কর্মসূচির ভিড়ে শিশুদের সঙ্গে কাটানো এই স্বল্প সময়টুকুই মঙ্গলবারের সকালকে অন্যরকম করে তোলে। আর সেই মুহূর্তের সরল আনন্দ এখন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায়।



“আজ তোমাদের সবার জন্মদিন”—বলেই শিশুদের সঙ্গে কেক কাটলেন প্রধানমন্ত্রী। ছোট্ট আরিবার মুখে তখন একটাই কথা, “আঙ্কেল খুব সুইট!”

রাজনীতির কঠিন ব্যস্ততার মাঝেও শিশুদের সঙ্গে এমন আবেগঘন মুহূর্ত ছুঁয়ে গেছে অনেককে। ❤️????????
বিস্তারিত সংবাদের লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে দেওয়া রইল।

বিষয় : তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র ভূমিসেবা মেলা ২০২৬, ডে কেয়ার সেন্টার বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন সময়, ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টারে কেক কাটলেন।

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

শিশুদের সঙ্গে ‘অন্যরকম’ সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

ছোট ছোট শিশুরা দৌড়ে এসে ঘিরে ধরছে, কেউ হাত ধরছে, কেউ আবার বলছে—“আঙ্কেল আমার!” এমন এক ব্যতিক্রমী পরিবেশে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টারে সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির বাইরে শিশুদের সঙ্গে তার এই মুহূর্ত ঘিরে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী নিচতলায় অবস্থিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল কয়েক ডজন শিশু। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে তারা। কেউ হাসছিল, কেউ চিৎকার করে নিজের অনুভূতি জানাচ্ছিল, আবার কেউ প্রধানমন্ত্রীকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করছিল।


“আজ তোমাদের সবার জন্মদিন”

ডে-কেয়ার সেন্টারের একটি টেবিলে আগে থেকেই রাখা ছিল একটি কেক। সেটি দেখে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে জানতে চান, “আজকে কার জন্মদিন বলো তো?” সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন শিশু বলে ওঠে—“আমার!”, “আমার!”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বলেন, “আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো, আমরা সবাই মিলে কেক কাটি।”

এরপর শিশুদের সঙ্গে হাতে হাত রেখে কেক কাটেন তিনি। পুরো কক্ষজুড়ে তখন উৎসবের আমেজ। শিশুরা একসঙ্গে “হ্যাপি হ্যাপি বার্থডে” বলতে থাকে। উপস্থিত কর্মকর্তারাও এই মুহূর্তকে ব্যতিক্রমী ও আবেগময় বলে উল্লেখ করেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুরা প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যে আনন্দ প্রকাশ করেছে, তা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সময় কাটিয়েছেন।

চকলেট, টফি আর ছোট্টদের উচ্ছ্বাস

কেক কাটার পর শিশুদের হাতে নিজে চকলেট, টফি, ললিপপ ও উপহারের ব্যাগ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিতরা জানান, শিশুদের মধ্যে কেউ যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও খেয়াল রাখছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “আর কেউ কি বাকি আছে?”

এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অভিভাবক ও কর্মকর্তাদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তিকে এতটা স্বাভাবিক ও শিশুদের সঙ্গে মিশে যেতে সচরাচর দেখা যায় না বলেই মত তাদের।

ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভা তামান্না প্রধানমন্ত্রীকে শিশুদের দৈনন্দিন যত্ন, খাবার ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জানান। প্রধানমন্ত্রীও মনোযোগ দিয়ে পুরো বিষয়টি শোনেন এবং শিশুদের কী ধরনের খাবার দেওয়া হয়, সে বিষয়েও খোঁজ নেন।

“আঙ্কেল খুব ভালো, খুব সুইট”

প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় ছোট্ট শিশু আরিবাকে। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী আঙ্কেলকে দেখে আমি যে কী খুশি বলতে পারছি না। আঙ্কেলের সঙ্গে মজা করে কেক খেয়েছি। আঙ্কেলও কেক খেয়েছেন। কি মজা, কি মজা। আঙ্কেল খুব ভালো, খুব সুইট।”

শিশুর এই সরল অনুভূতি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে শিশুদের সঙ্গে নেতাদের এমন নির্ভেজাল মুহূর্ত খুব কমই সামনে আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জনসংযোগ ও মানবিক উপস্থিতিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে নেতাদের এমন স্বাভাবিক মেলামেশা সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেয়।

ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে মূলত কর্মজীবী অভিভাবকদের শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে দেখাশোনা করা হয়।


মন্ত্রী অধ্যাপক জাহিদ হোসেন জানান, ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। তেজগাঁওয়ের এই কেন্দ্রে মোট ৬০ জন শিশুর জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। মঙ্গলবার সেখানে উপস্থিত ছিল ৫৫ জন শিশু।

সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নগরজীবনের ব্যস্ততায় এমন ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। অনেক কর্মজীবী মা-বাবা সন্তানকে নিরাপদ জায়গায় রেখে কাজে যেতে চান। কিন্তু দেশে এখনও পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন দিবাযত্ন কেন্দ্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মানসিক বিকাশে নিরাপদ, স্নেহপূর্ণ ও সামাজিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত এমন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম আরও বাড়ানো গেলে কর্মজীবী পরিবারগুলো উপকৃত হবে।

১৫ মিনিটের সফরে জমে ওঠে অন্যরকম সকাল

প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রবেশ করেন এবং প্রায় ১৫ মিনিটের বেশি সময় সেখানে অবস্থান করেন। বিদায়ের সময় শিশুদের দিকে হাত নেড়ে “টা টা” জানান তিনি। শিশুরাও হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে বিদায় দেয়।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক ব্যস্ততা, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা আর প্রশাসনিক কর্মসূচির ভিড়ে শিশুদের সঙ্গে কাটানো এই স্বল্প সময়টুকুই মঙ্গলবারের সকালকে অন্যরকম করে তোলে। আর সেই মুহূর্তের সরল আনন্দ এখন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায়।



“আজ তোমাদের সবার জন্মদিন”—বলেই শিশুদের সঙ্গে কেক কাটলেন প্রধানমন্ত্রী। ছোট্ট আরিবার মুখে তখন একটাই কথা, “আঙ্কেল খুব সুইট!”

রাজনীতির কঠিন ব্যস্ততার মাঝেও শিশুদের সঙ্গে এমন আবেগঘন মুহূর্ত ছুঁয়ে গেছে অনেককে। ❤️????????
বিস্তারিত সংবাদের লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে দেওয়া রইল।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর