চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকায় ঢাকামুখী লেনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাঁশবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মিনি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই ছাত্রীকে চাপা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। আহত দুই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরাও আন্দোলনে যোগ দেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে বাঁশ, গাছের ডাল ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধক ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। কিছু জায়গায় আগুন জ্বালাতেও দেখা যায়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
অবরোধে আটকে পড়া যাত্রীরা চরম ভোগান্তির কথা জানান। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের অনেককে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতে দেখা যায়। কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকা পড়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একজন বাসযাত্রী বলেন, “হঠাৎ সব গাড়ি থেমে যায়। পরে জানতে পারি দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক বন্ধ করা হয়েছে। গরমে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়েছে।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আহত দুই ছাত্রীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরেই যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। সড়কে নিরাপদ পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তারা সেখানে স্পিড ব্রেকার, ফুটওভার ব্রিজ কিংবা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনেরও দাবি তোলে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুলের সামনে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে চলাফেরা করছে। তাদের ভাষায়, “প্রতিবার দুর্ঘটনার পর প্রশাসন আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাস্তবে পরিবর্তন খুব কম দেখা যায়।”
খবর পেয়ে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ হক জানান, মহাসড়ক অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বাধ্যতামূলক গতিনিয়ন্ত্রণ, জেব্রা ক্রসিং, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তা না হলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।
তারা আরও বলছেন, দুর্ঘটনার পর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও এতে জরুরি সেবা ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। তাই দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দৃশ্যমান নিরাপত্তা উদ্যোগই পরিস্থিতি শান্ত রাখার মূল উপায় হতে পারে।
সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দুর্ঘটনায় আহত দুই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক বন্ধ থাকায় ঢাকামুখী লেনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাঁশবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মিনি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই ছাত্রীকে চাপা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। আহত দুই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরাও আন্দোলনে যোগ দেন।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে বাঁশ, গাছের ডাল ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধক ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। কিছু জায়গায় আগুন জ্বালাতেও দেখা যায়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
অবরোধে আটকে পড়া যাত্রীরা চরম ভোগান্তির কথা জানান। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের অনেককে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতে দেখা যায়। কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকা পড়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একজন বাসযাত্রী বলেন, “হঠাৎ সব গাড়ি থেমে যায়। পরে জানতে পারি দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক বন্ধ করা হয়েছে। গরমে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়েছে।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আহত দুই ছাত্রীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরেই যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। সড়কে নিরাপদ পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তারা সেখানে স্পিড ব্রেকার, ফুটওভার ব্রিজ কিংবা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনেরও দাবি তোলে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুলের সামনে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে চলাফেরা করছে। তাদের ভাষায়, “প্রতিবার দুর্ঘটনার পর প্রশাসন আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাস্তবে পরিবর্তন খুব কম দেখা যায়।”
খবর পেয়ে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ হক জানান, মহাসড়ক অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বাধ্যতামূলক গতিনিয়ন্ত্রণ, জেব্রা ক্রসিং, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তা না হলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।
তারা আরও বলছেন, দুর্ঘটনার পর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলেও এতে জরুরি সেবা ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। তাই দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দৃশ্যমান নিরাপত্তা উদ্যোগই পরিস্থিতি শান্ত রাখার মূল উপায় হতে পারে।
সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দুর্ঘটনায় আহত দুই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন