যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে আহতের পরিবার। গুরুতর আহত রবিউল ইসলাম উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও তাদের সহযোগীরা মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়।
আহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রবিউল ইসলাম নবীবনগর মাঠে নিজের ফুলক্ষেতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় নবীবনগর বাজার এলাকায় কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানতে চাইলে অভিযুক্তরা “পুরনো একটি বিরোধ নিয়ে কথা বলতে নেওয়া হচ্ছে” বলে জানায় বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরিবারের অভিযোগ, পরে তাকে নাভারণ ইউনিয়নের নিত্যানন্দকাঠি কালিয়ানী এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে মৃত ভেবে নবীবনগর সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে যশোরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানের হাড় ভেঙে গেছে। প্রতিবেদক এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আহতের পরিবারের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে রবিউল ইসলামের বিরোধ চলছিল। তাদের অভিযোগ, তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হতো এবং চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
পরিবারের একজন সদস্য বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তিনি আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। বাজারে উঠতেও ভয় পেতেন। কয়েকবার হুমকির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছিল।”
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আহতের স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর অভিযুক্তদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে পোস্ট করেন। একইসঙ্গে মামলা করতে গেলে বা হাসপাতালে দেখতে গেলে হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি পরিবারের।
তাদের ভাষ্য, এসব কারণে পরিবার এখনও থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা করতে পারেনি। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গদখালি বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু যুবকের নেতৃত্বে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ও অস্থিরতা চলছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময় মারামারি, চাঁদাবাজি ও সহিংস ঘটনার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “বাজারে সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে থাকে। সন্ধ্যার পর অনেকেই দ্রুত দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়।”
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় সংঘটিত একের পর এক সহিংস ঘটনার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে অপরাধীদের সাহস আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। থানায় মামলা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ আইনগত পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয়ভাবে ভয় ও অনিরাপত্তা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আহত ব্যক্তির চিকিৎসার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে আহতের পরিবার। গুরুতর আহত রবিউল ইসলাম উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও তাদের সহযোগীরা মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়।
আহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রবিউল ইসলাম নবীবনগর মাঠে নিজের ফুলক্ষেতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় নবীবনগর বাজার এলাকায় কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানতে চাইলে অভিযুক্তরা “পুরনো একটি বিরোধ নিয়ে কথা বলতে নেওয়া হচ্ছে” বলে জানায় বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরিবারের অভিযোগ, পরে তাকে নাভারণ ইউনিয়নের নিত্যানন্দকাঠি কালিয়ানী এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে মৃত ভেবে নবীবনগর সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে যশোরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানের হাড় ভেঙে গেছে। প্রতিবেদক এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আহতের পরিবারের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে রবিউল ইসলামের বিরোধ চলছিল। তাদের অভিযোগ, তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হতো এবং চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
পরিবারের একজন সদস্য বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তিনি আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। বাজারে উঠতেও ভয় পেতেন। কয়েকবার হুমকির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছিল।”
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আহতের স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর অভিযুক্তদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে পোস্ট করেন। একইসঙ্গে মামলা করতে গেলে বা হাসপাতালে দেখতে গেলে হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি পরিবারের।
তাদের ভাষ্য, এসব কারণে পরিবার এখনও থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা করতে পারেনি। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গদখালি বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু যুবকের নেতৃত্বে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ও অস্থিরতা চলছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন সময় মারামারি, চাঁদাবাজি ও সহিংস ঘটনার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “বাজারে সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে থাকে। সন্ধ্যার পর অনেকেই দ্রুত দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়।”
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় সংঘটিত একের পর এক সহিংস ঘটনার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে অপরাধীদের সাহস আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। থানায় মামলা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ আইনগত পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয়ভাবে ভয় ও অনিরাপত্তা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আহত ব্যক্তির চিকিৎসার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন