কোরবানির ঈদকে ঘিরে এবার ভিন্ন আবহে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় আয়োজন ‘আনন্দমেলা’। অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন অভিনেতা আফরান নিশো। অভিনয়ের বাইরে এবার পুরো আয়োজনের সঞ্চালনার দায়িত্ব সামলাতে দেখা যাবে তাকে। গান, নাচ, কৌতুক আর তারকাদের উপস্থিতিতে সাজানো এই বিশেষ অনুষ্ঠান ঈদের রাতে দর্শকদের জন্য বাড়তি বিনোদনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
ঈদের দিন রাত ১০টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে এই আয়োজন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসে উপভোগ করার মতো একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন অনুষ্ঠান হিসেবেই এবারের ‘আনন্দমেলা’ তৈরি করা হয়েছে।
এবারের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হতে যাচ্ছে কিংবদন্তি শিল্পীদের পরিবেশনা। বিশেষ কোরিওগ্রাফিতে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে রুনা লায়লার জনপ্রিয় গান ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না’। গানটির সঙ্গে নান্দনিক মঞ্চায়নের মাধ্যমে ভিন্ন এক আবহ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বেবী নাজনীন গেয়েছেন ‘কাল সারা রাত ছিল স্বপ্নের রাত’। এই পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনী এবং শাওন। পুরোনো দিনের জনপ্রিয় গানের সঙ্গে আধুনিক মঞ্চ পরিকল্পনা যুক্ত হওয়ায় অনুষ্ঠানটিতে নস্টালজিয়া ও নতুনত্ব—দুইয়েরই মিশেল থাকছে।
সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদও হাজির হচ্ছেন একটি বিশেষ পরিবেশনা নিয়ে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকের কথা মাথায় রেখেই শিল্পী নির্বাচন ও পরিবেশনার ধরন নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুধু পুরোনো গান নয়, এবারের আনন্দমেলায় থাকছে নতুন গানও। ‘কৃষ্ণচূড়া’ শিরোনামের একটি গান গেয়েছেন ন্যান্সি ও ইমরান। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল এবং সংগীত পরিচালনায় রয়েছেন ইমরান মাহমুদুল।
ঈদ উপলক্ষে নির্মিত এই গানটিতে প্রেম, আবেগ আর উৎসবের অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশনের বিশেষ আয়োজনে নতুন গান প্রকাশের প্রবণতা কিছুটা কমে গেলেও, এবারের অনুষ্ঠানে সেই ধারাকে আবারও সামনে আনার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের নৃত্য আয়োজনে রাখা হয়েছে আলাদা বৈচিত্র্য। ‘রূপনগরের রাজকন্যা’ থিমে নাচ পরিবেশন করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ। দীর্ঘ সময় পর তাকে এমন বিশেষ নৃত্য পরিবেশনায় দেখা যাবে বলে দর্শকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া মেহজাবীন চৌধুরী ও সাবিলা নূর অংশ নিয়েছেন ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ গানের নাচে। পুরো নৃত্য পরিকল্পনায় ছিলেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ও তার দল ‘নৃত্যভূমি’। মঞ্চসজ্জা ও পোশাকেও থাকছে উৎসবের ছাপ।
দর্শকদের সম্পৃক্ত করতে রাখা হয়েছে ‘রঙ’ নামে একটি বিশেষ পর্ব। সেখানে উপস্থিত থাকবেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই অংশে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি বিনোদনমূলক কিছু মুহূর্ত তুলে ধরা হবে।
শুধু গান-নাচেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এবারের আয়োজন। কয়েকজন জনপ্রিয় তারকাকে নিয়ে রাখা হয়েছে কুইজ পর্বও। এতে অংশ নিয়েছেন কেয়া পায়েল, আতিয়া আনিসা, জেফার রহমান, ফারহান আহমেদ জোভান, ফররুখ আহমেদ রেহান এবং খায়রুল বাশার।
এই অংশে তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং মজার কিছু প্রশ্নোত্তর দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে থাকছে কৌতুকশিল্পী আবু হেনা রনির পরিবেশনা, যা অনুষ্ঠানে বাড়তি প্রাণ যোগ করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
এ ছাড়া অভিনেতা ফারুক আহমেদ, শামীম জামান, মুকিত জাকারিয়া, সুমন এবং কৌতুকশিল্পী শাওনও অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন সেগমেন্টে।
আফরান নিশোকে সাধারণত দর্শকরা নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে দেখে অভ্যস্ত। তবে সময় সময় উপস্থাপক হিসেবেও তাকে দেখা গেছে। তার স্বাভাবিক কথা বলার ধরন এবং দর্শকের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতার কারণে এবারের আনন্দমেলায় তাকে ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, বর্তমানে টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোতে পরিচিত মুখের উপস্থাপনা দর্শক টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবে দর্শকরা এমন অনুষ্ঠানই বেশি পছন্দ করেন, যেখানে একই মঞ্চে একাধিক জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি থাকে।
একসময় ঈদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান মানেই ছিল পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদনের বড় মাধ্যম। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রসারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই আগ্রহে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবুও বিটিভির মতো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এখনো বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরোনো জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের তারকাদের একসঙ্গে উপস্থাপন করার কৌশল দর্শকদের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো অনুষ্ঠান নির্মাণের প্রবণতা টেলিভিশন বিনোদনের জন্য ইতিবাচক দিক বলেও মনে করা হচ্ছে।
আনন্দমেলার প্রযোজনায় রয়েছেন আফরোজা সুলতানা, মো. হাসান রিয়াদ, ইয়াসির আরাফাত ও ইয়াসমিন আক্তার। সংশ্লিষ্টদের আশা, গান, নাচ, কৌতুক, কুইজ এবং তারকাদের অংশগ্রহণে সাজানো এবারের আয়োজন ঈদের দর্শকদের জন্য আলাদা আনন্দ নিয়ে আসবে।বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে ঈদের দিন রাত ১০টার বাংলা সংবাদের পর।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
কোরবানির ঈদকে ঘিরে এবার ভিন্ন আবহে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় আয়োজন ‘আনন্দমেলা’। অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন অভিনেতা আফরান নিশো। অভিনয়ের বাইরে এবার পুরো আয়োজনের সঞ্চালনার দায়িত্ব সামলাতে দেখা যাবে তাকে। গান, নাচ, কৌতুক আর তারকাদের উপস্থিতিতে সাজানো এই বিশেষ অনুষ্ঠান ঈদের রাতে দর্শকদের জন্য বাড়তি বিনোদনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
ঈদের দিন রাত ১০টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে এই আয়োজন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসে উপভোগ করার মতো একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন অনুষ্ঠান হিসেবেই এবারের ‘আনন্দমেলা’ তৈরি করা হয়েছে।
এবারের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হতে যাচ্ছে কিংবদন্তি শিল্পীদের পরিবেশনা। বিশেষ কোরিওগ্রাফিতে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে রুনা লায়লার জনপ্রিয় গান ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেও না’। গানটির সঙ্গে নান্দনিক মঞ্চায়নের মাধ্যমে ভিন্ন এক আবহ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বেবী নাজনীন গেয়েছেন ‘কাল সারা রাত ছিল স্বপ্নের রাত’। এই পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী চাঁদনী এবং শাওন। পুরোনো দিনের জনপ্রিয় গানের সঙ্গে আধুনিক মঞ্চ পরিকল্পনা যুক্ত হওয়ায় অনুষ্ঠানটিতে নস্টালজিয়া ও নতুনত্ব—দুইয়েরই মিশেল থাকছে।
সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদও হাজির হচ্ছেন একটি বিশেষ পরিবেশনা নিয়ে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকের কথা মাথায় রেখেই শিল্পী নির্বাচন ও পরিবেশনার ধরন নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুধু পুরোনো গান নয়, এবারের আনন্দমেলায় থাকছে নতুন গানও। ‘কৃষ্ণচূড়া’ শিরোনামের একটি গান গেয়েছেন ন্যান্সি ও ইমরান। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল এবং সংগীত পরিচালনায় রয়েছেন ইমরান মাহমুদুল।
ঈদ উপলক্ষে নির্মিত এই গানটিতে প্রেম, আবেগ আর উৎসবের অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশনের বিশেষ আয়োজনে নতুন গান প্রকাশের প্রবণতা কিছুটা কমে গেলেও, এবারের অনুষ্ঠানে সেই ধারাকে আবারও সামনে আনার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের নৃত্য আয়োজনে রাখা হয়েছে আলাদা বৈচিত্র্য। ‘রূপনগরের রাজকন্যা’ থিমে নাচ পরিবেশন করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ। দীর্ঘ সময় পর তাকে এমন বিশেষ নৃত্য পরিবেশনায় দেখা যাবে বলে দর্শকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া মেহজাবীন চৌধুরী ও সাবিলা নূর অংশ নিয়েছেন ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ গানের নাচে। পুরো নৃত্য পরিকল্পনায় ছিলেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ও তার দল ‘নৃত্যভূমি’। মঞ্চসজ্জা ও পোশাকেও থাকছে উৎসবের ছাপ।
দর্শকদের সম্পৃক্ত করতে রাখা হয়েছে ‘রঙ’ নামে একটি বিশেষ পর্ব। সেখানে উপস্থিত থাকবেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই অংশে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি বিনোদনমূলক কিছু মুহূর্ত তুলে ধরা হবে।
শুধু গান-নাচেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এবারের আয়োজন। কয়েকজন জনপ্রিয় তারকাকে নিয়ে রাখা হয়েছে কুইজ পর্বও। এতে অংশ নিয়েছেন কেয়া পায়েল, আতিয়া আনিসা, জেফার রহমান, ফারহান আহমেদ জোভান, ফররুখ আহমেদ রেহান এবং খায়রুল বাশার।
এই অংশে তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং মজার কিছু প্রশ্নোত্তর দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে থাকছে কৌতুকশিল্পী আবু হেনা রনির পরিবেশনা, যা অনুষ্ঠানে বাড়তি প্রাণ যোগ করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
এ ছাড়া অভিনেতা ফারুক আহমেদ, শামীম জামান, মুকিত জাকারিয়া, সুমন এবং কৌতুকশিল্পী শাওনও অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন সেগমেন্টে।
আফরান নিশোকে সাধারণত দর্শকরা নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে দেখে অভ্যস্ত। তবে সময় সময় উপস্থাপক হিসেবেও তাকে দেখা গেছে। তার স্বাভাবিক কথা বলার ধরন এবং দর্শকের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতার কারণে এবারের আনন্দমেলায় তাকে ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, বর্তমানে টেলিভিশনের বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোতে পরিচিত মুখের উপস্থাপনা দর্শক টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবে দর্শকরা এমন অনুষ্ঠানই বেশি পছন্দ করেন, যেখানে একই মঞ্চে একাধিক জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি থাকে।
একসময় ঈদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান মানেই ছিল পরিবারকেন্দ্রিক বিনোদনের বড় মাধ্যম। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রসারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই আগ্রহে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবুও বিটিভির মতো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এখনো বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরোনো জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের তারকাদের একসঙ্গে উপস্থাপন করার কৌশল দর্শকদের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবার নিয়ে বসে দেখার মতো অনুষ্ঠান নির্মাণের প্রবণতা টেলিভিশন বিনোদনের জন্য ইতিবাচক দিক বলেও মনে করা হচ্ছে।
আনন্দমেলার প্রযোজনায় রয়েছেন আফরোজা সুলতানা, মো. হাসান রিয়াদ, ইয়াসির আরাফাত ও ইয়াসমিন আক্তার। সংশ্লিষ্টদের আশা, গান, নাচ, কৌতুক, কুইজ এবং তারকাদের অংশগ্রহণে সাজানো এবারের আয়োজন ঈদের দর্শকদের জন্য আলাদা আনন্দ নিয়ে আসবে।বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে ঈদের দিন রাত ১০টার বাংলা সংবাদের পর।

আপনার মতামত লিখুন