গাইবান্ধা থেকে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য আনা আটটি গরু ছিনতাইয়ের একদিনের মাথায় গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গরুর মধ্যে সাতটি জীবিত থাকলেও একটি গরু জবাই করা অবস্থায় কসাইখানা থেকে মাংস হিসেবে পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব গরু উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার গভীর রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোর এলাকায় গরুবোঝাই একটি পিকআপ থামিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধর ও বেঁধে রেখে গরু ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, গাইবান্ধার বরাতখালী গরুর হাট থেকে আটটি গরু কিনে তারা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর আশপাশের বাজারে গরুর চাহিদা বাড়তে শুরু করায় তারা আগেভাগেই পশু নিয়ে যাচ্ছিলেন।
শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে তাদের বহনকারী পিকআপটি গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় পৌঁছালে একটি হাইএস মাইক্রোবাস সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে গাড়িটি ঘিরে ফেলে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডাকাতরা প্রথমে চালক ও তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশের ঝোপে ফেলে রেখে যায়। এরপর পিকআপে থাকা সব গরু নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে তারা।
এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা হামলা করে। সবাইকে ভয় দেখিয়ে মারধর করে। পরে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে গরুগুলো নিয়ে যায়। অনেকক্ষণ পরে স্থানীয় মানুষ আমাদের উদ্ধার করে।”
ঘটনার পর আহত ব্যবসায়ী ও চালক স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কালিয়াকৈর থানায় যান। সেখানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ডাকাতির ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কিছু অংশে গভীর রাতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রায়ই উদ্বেগ থাকে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে এলে গরুবাহী ট্রাক ও পিকআপকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ পুরোনো।
তবে পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে দ্রুত অভিযান চালানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামতও পাওয়া গেছে।
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, “আজ দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে রিফাত ইলেকট্রনিক্সের সামনে থেকে সাতটি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি গরুর জবাই করা মাংসও উদ্ধার করা হয়েছে।”
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। জবাই করা গরুটির মাংস দ্রুত বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযানের সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উদ্ধার হওয়া গরু এবং আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে, যারা ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরুবাহী যানবাহন নজরদারিতে রাখত। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
প্রতি বছর কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের বিভিন্ন সড়কে গরু ব্যবসায়ীদের চলাচল বেড়ে যায়। এ সময় রাতের আঁধারে ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা পশুবাহী ট্রাক আটকানোর ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে দূরবর্তী জেলা থেকে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পশু আনতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়।
গরু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মহাসড়কে টহল বাড়ানো হলেও অনেক এলাকায় এখনও দুর্বল নিরাপত্তার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থ ও মূল্যবান পশু নিয়ে চলাচল করায় তারা সহজ টার্গেটে পরিণত হন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির মৌসুমে পশুবাহী পরিবহনের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত টহল জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তঃজেলা সড়কে সিসিটিভি নজরদারি ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাও বাড়ানো প্রয়োজন।
উদ্ধার অভিযান সফল হলেও আতঙ্ক কাটেনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, প্রাণে বেঁচে ফিরলেও ওই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সহজে ভুলতে পারবেন না।
এক ব্যবসায়ী বলেন, “গরু উদ্ধার হয়েছে, এটা স্বস্তির। কিন্তু আমরা যেভাবে আক্রান্ত হয়েছি, তাতে এখন রাস্তায় গরু আনতে ভয় লাগছে।”
পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুরো ঘটনার নেপথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া গরুগুলো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
গাইবান্ধা থেকে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য আনা আটটি গরু ছিনতাইয়ের একদিনের মাথায় গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গরুর মধ্যে সাতটি জীবিত থাকলেও একটি গরু জবাই করা অবস্থায় কসাইখানা থেকে মাংস হিসেবে পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব গরু উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার গভীর রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোর এলাকায় গরুবোঝাই একটি পিকআপ থামিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধর ও বেঁধে রেখে গরু ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, গাইবান্ধার বরাতখালী গরুর হাট থেকে আটটি গরু কিনে তারা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর আশপাশের বাজারে গরুর চাহিদা বাড়তে শুরু করায় তারা আগেভাগেই পশু নিয়ে যাচ্ছিলেন।
শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে তাদের বহনকারী পিকআপটি গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় পৌঁছালে একটি হাইএস মাইক্রোবাস সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে গাড়িটি ঘিরে ফেলে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডাকাতরা প্রথমে চালক ও তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশের ঝোপে ফেলে রেখে যায়। এরপর পিকআপে থাকা সব গরু নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে তারা।
এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা হামলা করে। সবাইকে ভয় দেখিয়ে মারধর করে। পরে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে গরুগুলো নিয়ে যায়। অনেকক্ষণ পরে স্থানীয় মানুষ আমাদের উদ্ধার করে।”
ঘটনার পর আহত ব্যবসায়ী ও চালক স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কালিয়াকৈর থানায় যান। সেখানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ডাকাতির ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কিছু অংশে গভীর রাতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রায়ই উদ্বেগ থাকে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে এলে গরুবাহী ট্রাক ও পিকআপকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ পুরোনো।
তবে পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে দ্রুত অভিযান চালানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামতও পাওয়া গেছে।
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, “আজ দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে রিফাত ইলেকট্রনিক্সের সামনে থেকে সাতটি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি গরুর জবাই করা মাংসও উদ্ধার করা হয়েছে।”
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। জবাই করা গরুটির মাংস দ্রুত বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযানের সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উদ্ধার হওয়া গরু এবং আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে, যারা ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরুবাহী যানবাহন নজরদারিতে রাখত। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
প্রতি বছর কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের বিভিন্ন সড়কে গরু ব্যবসায়ীদের চলাচল বেড়ে যায়। এ সময় রাতের আঁধারে ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা পশুবাহী ট্রাক আটকানোর ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে দূরবর্তী জেলা থেকে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পশু আনতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়।
গরু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মহাসড়কে টহল বাড়ানো হলেও অনেক এলাকায় এখনও দুর্বল নিরাপত্তার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থ ও মূল্যবান পশু নিয়ে চলাচল করায় তারা সহজ টার্গেটে পরিণত হন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির মৌসুমে পশুবাহী পরিবহনের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত টহল জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তঃজেলা সড়কে সিসিটিভি নজরদারি ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাও বাড়ানো প্রয়োজন।
উদ্ধার অভিযান সফল হলেও আতঙ্ক কাটেনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, প্রাণে বেঁচে ফিরলেও ওই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সহজে ভুলতে পারবেন না।
এক ব্যবসায়ী বলেন, “গরু উদ্ধার হয়েছে, এটা স্বস্তির। কিন্তু আমরা যেভাবে আক্রান্ত হয়েছি, তাতে এখন রাস্তায় গরু আনতে ভয় লাগছে।”
পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুরো ঘটনার নেপথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া গরুগুলো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন