নওগাঁর আত্রাইয়ে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে গভীর রাতে যানবাহন থামিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাকাতরা রাস্তার ওপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে একের পর এক যানবাহন আটকে যাত্রী ও চালকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত উপজেলার থাওইপাড়ার দক্ষিণে ভাঙাব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহন এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকাতদল প্রথমে মহাসড়কের ওপর নৌকা ও ভাজা বিক্রেতাদের ব্যবহৃত পরিত্যক্ত টেবিল ও বিভিন্ন জিনিস ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। ফলে চলন্ত যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে গতি কমিয়ে থেমে যায়।
এরপর কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি হঠাৎ বিভিন্ন গাড়ির সামনে এসে চালক ও যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনাস্থলে আটকা পড়া কয়েকজন চালক জানান, রাতের অন্ধকার আর নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়েই ডাকাতদল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেকেই আতঙ্কে গাড়ি ফেলে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ডাকাতদলের কবলে পড়েন সৌদি আরব ফেরত প্রবাসী আশরাফুল ইসলামও। তার পরিবারের দাবি, দেশে ফেরার পর নাটোর থেকে সিএনজিযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
আশরাফুল ইসলামের বাবা সাইদুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে বিদেশ থেকে এসে বাড়ির পথে ছিল। ভাঙাব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন অস্ত্রধারী তাদের গাড়ি থামায়। পরে ছেলের কাছ থেকে একটি আইফোন, আরেকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনার পর পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। রাতের বেলায় ওই সড়কে চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঢাকা থেকে মাইক্রোবাস চালিয়ে আসা হাবিবুর রহমান নামের এক চালক জানান, তিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এসে সামনে অসংখ্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
তার ভাষায়, “হঠাৎ কয়েকজন লোক আমার গাড়ি ঘিরে ধরে। তারা অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখাতে থাকে। পরে আমার কাছে থাকা প্রায় চার হাজার টাকা নিয়ে যায়। তখন চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
আরও কয়েকজন যাত্রী দাবি করেছেন, ডাকাতরা খুব সংগঠিতভাবে কাজ করছিল। কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাকে ভয় দেখানো হচ্ছিল।
ঘটনার পর এক মাইক্রোবাস চালক অভিযোগ করেন, তিনি আক্রান্ত হওয়ার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। তার দাবি, ফোনে আত্রাই থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে বলা হয় ঘটনাস্থলটি তাদের এলাকার মধ্যে পড়ে না।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আত্রাই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই ইফতেখার। তিনি বলেন, “ওই সময় আমাদের থানায় ৯৯৯ থেকে এমন কোনো কল আসেনি। বরং ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযান শুরু করে।”
পুলিশের এই বক্তব্য ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ঘটনার পর সোমবার সকালে নওগাঁ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এসআই ইফতেখার জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের কিছু অংশ রাতে বেশ নির্জন থাকে। পর্যাপ্ত টহল না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবহন চালক ও যাত্রীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাতের বেলায় মহাসড়কে ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে দূরপাল্লার চালকরা আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি স্থাপন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গভীর রাতে যাত্রীবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার পর সোমবারও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একসঙ্গে এতগুলো যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই ঘটেছে।
যাত্রীরা চান, দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। একইসঙ্গে মহাসড়কে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত এগিয়ে চলছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
নওগাঁর আত্রাইয়ে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে গভীর রাতে যানবাহন থামিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাকাতরা রাস্তার ওপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে একের পর এক যানবাহন আটকে যাত্রী ও চালকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ২টা পর্যন্ত উপজেলার থাওইপাড়ার দক্ষিণে ভাঙাব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহন এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডাকাতদল প্রথমে মহাসড়কের ওপর নৌকা ও ভাজা বিক্রেতাদের ব্যবহৃত পরিত্যক্ত টেবিল ও বিভিন্ন জিনিস ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। ফলে চলন্ত যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে গতি কমিয়ে থেমে যায়।
এরপর কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি হঠাৎ বিভিন্ন গাড়ির সামনে এসে চালক ও যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনাস্থলে আটকা পড়া কয়েকজন চালক জানান, রাতের অন্ধকার আর নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়েই ডাকাতদল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেকেই আতঙ্কে গাড়ি ফেলে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ডাকাতদলের কবলে পড়েন সৌদি আরব ফেরত প্রবাসী আশরাফুল ইসলামও। তার পরিবারের দাবি, দেশে ফেরার পর নাটোর থেকে সিএনজিযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
আশরাফুল ইসলামের বাবা সাইদুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে বিদেশ থেকে এসে বাড়ির পথে ছিল। ভাঙাব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর কয়েকজন অস্ত্রধারী তাদের গাড়ি থামায়। পরে ছেলের কাছ থেকে একটি আইফোন, আরেকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনার পর পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। রাতের বেলায় ওই সড়কে চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঢাকা থেকে মাইক্রোবাস চালিয়ে আসা হাবিবুর রহমান নামের এক চালক জানান, তিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এসে সামনে অসংখ্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
তার ভাষায়, “হঠাৎ কয়েকজন লোক আমার গাড়ি ঘিরে ধরে। তারা অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখাতে থাকে। পরে আমার কাছে থাকা প্রায় চার হাজার টাকা নিয়ে যায়। তখন চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
আরও কয়েকজন যাত্রী দাবি করেছেন, ডাকাতরা খুব সংগঠিতভাবে কাজ করছিল। কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাকে ভয় দেখানো হচ্ছিল।
ঘটনার পর এক মাইক্রোবাস চালক অভিযোগ করেন, তিনি আক্রান্ত হওয়ার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। তার দাবি, ফোনে আত্রাই থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে বলা হয় ঘটনাস্থলটি তাদের এলাকার মধ্যে পড়ে না।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আত্রাই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই ইফতেখার। তিনি বলেন, “ওই সময় আমাদের থানায় ৯৯৯ থেকে এমন কোনো কল আসেনি। বরং ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযান শুরু করে।”
পুলিশের এই বক্তব্য ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ঘটনার পর সোমবার সকালে নওগাঁ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এসআই ইফতেখার জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের কিছু অংশ রাতে বেশ নির্জন থাকে। পর্যাপ্ত টহল না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবহন চালক ও যাত্রীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাতের বেলায় মহাসড়কে ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে দূরপাল্লার চালকরা আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি স্থাপন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গভীর রাতে যাত্রীবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার পর সোমবারও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একসঙ্গে এতগুলো যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই ঘটেছে।
যাত্রীরা চান, দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। একইসঙ্গে মহাসড়কে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত এগিয়ে চলছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন