ফরিদপুরের ভাঙ্গা অংশে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে আবারও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে আতাদি ফ্লাইওভার এলাকায় একটি মাছবাহী ট্রাক সামনে থাকা আরেকটি ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজন।
একই ধরনের দুর্ঘটনায় গত চার দিনে এই এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা অংশে মোট ছয়জন নিহত হওয়ায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলার বেপরোয়া গতি ও ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে আতাদি ফ্লাইওভারসংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী গাছের চারাবোঝাই একটি ট্রাক চলছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা মাছবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটিকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার পর মাছবাহী ট্রাকটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে ট্রাকে থাকা দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই মো. সোহেল খান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা মাছবাহী ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রেখেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা অংশে সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই ধরনের সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিয়া ফ্লাইওভারের ওপরে একটি বড় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ছোট একটি কাভার্ড ভ্যান উল্টে যায়। সেই ঘটনায় নিহত হন ছোট কাভার্ড ভ্যানটির চালক ও তাঁর সহকারী।
এরপর শনিবার ভোর ৪টার দিকে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে দ্রুতগতির একটি বাস ট্রাককে ধাক্কা দিলে ট্রাকচালক ও তাঁর বাবা নিহত হন।
সর্বশেষ সোমবারের দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কেন একই এলাকায় বারবার ভোরের দিকে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, গভীর রাত ও ভোরের দিকে এক্সপ্রেসওয়েতে অনেক যানবাহন অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক ও বাসের চালকদের মধ্যে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপ থাকে।
একাধিক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় টানা গাড়ি চালানো, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং সময়মতো পণ্য পৌঁছানোর চাপ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন মালিক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের অনেকেই এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা অংশে আরও কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিশেষ করে ভোরের সময় ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
কেউ কেউ বলছেন, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় না রেখে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকের প্রবণতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
সড়ক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রাস্তা প্রশস্ত বা আধুনিক হলেই দুর্ঘটনা কমে না। চালকদের প্রশিক্ষণ, বিশ্রাম নিশ্চিত করা, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত মনিটরিংও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহাসড়ক বলা হলেও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলো নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন সামনে আনছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোরের দিকে কম যানজট থাকায় অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।
এছাড়া ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব না মানা, ক্লান্তি এবং ঘুমঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিষয়গুলোও তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকদের তথ্যও যাচাই করা হবে।
এদিকে টানা কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনায় এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা জোরদার এবং ভোরবেলায় বিশেষ নজরদারির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে হবে না; বরং ঝুঁকিপূর্ণ সময় ও এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা অংশে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে আবারও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে আতাদি ফ্লাইওভার এলাকায় একটি মাছবাহী ট্রাক সামনে থাকা আরেকটি ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজন।
একই ধরনের দুর্ঘটনায় গত চার দিনে এই এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা অংশে মোট ছয়জন নিহত হওয়ায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলার বেপরোয়া গতি ও ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে আতাদি ফ্লাইওভারসংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী গাছের চারাবোঝাই একটি ট্রাক চলছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা মাছবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটিকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার পর মাছবাহী ট্রাকটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে ট্রাকে থাকা দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই মো. সোহেল খান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা মাছবাহী ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রেখেছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা অংশে সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই ধরনের সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিয়া ফ্লাইওভারের ওপরে একটি বড় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ছোট একটি কাভার্ড ভ্যান উল্টে যায়। সেই ঘটনায় নিহত হন ছোট কাভার্ড ভ্যানটির চালক ও তাঁর সহকারী।
এরপর শনিবার ভোর ৪টার দিকে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে দ্রুতগতির একটি বাস ট্রাককে ধাক্কা দিলে ট্রাকচালক ও তাঁর বাবা নিহত হন।
সর্বশেষ সোমবারের দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কেন একই এলাকায় বারবার ভোরের দিকে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, গভীর রাত ও ভোরের দিকে এক্সপ্রেসওয়েতে অনেক যানবাহন অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক ও বাসের চালকদের মধ্যে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপ থাকে।
একাধিক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় টানা গাড়ি চালানো, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং সময়মতো পণ্য পৌঁছানোর চাপ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন মালিক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের অনেকেই এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা অংশে আরও কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিশেষ করে ভোরের সময় ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
কেউ কেউ বলছেন, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় না রেখে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকের প্রবণতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
সড়ক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রাস্তা প্রশস্ত বা আধুনিক হলেই দুর্ঘটনা কমে না। চালকদের প্রশিক্ষণ, বিশ্রাম নিশ্চিত করা, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত মনিটরিংও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহাসড়ক বলা হলেও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলো নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন সামনে আনছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোরের দিকে কম যানজট থাকায় অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।
এছাড়া ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব না মানা, ক্লান্তি এবং ঘুমঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিষয়গুলোও তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকদের তথ্যও যাচাই করা হবে।
এদিকে টানা কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনায় এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা জোরদার এবং ভোরবেলায় বিশেষ নজরদারির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে হবে না; বরং ঝুঁকিপূর্ণ সময় ও এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন