দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

২৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান উদ্ধার, কী ঘটেছিল এই সময়ে?

রাঙ্গুনিয়ায় ওমানে নিহত ৪ ভাইকে পাশাপাশি দাফন, জানাজা পড়ালেন একমাত্র জীবিত ভাই

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, আইসিইউ রোগীর মৃত্যু; আহত ৫

ডিএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা: ঢাকায় ‘মব’ ও গণপিটুনি বরদাশত নয়, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বজনদের সংঘর্ষ, দুই যুবককে আটকে রাখার অভিযোগ

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: স্বামীকে পালাতে সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার স্ত্রী স্বপ্না

মিরপুরে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে হত্যা: ওয়াশরুমে মিলল নিথর দেহ, ক্ষোভে উত্তাল এলাকা

মণিরামপুরে পুলিশের অভিযানে তিন যুবক আটক, উদ্ধার গাঁজা; মাদক বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মণিরামপুরে পুলিশের অভিযানে তিন যুবক আটক, উদ্ধার গাঁজা; মাদক বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
মণিরামপুরে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ আটক তিন যুবক।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে মোট কয়েকটি পুরিয়ায় থাকা গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) গভীর রাতে মণিরামপুর থানার অধীন নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ বাড়তে থাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


মনোহরপুর ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান

পুলিশ সূত্র বলছে, রাতের অভিযানে নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অলোক কুমার ও এএসআই শাহজাহান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমারঘাটার পশ্চিমপাড়া এলাকায় যান। সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় বাসিন্দা শাহাজাহান বিশ্বাসের ছেলে আলামিন (২৬) কে আটক করা হয়।

পরে তাকে তল্লাশি করে প্রায় ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ঘটনাস্থলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

তবে এ বিষয়ে আটক ব্যক্তির পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

পৃথক দুই এলাকায় আরও দুইজন আটক

একই রাতে মণিরামপুর উপজেলার আরও দুই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাহিম হোসেন (২০) ও মো. আব্দুল্লাহ নামে আরও দুই যুবককে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকেও এক পুরিয়া করে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে ফাহিম হোসেন উপজেলার দত্তকোনা গ্রামের অদুত মোড়লের ছেলে এবং মো. আব্দুল্লাহ বালিদহ গ্রামের মৃত উজির আলী গাজীর ছেলে। পুলিশের দাবি, স্থানীয় সূত্র ও নজরদারির ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি মণিরামপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গোপনে মাদক সেবন ও বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে কিছু তরুণের মধ্যে গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের প্রতি আসক্তি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে পরিবার ও সামাজিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মনোহরপুর ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ে। অনেক সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেলেও ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাদের মতে, নিয়মিত পুলিশি অভিযান না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।

একজন স্থানীয় অভিভাবক বলেন, “আগে গ্রামে এমন পরিস্থিতি খুব একটা দেখা যেত না। এখন অনেক তরুণ আড্ডার নামে খারাপ পথে যাচ্ছে। পরিবার থেকেও নজরদারি বাড়ানো দরকার।”

আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, মাদক ব্যবসায়ীরা সাধারণত গোপনে কাজ করে। তারা কিশোর ও বেকার তরুণদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগও জরুরি হয়ে পড়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে। তিনি জানান, মাদক কারবারি কিংবা সেবনকারী—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

ওসি আরও বলেন, “আমরা নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছি। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি সাধারণ মানুষকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান। কোনো এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।

সামাজিক প্রভাব নিয়ে বাড়ছে আলোচনা

বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, মাদক শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। গ্রামীণ জনপদেও এখন মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একাংশ নেশায় জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পরিবার, শিক্ষা এবং স্থানীয় সামাজিক পরিবেশে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও নজর দিতে হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।


এলাকায় চাঞ্চল্য, অভিযানে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা

এই অভিযানের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই পুলিশের এমন তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে।

তবে কয়েকজন বাসিন্দা মনে করছেন, বড় মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান নয়, মাদকের উৎস শনাক্ত করাও জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।

বর্তমানে আটক তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগামী দিনগুলোতে উপজেলাজুড়ে আরও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিষয় : ভোলা মাদকবিরোধী অভিযান যশোর সংবাদ মণিরামপুরে মাদক অভিযান গাঁজাসহ আটক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


মণিরামপুরে পুলিশের অভিযানে তিন যুবক আটক, উদ্ধার গাঁজা; মাদক বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে মোট কয়েকটি পুরিয়ায় থাকা গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) গভীর রাতে মণিরামপুর থানার অধীন নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ বাড়তে থাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


মনোহরপুর ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান

পুলিশ সূত্র বলছে, রাতের অভিযানে নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অলোক কুমার ও এএসআই শাহজাহান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমারঘাটার পশ্চিমপাড়া এলাকায় যান। সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় বাসিন্দা শাহাজাহান বিশ্বাসের ছেলে আলামিন (২৬) কে আটক করা হয়।

পরে তাকে তল্লাশি করে প্রায় ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ঘটনাস্থলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

তবে এ বিষয়ে আটক ব্যক্তির পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

পৃথক দুই এলাকায় আরও দুইজন আটক

একই রাতে মণিরামপুর উপজেলার আরও দুই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাহিম হোসেন (২০) ও মো. আব্দুল্লাহ নামে আরও দুই যুবককে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকেও এক পুরিয়া করে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে ফাহিম হোসেন উপজেলার দত্তকোনা গ্রামের অদুত মোড়লের ছেলে এবং মো. আব্দুল্লাহ বালিদহ গ্রামের মৃত উজির আলী গাজীর ছেলে। পুলিশের দাবি, স্থানীয় সূত্র ও নজরদারির ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।

তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি মণিরামপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গোপনে মাদক সেবন ও বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে কিছু তরুণের মধ্যে গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের প্রতি আসক্তি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে পরিবার ও সামাজিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মনোহরপুর ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ে। অনেক সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেলেও ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তাদের মতে, নিয়মিত পুলিশি অভিযান না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।

একজন স্থানীয় অভিভাবক বলেন, “আগে গ্রামে এমন পরিস্থিতি খুব একটা দেখা যেত না। এখন অনেক তরুণ আড্ডার নামে খারাপ পথে যাচ্ছে। পরিবার থেকেও নজরদারি বাড়ানো দরকার।”

আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, মাদক ব্যবসায়ীরা সাধারণত গোপনে কাজ করে। তারা কিশোর ও বেকার তরুণদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগও জরুরি হয়ে পড়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে। তিনি জানান, মাদক কারবারি কিংবা সেবনকারী—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

ওসি আরও বলেন, “আমরা নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছি। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি সাধারণ মানুষকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান। কোনো এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।

সামাজিক প্রভাব নিয়ে বাড়ছে আলোচনা

বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, মাদক শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। গ্রামীণ জনপদেও এখন মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একাংশ নেশায় জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পরিবার, শিক্ষা এবং স্থানীয় সামাজিক পরিবেশে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও নজর দিতে হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।


এলাকায় চাঞ্চল্য, অভিযানে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা

এই অভিযানের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই পুলিশের এমন তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে।

তবে কয়েকজন বাসিন্দা মনে করছেন, বড় মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান নয়, মাদকের উৎস শনাক্ত করাও জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।

বর্তমানে আটক তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগামী দিনগুলোতে উপজেলাজুড়ে আরও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর