ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই অস্বস্তিতে পড়ছেন বলে দাবি উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শুরুতে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় যুদ্ধে জড়ালেও এখন পরিস্থিতির জটিলতা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধ থামেনি, তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরে এখন আলোচনা বেশি— কীভাবে পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া যায়।
বিশেষ করে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমত—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সামনে কঠিন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানো এবং কিছু সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক ‘কৌশলগত পিছু হটা’ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই সংঘাত নিয়ে বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। কারণ, তিনি শুরুতে ধারণা করেছিলেন দ্রুত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে তেহরান এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন— প্রেসিডেন্ট মনে করেন, যেকোনো ধরনের সমঝোতাকেই তিনি রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় পরিস্থিতি তার প্রত্যাশামতো এগোয়নি।
এদিকে রিপাবলিকান শিবিরেও অস্বস্তি বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে যুদ্ধের কারণে ভোটারদের একাংশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যদিও কয়েক দফা সীমিত চলাচল চালু হয়েছিল, তারপরও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে পরিচিত একটি সামরিক অভিযান স্থগিত রাখে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে একই সময়ে নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও এসেছে ওয়াশিংটনের দিক থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধের প্রশ্ন শুধু সামরিক বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই রুট দিয়ে হওয়ায় যে কোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৪০ দিনের মাথায় দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠকও হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা শেষে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেহরানের কাছে একটি সমঝোতা প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। এখন সেই প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ইরানের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, তারা বাইরের চাপের মুখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ইরান কৌশলগতভাবে সময় নিচ্ছে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প শুরুতে ইরান পরিস্থিতিকে ভেনেজুয়েলার মতো সহজভাবে দেখেছিলেন। তার ধারণা ছিল, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে তেহরানের ক্ষমতাকাঠামো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। পরে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও প্রভাবিত হয়।
যদিও দুই পক্ষের দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা কঠিন, তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
এই যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক জীবনেও। বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, বাণিজ্যিক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত চলতে থাকলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির দাম রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
একটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান কয়েক মাস পর্যন্ত চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে। ফলে দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তেহরান এখন যুদ্ধকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি ধরে রাখার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। বাইরের চাপকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী অবস্থান আরও জোরালো করার চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, ইরান অতীতেও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ কৌশল নিয়েছে। এবারও একই পথ অনুসরণ করা হতে পারে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সামরিক প্রস্তুতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি যে কোনো সময় নতুন মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— রাজনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে কীভাবে সংঘাত থেকে বের হওয়া যায়। অন্যদিকে ইরানও আপাতত আপসের তাড়াহুড়া দেখাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে। তবে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলে সংঘাত দীর্ঘ হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই অস্বস্তিতে পড়ছেন বলে দাবি উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শুরুতে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় যুদ্ধে জড়ালেও এখন পরিস্থিতির জটিলতা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধ থামেনি, তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরে এখন আলোচনা বেশি— কীভাবে পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া যায়।
বিশেষ করে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমত—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সামনে কঠিন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানো এবং কিছু সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক ‘কৌশলগত পিছু হটা’ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই সংঘাত নিয়ে বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। কারণ, তিনি শুরুতে ধারণা করেছিলেন দ্রুত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে তেহরান এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন— প্রেসিডেন্ট মনে করেন, যেকোনো ধরনের সমঝোতাকেই তিনি রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় পরিস্থিতি তার প্রত্যাশামতো এগোয়নি।
এদিকে রিপাবলিকান শিবিরেও অস্বস্তি বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে যুদ্ধের কারণে ভোটারদের একাংশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যদিও কয়েক দফা সীমিত চলাচল চালু হয়েছিল, তারপরও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে পরিচিত একটি সামরিক অভিযান স্থগিত রাখে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে একই সময়ে নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও এসেছে ওয়াশিংটনের দিক থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বা অবরোধের প্রশ্ন শুধু সামরিক বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই রুট দিয়ে হওয়ায় যে কোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৪০ দিনের মাথায় দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠকও হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা শেষে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেহরানের কাছে একটি সমঝোতা প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। এখন সেই প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ইরানের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, তারা বাইরের চাপের মুখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ইরান কৌশলগতভাবে সময় নিচ্ছে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প শুরুতে ইরান পরিস্থিতিকে ভেনেজুয়েলার মতো সহজভাবে দেখেছিলেন। তার ধারণা ছিল, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে তেহরানের ক্ষমতাকাঠামো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। পরে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও প্রভাবিত হয়।
যদিও দুই পক্ষের দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা কঠিন, তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
এই যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেসামরিক জীবনেও। বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, বাণিজ্যিক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত চলতে থাকলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির দাম রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
একটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান কয়েক মাস পর্যন্ত চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে। ফলে দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তেহরান এখন যুদ্ধকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি ধরে রাখার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। বাইরের চাপকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী অবস্থান আরও জোরালো করার চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারা বলছেন, ইরান অতীতেও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ কৌশল নিয়েছে। এবারও একই পথ অনুসরণ করা হতে পারে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সামরিক প্রস্তুতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি যে কোনো সময় নতুন মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— রাজনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে কীভাবে সংঘাত থেকে বের হওয়া যায়। অন্যদিকে ইরানও আপাতত আপসের তাড়াহুড়া দেখাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে। তবে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলে সংঘাত দীর্ঘ হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন