রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা বনানী। কিন্তু এই ভিআইপি এলাকার মধ্যেই কড়াইল ও সাততলা বস্তিকে কেন্দ্র করে নানা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এখানে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, অথচ কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।
সূত্র জানায়, কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তি-কে ঘিরেই মূলত অপরাধের বিস্তার। এসব এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি হলেও অপরাধী চক্র সেখানে আস্তানা গেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসা, চোরাই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ উঠেছে, এসব কর্মকাণ্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয় এবং এতে পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য জড়িত থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তার ভাষ্য, এলাকায় সব ধরনের মানুষ বসবাস করে, তাই কিছু অপরাধ ঘটতেই পারে, তবে পুলিশ সবসময় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বনানীর বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এতে পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় হয়, যা একটি নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত।
এছাড়া বনানী ২৩ নম্বর রোড সংলগ্ন একটি নার্সারির ভেতরে গোপনে জুয়ার আসর ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় সাধারণ দোকান থাকলেও রাতে সেখানে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। গভীর রাতে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
একইভাবে আমতলী, কাকলী এবং সৈনিক ক্লাব এলাকা-সংলগ্ন এলাকাতেও ছিনতাই ও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এসব ঘটনায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলেও তা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায় না—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, পুলিশ বলছে তারা নিয়মিত টহল ও অভিযান চালাচ্ছে। তবে জনবল সংকট, জায়গার অভাবসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, থানার নিজস্ব অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে—যেমন পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকা, অফিস স্পেস সংকট ইত্যাদি।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, রাজধানীর বস্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বড় শহরের বস্তিতে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম থাকলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে, বনানী এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে নিরাপত্তা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এই এলাকায় বিদেশি দূতাবাস, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বনানী থানার আওতাধীন এলাকাগুলোতে অপরাধ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৫
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা বনানী। কিন্তু এই ভিআইপি এলাকার মধ্যেই কড়াইল ও সাততলা বস্তিকে কেন্দ্র করে নানা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এখানে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, অথচ কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।
সূত্র জানায়, কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তি-কে ঘিরেই মূলত অপরাধের বিস্তার। এসব এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি হলেও অপরাধী চক্র সেখানে আস্তানা গেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসা, চোরাই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ উঠেছে, এসব কর্মকাণ্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয় এবং এতে পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য জড়িত থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তার ভাষ্য, এলাকায় সব ধরনের মানুষ বসবাস করে, তাই কিছু অপরাধ ঘটতেই পারে, তবে পুলিশ সবসময় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বনানীর বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড। এতে পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় হয়, যা একটি নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত।
এছাড়া বনানী ২৩ নম্বর রোড সংলগ্ন একটি নার্সারির ভেতরে গোপনে জুয়ার আসর ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় সাধারণ দোকান থাকলেও রাতে সেখানে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। গভীর রাতে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
একইভাবে আমতলী, কাকলী এবং সৈনিক ক্লাব এলাকা-সংলগ্ন এলাকাতেও ছিনতাই ও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এসব ঘটনায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলেও তা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায় না—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, পুলিশ বলছে তারা নিয়মিত টহল ও অভিযান চালাচ্ছে। তবে জনবল সংকট, জায়গার অভাবসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, থানার নিজস্ব অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে—যেমন পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকা, অফিস স্পেস সংকট ইত্যাদি।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, রাজধানীর বস্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বড় শহরের বস্তিতে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম থাকলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে, বনানী এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে নিরাপত্তা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এই এলাকায় বিদেশি দূতাবাস, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বনানী থানার আওতাধীন এলাকাগুলোতে অপরাধ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন