আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ব্যাংক হিসাব নিয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তার নামে এবং যৌথ নামে থাকা ৯১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের হিসাব তলব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (আজ) এনবিআরের আয়কর বিভাগের রাজধানীর কর অঞ্চল-১৫ থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২০০ অনুযায়ী এনবিআর এই তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা রাখে। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই শেখ সেলিমের নামে বা তার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। শুধু সাধারণ হিসাব নয়, এর সঙ্গে তার ব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এনবিআর সাধারণত এমন পদক্ষেপ নেয় যখন কোনো করদাতার আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাই করার প্রয়োজন হয়। এর মাধ্যমে কর ফাঁকি, অস্বাভাবিক লেনদেন বা সম্পদের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হলেও বড় অংকের লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়।
ব্যাংকগুলোকে পাঠানো চিঠিতে শেখ সেলিমের নামে খোলা সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং অন্যান্য আর্থিক পণ্যের তথ্য বিস্তারিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের বিবরণও দিতে বলা হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে তার কর সংক্রান্ত অবস্থান যাচাই করা হবে।
বাংলাদেশে আয়কর আইন অনুযায়ী, এনবিআর প্রয়োজনে যেকোনো করদাতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। বিশেষ করে যদি কোনো অসঙ্গতি বা সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে এই ধরনের অনুসন্ধান আরও জোরদার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে এনবিআর এমন পদক্ষেপ বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ কর ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক। এর মাধ্যমে বড় করদাতাদের আর্থিক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা সহজ হয় এবং কর ফাঁকি কমানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে সাধারণ করদাতাদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হয় যে, সব ধরনের লেনদেন নজরদারির আওতায় আসতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে এটি সম্পূর্ণ আইনানুগ একটি প্রক্রিয়া।
সব মিলিয়ে, এনবিআরের এই পদক্ষেপ দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৪
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ব্যাংক হিসাব নিয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তার নামে এবং যৌথ নামে থাকা ৯১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের হিসাব তলব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (আজ) এনবিআরের আয়কর বিভাগের রাজধানীর কর অঞ্চল-১৫ থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২০০ অনুযায়ী এনবিআর এই তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা রাখে। সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই শেখ সেলিমের নামে বা তার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। শুধু সাধারণ হিসাব নয়, এর সঙ্গে তার ব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এনবিআর সাধারণত এমন পদক্ষেপ নেয় যখন কোনো করদাতার আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাই করার প্রয়োজন হয়। এর মাধ্যমে কর ফাঁকি, অস্বাভাবিক লেনদেন বা সম্পদের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হলেও বড় অংকের লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়।
ব্যাংকগুলোকে পাঠানো চিঠিতে শেখ সেলিমের নামে খোলা সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং অন্যান্য আর্থিক পণ্যের তথ্য বিস্তারিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের বিবরণও দিতে বলা হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে তার কর সংক্রান্ত অবস্থান যাচাই করা হবে।
বাংলাদেশে আয়কর আইন অনুযায়ী, এনবিআর প্রয়োজনে যেকোনো করদাতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। বিশেষ করে যদি কোনো অসঙ্গতি বা সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে এই ধরনের অনুসন্ধান আরও জোরদার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে এনবিআর এমন পদক্ষেপ বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ কর ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক। এর মাধ্যমে বড় করদাতাদের আর্থিক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা সহজ হয় এবং কর ফাঁকি কমানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে সাধারণ করদাতাদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হয় যে, সব ধরনের লেনদেন নজরদারির আওতায় আসতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে এটি সম্পূর্ণ আইনানুগ একটি প্রক্রিয়া।
সব মিলিয়ে, এনবিআরের এই পদক্ষেপ দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন