রাজধানীতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিশাল পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শত শত মফস্বল সাংবাদিক অংশ নেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রেস ক্লাব এলাকায় দিনভর ছিল সরব উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখর পরিবেশ।
সকাল ১০টার পর থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরা জড়ো হতে থাকেন। ‘বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম’ এবং ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের দাবি, ১–৭ মে পালিত ‘১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি।
লাল পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাব থেকে পদযাত্রা শুরু করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। পুরো এলাকায় সাংবাদিকদের স্লোগানে সৃষ্টি হয় আলাদা এক পরিবেশ।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১৪ দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন। তাদের মতে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশে-বিদেশে বহু সাংবাদিক হয়রানি, হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—
সমাবেশে অংশ নেওয়া একাধিক সাংবাদিক তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ফরিদপুর থেকে আসা এক সংবাদকর্মী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা মানুষের কথা লিখি, কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।”
আরেকজন প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, মফস্বলে সাংবাদিকতা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম প্রকাশ করলে মামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়।
বক্তারা জানান, রাজধানীর বাইরে কর্মরত সাংবাদিকদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও নানা চাপে তারা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে সত্য সংবাদ প্রকাশের পরও হয়রানির শিকার হতে হয়।
তারা মনে করেন, কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন ছাড়া স্বাধীন সাংবাদিকতা টেকসইভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও, সেই স্তম্ভের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
একজন মিডিয়া বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে তথ্যের স্বাধীন প্রবাহ নিশ্চিত করা। এটি রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।”
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রেস ক্লাব এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাংবাদিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আয়োজক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এটি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির প্রথম ধাপ। আগামী ৭ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি চলবে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সব মিলিয়ে রাজধানীর এই পদযাত্রা শুধু একটি আন্দোলন নয়, বরং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে একটি শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন বার্তাই উঠে এসেছে এই কর্মসূচি থেকে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
রাজধানীতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিশাল পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শত শত মফস্বল সাংবাদিক অংশ নেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রেস ক্লাব এলাকায় দিনভর ছিল সরব উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখর পরিবেশ।
সকাল ১০টার পর থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরা জড়ো হতে থাকেন। ‘বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম’ এবং ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের দাবি, ১–৭ মে পালিত ‘১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি।
লাল পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাব থেকে পদযাত্রা শুরু করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। পুরো এলাকায় সাংবাদিকদের স্লোগানে সৃষ্টি হয় আলাদা এক পরিবেশ।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১৪ দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন। তাদের মতে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশে-বিদেশে বহু সাংবাদিক হয়রানি, হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—
সমাবেশে অংশ নেওয়া একাধিক সাংবাদিক তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ফরিদপুর থেকে আসা এক সংবাদকর্মী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা মানুষের কথা লিখি, কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।”
আরেকজন প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, মফস্বলে সাংবাদিকতা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম প্রকাশ করলে মামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়।
বক্তারা জানান, রাজধানীর বাইরে কর্মরত সাংবাদিকদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও নানা চাপে তারা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে সত্য সংবাদ প্রকাশের পরও হয়রানির শিকার হতে হয়।
তারা মনে করেন, কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন ছাড়া স্বাধীন সাংবাদিকতা টেকসইভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও, সেই স্তম্ভের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
একজন মিডিয়া বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে তথ্যের স্বাধীন প্রবাহ নিশ্চিত করা। এটি রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।”
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রেস ক্লাব এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাংবাদিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আয়োজক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এটি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির প্রথম ধাপ। আগামী ৭ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি চলবে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সব মিলিয়ে রাজধানীর এই পদযাত্রা শুধু একটি আন্দোলন নয়, বরং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে একটি শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন বার্তাই উঠে এসেছে এই কর্মসূচি থেকে।

আপনার মতামত লিখুন