দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

আর্কাইভ দেখুন

হিজাব পরা নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়, স্কুল ইউনিফর্মে আলাদা ছাড়ের আবেদন খারিজ

হিজাব পরা নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়, স্কুল ইউনিফর্মে আলাদা ছাড়ের আবেদন খারিজ

স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা এক ছাত্রীর আবেদন খারিজ করেছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট মামলায় হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি দেখানো হয়নি।একই সঙ্গে আদালত বলেছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম যদি ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি সেই পোশাকবিধি কার্যকর করতে পারে।গত ২১ আগস্ট দেওয়া এই রায়ে বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করেন।কী নিয়ে আদালতে আবেদন?একটি বেসরকারি স্কুলের ওই শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করার পর একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। তাঁর মা আদালতে আবেদন করে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছিলেন।আবেদনে দাবি করা হয়, ওই শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই হিজাব পরে স্কুলে আসছেন এবং ইসলামে হিজাব পরা একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন।তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এবং সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। সবার জন্য একই পোশাকবিধি কার্যকর রয়েছে।আদালত যা বলেছেবেঞ্চ জানায়, বিভিন্ন শ্রেণিতে ওই ছাত্রীর তোলা ছবি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে অন্য কোনো ছাত্রীকে হিজাব পরতে দেখা যায়নি। একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও হিজাব পরেনি বলে আদালত উল্লেখ করেছে।আদালতের মতে, প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম যদি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় এবং এর উদ্দেশ্য শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখা হয়, তাহলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে সেই পোশাকবিধিতে আলাদা পরিবর্তন দাবি করার আইনি অধিকার থাকবে না।ইউনিফর্ম নিয়ে কেন এত গুরুত্ব?আদালত বলেছে, নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে প্রত্যেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা পোশাক যোগ করার সুযোগ পেলে অভিন্ন পোশাকবিধির উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।স্কুল কর্তৃপক্ষও আদালতে যুক্তি দেয়, একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দিলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ইউনিফর্মের অভিন্নতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু হিজাব নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ নয়; এর সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি নির্ধারণের ক্ষমতা বনাম শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা—এই দুই অধিকারের ভারসাম্যের প্রশ্নও জড়িয়ে আছে। তাই একই ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে আদালতের ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিক এলাহাবাদ হাইকোর্ট হিজাবসহ ইউনিফর্মের আবেদন খারিজ করেছে। আদালত সংশ্লিষ্ট মামলায় হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ভিত্তি পায়নি। সবার জন্য একই ইউনিফর্ম কার্যকর থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তা বাস্তবায়ন করতে পারে বলে আদালত জানিয়েছে। মামলায় স্কুল কর্তৃপক্ষ, উত্তর প্রদেশ সরকার ও সিবিএসই আবেদনটির বিরোধিতা করে। রায়টি দেওয়া হয়েছে ২১ আগস্ট। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি হিজাবের ধর্মীয় গুরুত্ব নিয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও মতামত রয়েছে। তাই আদালতের একটি নির্দিষ্ট মামলার পর্যবেক্ষণকে ইসলামের বিষয়ে সব আলেমের সর্বসম্মত ধর্মীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। একইভাবে ভারতের আদালতের এই রায়টি সংশ্লিষ্ট মামলা ও ভারতীয় আইনি কাঠামোর প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে।


Google Pixel 11 সিরিজ আসছে ৪ মডেলে, থাকছে Tensor G6 ও Android 17

Google Pixel 11 সিরিজ আসছে ৪ মডেলে, থাকছে Tensor G6 ও Android 17

গুগলের নতুন Pixel 11 সিরিজে একসঙ্গে চারটি মডেল আসছে—Pixel 11, Pixel 11 Pro, Pixel 11 Pro XL এবং Pixel 11 Pro Fold। নতুন সিরিজে ক্যামেরা, পারফরম্যান্স, সফটওয়্যার ও বিল্ড কোয়ালিটিতে উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সিরিজের সব মডেলেই নতুন Tensor G6 চিপসেট ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি Android 17 এবং দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা আপডেট দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।তবে নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে গুগল এবার ফোনের ভেতরের সক্ষমতা, ক্যামেরা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের দিকে বেশি নজর দিয়েছে।চার মডেলে আসছে Pixel 11নতুন সিরিজের চারটি মডেল হলো— Pixel 11 Pixel 11 Pro Pixel 11 Pro XL Pixel 11 Pro Fold বেস মডেল Pixel 11-এ থাকছে ৬.৩ ইঞ্চির ডিসপ্লে। নতুন ম্যাট ব্ল্যাক সংস্করণে ভালো গ্রিপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্রেমেও আগের তুলনায় প্রিমিয়াম অনুভূতি আনার চেষ্টা করা হয়েছে।Tensor G6 ও বেশি RAMPixel 11 সিরিজের সব মডেলেই নতুন Tensor G6 চিপসেট থাকার কথা বলা হয়েছে। Pixel 11 ও Pixel 11 Pro-এর ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে ১২ জিবি RAM থাকবে।অন্যদিকে Pixel 11 Pro-তে ৫১২ জিবি স্টোরেজ সংস্করণ এবং Pixel 11 Pro Fold-এ ২৬ জিবি RAM থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বেশি RAM ও স্টোরেজের কারণে ভারী অ্যাপ ব্যবহার এবং মাল্টিটাস্কিংয়ে সুবিধা পাওয়ার কথা।Android 17 ও দীর্ঘ আপডেটনতুন সিরিজে Android 17 থাকার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে গুগল দীর্ঘ সময় ধরে অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা আপডেট দেওয়ার সুবিধা রাখছে।দীর্ঘদিন একই ফোন ব্যবহার করতে চান এমন ব্যবহারকারীদের কাছে এই সফটওয়্যার সাপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ নিয়মিত নিরাপত্তা আপডেট ফোনের ব্যবহারকে দীর্ঘ সময় নিরাপদ ও কার্যকর রাখতে সাহায্য করে।ক্যামেরায় নতুন ৪৮ মেগাপিক্সেল সেন্সরক্যামেরাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। Pixel 11 সিরিজে নতুন ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।নতুন সেন্সর বেশি আলো ধারণ করতে পারলে কম আলোতে ছবি তোলার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে রাতের ছবিতে নয়েজ ও ব্লার কমানোর ক্ষেত্রে সফটওয়্যার প্রসেসিংয়ের সঙ্গে সেন্সরের উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।তবে ক্যামেরার বাস্তব পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবে জানতে ফোন বাজারে আসার পর স্বাধীন ক্যামেরা পরীক্ষা প্রয়োজন।গুরুত্বপূর্ণ দিক চারটি মডেলে আসছে Pixel 11 সিরিজ। থাকছে নতুন Tensor G6 চিপসেট। Pixel 11 ও 11 Pro-তে ১২ জিবি RAM-এর সংস্করণ রয়েছে। Pixel 11 Pro Fold-এ ২৬ জিবি RAM থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। Android 17 ও দীর্ঘমেয়াদি আপডেট সুবিধা থাকছে। নতুন ৪৮ মেগাপিক্সেল প্রধান ক্যামেরা সেন্সর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ব্যাটারি ও চার্জিংয়ে কী থাকছে?নতুন সিরিজে সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৫,০০০ mAh-এর নিচে থাকার কথা বলা হয়েছে।তারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ ওয়াট চার্জিং এবং Qi2.2 ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ ওয়াট চার্জিং সুবিধা থাকার কথা রয়েছে।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: Pixel 11 সিরিজে গুগলের কৌশলটি শুধু ‘নতুন ডিজাইন’ দেখানোর চেয়ে দীর্ঘদিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতার দিকে বেশি ঝুঁকে আছে। বিশেষ করে চিপসেট, সফটওয়্যার আপডেট ও ক্যামেরা—এই তিন জায়গায় উন্নতি হলে কয়েক বছর একই ফোন ব্যবহার করতে চাওয়া ক্রেতাদের কাছে সিরিজটি আকর্ষণীয় হতে পারে।সাধারণ মানুষের ভাবনা নতুন ফোন কেনার আগে শুধু RAM বা ক্যামেরার মেগাপিক্সেল দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। ব্যাটারি, চার্জিং গতি, সফটওয়্যার আপডেট, ক্যামেরার বাস্তব পারফরম্যান্স এবং দাম—সবকিছু মিলিয়ে তুলনা করা উচিত।


সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হিসাবের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন।গভর্নর ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।আমানতকারীদের মুনাফায় ‘হেয়ারকাট’ থাকবে নাবাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না।তবে বিষয়টি নিয়ে অনেক আমানতকারীর মধ্যে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানাতে বলা হয়েছে।অর্থাৎ, মুনাফার অর্থ কমিয়ে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকবে না—এ বিষয়ে আমানতকারীদের স্পষ্ট তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গভর্নর।১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা উত্তোলনে নতুন ব্যবস্থাবাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের বিভিন্ন হিসাবের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।এর মধ্যে রয়েছে— আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব মুদারাবা মেয়াদি আমানত ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আগের নীতিমালা অনুযায়ী অর্থ ফেরতগভর্নর জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।এখন নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী মূল অর্থ উত্তোলনের সুযোগ আরও স্পষ্ট করা হলো।তবে কোন গ্রাহক কী পরিমাণ অর্থ ও কী প্রক্রিয়ায় তুলতে পারবেন, সে বিষয়ে ব্যাংকের বিস্তারিত নির্দেশনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার নির্দেশসম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন।বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।গুরুত্বপূর্ণ দিক আমানতকারীদের মুনাফায় হেয়ারকাট থাকবে না। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের মূল অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। আল-ওয়াদিয়াহ, মুদারাবা সঞ্চয়ী ও মুদারাবা মেয়াদি আমানত এর আওতায় রয়েছে। ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্ব দিয়েছে। কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ?ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে আমানতকারীদের আস্থা সরাসরি জড়িত। টাকা উত্তোলন ও মুনাফা নিয়ে পরিষ্কার তথ্য না থাকলে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে মুনাফায় ‘হেয়ারকাট’ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু টাকা উত্তোলনের সুযোগ নয়; বরং আমানতকারীদের কাছে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গভর্নরের জোর। ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।সাধারণ মানুষের ভাবনা আমানতকারীদের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের ওপর নির্ভর না করে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করা। বিশেষ করে টাকা উত্তোলনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাংকের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নেওয়া নিরাপদ।


নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে কখন, কোথায় এবং তাঁর কোন ছেলেকে লক্ষ্য করে এমন চেষ্টা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।সোমবার ইসরায়েলের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপে তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ঘটনাটি ‘অবিশ্বাস্য’। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরান তাঁর এক ছেলেকে লক্ষ্য করে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল।তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, সময়, স্থান বা গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁর দুই ছেলে ও স্ত্রীকে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে নিরাপত্তা দিতে দেশটির একটি নিরাপত্তা সংস্থা অস্বীকৃতি জানিয়েছে—এমন খবরের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নেতানিয়াহু তাঁর ছেলেকে হত্যাচেষ্টার দাবি করেন।আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আইজেনকোটও একজন প্রতিদ্বন্দ্বী। নেতানিয়াহু তাঁর জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পক্ষে মত দিয়েছেন।নেতানিয়াহুর বক্তব্য, এ ধরনের নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়। নিরাপত্তা না থাকলে ইরানিরা সফল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অবস্থান করছেন।তাঁর নিরাপত্তার পেছনে ইসরায়েলি করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি দেশটিতে আগে থেকেই বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য নিরাপত্তা নিয়ে সেই পুরোনো বিতর্ককেও আবার সামনে এনেছে।নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য হামলায় নিহত হওয়ার পর ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। পরে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবাকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে। তবে তাঁর বাবার দাফন উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তিনি ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ দিক নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তিনি ঘটনার সময়, স্থান বা লক্ষ্য হওয়া ছেলের পরিচয় জানাননি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নেতানিয়াহুর পরিবারকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে তাঁর বক্তব্যটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই আলোচনায় এসেছে।নেতানিয়াহুর বক্তব্যটি গুরুতর হলেও এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা প্রতিবেদন বা তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। তাই এটিকে আপাতত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: বক্তব্যটির সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে এই দাবি যেমন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের বিষয়টি সামনে আনছে, তেমনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী রাজনীতিতেও এটি নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে দাবিটির বাস্তব ভিত্তি বুঝতে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন তথ্যের প্রয়োজন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণিত তথ্য ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। নতুন কোনো সরকারি তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে এলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।


রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তভার বদলেছে। কোতয়ালী থানা থেকে মামলাটি এখন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে।পুলিশ বলছে, মামলাটি আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত এবং দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুই আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দি তদন্তের নতুন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে সামনে এসেছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন।নথিপত্র হস্তান্তরের পর পুরনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তাই নগরীর মাছুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বাড়িতে যান।সেখানে আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেন। তদন্তের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে, সে জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী তদন্তভার পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ডিবির উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রোববার (২৩ আগস্ট) গভীর রাত পর্যন্ত দুই অভিযুক্ত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।পুলিশের দাবি, আদালতে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে এর আগে পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য জানানো হয়েছিল, তার মিল রয়েছে। তবে আসামিরা কিছু অতিরিক্ত তথ্যও জানিয়েছেন, যা তদন্তকারীদের আগে জানানো হয়নি।তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে দেখা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি থাকলেও অন্যান্য সাক্ষ্য, আলামত ও তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।এর আগে রোববার ভোরে এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ডিআইজি আবদুল মাবুদ দাবি করেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।তবে মামলার তদন্ত এখন ডিবির হাতে যাওয়ায় ঘটনার পেছনে আসলে কী ঘটেছিল, তা তদন্তে আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করছে পুলিশ।গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান।নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকার পর মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়িটির নিচতলার কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও পরিবার নিয়ে প্রায় দুই-তিন বছর ধরে ওপরের তলায় বসবাস করছিলেন।অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন বলে জানা গেছে।গুরুত্বপূর্ণ দিক শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে ডিবিতে দেওয়া হয়েছে। দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের নতুন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির ওসি জিন্নাত আলী।একটি পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তের প্রতিটি তথ্য যাচাই করা জরুরি। তদন্তভার ডিবিতে যাওয়ার ফলে মামলাটির আলামত, আসামিদের বক্তব্য, পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং সম্ভাব্য অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো আরও বিস্তৃতভাবে যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।তবে এখনই কোনো একটি বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া প্রাথমিক তথ্য, আসামিদের আদালতের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত—সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার পরই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই মামলায় তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে শুধু ‘কেন হত্যা করা হয়েছে’ তা নয়, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে আসামিদের গতিবিধি এবং ঘটনাস্থলের আলামতের সঙ্গে তাদের বক্তব্য কতটা মেলে—এটি যাচাই করা। ডিবির তদন্তে এই জায়গাটি পরিষ্কার হলে মামলার প্রকৃত ঘটনা বোঝা সহজ হতে পারে। এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ও গুজব ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু তদন্তাধীন মামলায় পুলিশ বা আদালতে যাচাই না হওয়া তথ্য প্রচার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশ করাই গুরুত্বপূর্ণ।


মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আজ হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গেছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পর হাইকোর্ট আগামী সোমবার রায়ের নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলাটিতে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় রায়ের সময় উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এ কারণে সময় চাওয়া হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।কেন পিছিয়ে গেল রায়?মঙ্গলবার আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক সময়ের আবেদন করেন। তিনি জানান, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ সময় চাইছে।পরে হাইকোর্ট সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী সোমবার রায়ের দিন ধার্য করেন।মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক রয়েছেন।যে ঘটনায় আলোচনায় আসে আছিয়ার মামলামাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গত বছরের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে।মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয়েছিল বিচার২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল।রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যুক্তিতর্কও দ্রুত শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছিল।পরে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালত প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।অন্য তিন আসামি—সজীব শেখ (১৯), তাঁর ছোট ভাই (১৭) এবং তাঁদের মা জাহেদা বেগম (৪০)—খালাস পান।এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষাবিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড হলে আইন অনুযায়ী তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে মামলার নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।যাচাই-বাছাই শেষে নথি পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছায়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।মঙ্গলবার রায়ের দিন থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের কারণে এখন নতুন করে সোমবারের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।গুরুত্বপূর্ণ দিক হাইকোর্টে হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় পিছিয়েছে। নতুন রায়ের দিন আগামী সোমবার। বিচারিক আদালত হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন। অন্য তিন আসামি খালাস পেয়েছেন। বিচারিক কার্যক্রম মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয়েছিল। হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না। কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?শিশু আছিয়ার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হওয়ায় শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়।তবে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকবে, পরিবর্তিত হবে নাকি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসবে—সেটি আদালতের পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই মামলার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিচারিক আদালতে অল্প সময়ে কার্যক্রম শেষ হওয়া। এখন হাইকোর্টের ধাপে রায়ের অপেক্ষা দেখাচ্ছে, দ্রুত বিচার শেষ করার পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত ধাপগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।সাধারণ মানুষের ভাবনা ও সতর্কতা শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো মামলায় মানুষের আবেগ তীব্র হওয়া স্বাভাবিক। তবে রায় ঘোষণার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমান বা অযাচাইকৃত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্যের প্রতিও সম্মান দেখানো জরুরি।


প্রেস রিলিজ নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে NUB Film and Photography Club-এর উদ্যোগে ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

খিলক্ষেত নিকুঞ্জ জনগণের স্বার্থে চাঁদাবাজি মাদকমুক্ত সমাজ গড়বো: আলহাজ্ব ফজলুল হক

ঈদের নাটক ‘ওয়ারিশ’ নিয়ে চমক, পরিবার ও সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্পে তারিক আনাম-তৌসিফ

বনানীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, কঠোর অবস্থানে ওয়ার্ড আহ্বায়ক কবির হোসেন

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত মঈন সরকার, এমপি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

খালি পেটে মিষ্টি নয়—রক্তে শর্করা বাড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা

ময়মনসিংহে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, নারীসহ একাধিক আহত, লুটপাটের দাবি

বনানী যুবদল নেতা লিটনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ লিটনের খপ্পরে নিঃস্ব বিধবা নারী রেশমি :থানায় অভিযোগ

আশকোনায় হাজি স্কুলের পাশে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার, বড় নাশকতা থেকে রক্ষা পেলো বিমানবন্দর এলাকা

১০

শারীরিক অসুস্থতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জনপ্রিয় সব খবর

হিজাব পরা নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়, স্কুল ইউনিফর্মে আলাদা ছাড়ের আবেদন খারিজ

Google Pixel 11 সিরিজ আসছে ৪ মডেলে, থাকছে Tensor G6 ও Android 17

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রিজভী

মিলাদুন্নবীর রাতে কী কী আমল করা যায়? কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জানুন

ফিফা নির্বাচন ২০২৭: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী আসতে পারে, বললেন সেফেরিন

১০

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

সর্বশেষ সব খবর

আর্কাইভ