দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

ফিফা নির্বাচন ২০২৭: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী আসতে পারে, বললেন সেফেরিন

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনে আগামী নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন। তবে নিজে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তিনি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন। ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে ফিফার সভাপতি হতে চান। আগামী ২০২৭ সালের মার্চে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনো প্রার্থী দাঁড়াতে পারেন বলে মনে করছেন সেফেরিন। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনা, যা পরে ফিফা বাতিল করে। নিজে প্রার্থী হচ্ছেন না সেফেরিনসেফেরিন জানিয়েছেন, ফিফা সভাপতি হওয়ার জন্য নির্বাচনে লড়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। তিনি উয়েফার দায়িত্বেই থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।তবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর অবস্থান বেশ কঠোর। সেফেরিনের মতে, ইনফান্তিনো ফুটবলার, কোচ ও সমর্থকদের একটি বড় অংশের সমর্থন হারিয়েছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে তাঁর জন্য পরিস্থিতি সহজ নাও হতে পারে। ফিফা সভাপতির নির্বাচনে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। ফলে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সামনে আসার জন্য এখনও সময় রয়েছে। যে পরিকল্পনা নিয়ে এত বিতর্কবিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ফিফার বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে একটি পরিকল্পনা। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান FIFA Forward Enterprise (FFE)-এর একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার কথা ছিল।পরিকল্পনাটি নিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা তীব্র আপত্তি জানায়। শেষ পর্যন্ত ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো ৩১ জুলাই পরিকল্পনাটি বাতিল করেন। সেফেরিন এই পরিকল্পনাকে ২০২১ সালের বহুল আলোচিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগের উদ্যোগের চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতো। ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়ছেসেফেরিনের মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক ফুটবল সংস্থার অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে।২৩ আগস্ট ছয়টি নর্ডিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফারো দ্বীপপুঞ্জ—ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। তারা ফিফার শাসনব্যবস্থা নিয়ে স্বাধীন তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইনফান্তিনোর সমর্থন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু ফুটবল ব্লক এখনো তাঁর প্রতি সমর্থন দেখিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দিক ফিফা সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা মার্চ ২০২৭-এ। ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে যেতে চান। সেফেরিন নিজে প্রার্থী হচ্ছেন না। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। ছয়টি নর্ডিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছে। সামনে কী হতে পারে?এখন মূল প্রশ্ন হলো, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কে প্রার্থী হবেন। সেফেরিন নিজে না দাঁড়ালেও তাঁর মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইউরোপের ফুটবল মহলের একটি অংশ বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই নির্বাচনে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, ফিফা কীভাবে পরিচালিত হবে—সেটিও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই বিতর্ক ফুটবল প্রশাসনে অর্থ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্পর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।সাধারণ মানুষের ভাবনাফুটবল বিশ্বে নেতৃত্বের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্বকাপ, জাতীয় দল, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই আগামী নির্বাচনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তার পাশাপাশি ফুটবলের স্বচ্ছতা, সদস্য দেশগুলোর মতামতের গুরুত্ব এবং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে জবাবদিহি—এসব বিষয়ও নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ফিফা নির্বাচন ২০২৭: ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী আসতে পারে, বললেন সেফেরিন