দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের পাশে বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশ থেকে শাকিল (১৪) নামে এক বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সীমান্ত এলাকায় তার মরদেহ পাওয়ার খবর পায় পরিবার।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে ত্রিপুরা রাজ্যের লঙ্কামুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা সানমুড়া সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের পাশে পড়ে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।কিশোরটি কীভাবে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাল এবং তার মৃত্যুর কারণ কী—তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিজিবি।নিহত শাকিল আখাউড়ার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মালু মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়।শাকিলের বাবা মালু মিয়া জানান, ওই রাতে তাঁর মেয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে শাকিল ঘরে ফিরে মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে যায়। কিছুক্ষণ পর সে আবার ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন।পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করা হলেও শাকিলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।মালু মিয়া জানান, শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবির মাধ্যমে ছেলের মরদেহ সীমান্ত এলাকায় পাওয়ার খবর পান। পরে তিনি সীমান্তে গিয়ে মরদেহ দেখেন।তিনি বলেন, ছেলেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছিল। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। মরদেহ বিএসএফ নিয়ে যাওয়ার পর কবে ছেলের লাশ ফেরত পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান তিনি।শাকিলের বাবা আরও জানান, তাঁর ছেলে মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল। তবে কীভাবে সে বাড়ি থেকে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।বিজিবি ফকিরমুড়া ক্যাম্পের কমান্ডার নিরাময় চাকমা জানান, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের আখাউড়া-ত্রিপুরা অংশের ২০২২-৯এস সীমান্ত পিলারের কাছে সানমুড়া কাঁটাতারের বেড়ার পাশে একটি কিশোরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি বিএসএফের নজরে আসে।শনিবার সন্ধ্যার পর বিএসএফের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফকিরমুড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেন। খবর পেয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।পরে বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেন।বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ এবং ঘটনাস্থলে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের প্রক্রিয়া শেষ করতে গভীর রাত হয়ে যায়। পরে রাত ২টার দিকে ত্রিপুরার লঙ্কামুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নেন।২৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, কিশোরটি কীভাবে সীমান্ত এলাকায় গেল এবং তার মৃত্যুর কারণ কী—তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তিনি জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে মরদেহ পাওয়ায় বিএসএফ সেটি নিয়ে গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ দিকনিহত কিশোরের নাম শাকিল, বয়স ১৪ বছর।সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা।বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শাকিল।সানমুড়া সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়।বিএসএফ মরদেহটি হেফাজতে নিয়েছে।মৃত্যুর কারণ ও সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিজিবি।বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় একজন কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিখোঁজ হওয়ার সময় থেকে সীমান্তে মরদেহ উদ্ধারের মধ্যবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা প্রয়োজন।ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে নিখোঁজ হওয়ার সময়, সম্ভাব্য চলাচলের পথ, সীমান্ত এলাকার তথ্য এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।এই ঘটনায় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—শাকিল কীভাবে বাড়ি থেকে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছিল এবং তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা। পরিবারের বক্তব্য, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথ্য এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব।

আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের পাশে বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ উদ্ধার