দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে মাইক্রোবাস, নিহত ৩

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায়। লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল জানান, মাইক্রোবাসটি কক্সবাজার থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে চুনতি এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে পাশের গভীর খাদে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।অন্যদিকে, লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র কিছুটা ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী মাইক্রোবাসটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। জাঙ্গালিয়া এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি প্রথমে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। উদ্ধারকর্মীরা খাদে পড়ে থাকা মাইক্রোবাস থেকে নিহতদের মরদেহ বের করে সড়কের পাশে নিয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনও উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে।এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে সড়ক থেকে সরানোর কাজও চলছে।স্থানীয়দের দাবি, ওই সড়কের ওই অংশটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে চুনতি ও জাঙ্গালিয়া এলাকার কিছু বাঁক ও ঢালু পথের কারণে প্রায়ই চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারান। অতীতে এই এলাকায় ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও তারা জানান। দ্রুতগতির যানবাহন এবং অসতর্ক ড্রাইভিং এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তারা।বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ক্লান্ত চালক, সড়কের অবকাঠামোগত ত্রুটি এবং যানবাহনের ফিটনেস না থাকা—এসব কারণ মিলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ পথ চলার সময় চালকদের সতর্কতা কমে গেলে এমন দুর্ঘটনা বেশি ঘটে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দেশের যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য কাজ করে। সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব ক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুর্ঘটনাতেও তাদের দ্রুত উপস্থিতি উদ্ধার কাজে সহায়তা করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত করা হবে। চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি বা যান্ত্রিক ত্রুটি—কোনটি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা খতিয়ে দেখা হবে। সব মিলিয়ে, লোহাগাড়ার এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল সড়কে সামান্য অসতর্কতা কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—সবারই আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে মাইক্রোবাস, নিহত ৩