দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

আইসিপি বিজিবির অভিযানে ২ লক্ষ টাকার ভারতীয় কসমেটিক্স আটক

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ২ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের আগেই এসব পণ্য আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার (৯ জুন) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর আওতাধীন বেনাপোল আইসিপি সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভারতীয় ১২টি শাড়ি, ২০ প্যাকেট ফুসকা, ২ কেজি কিসমিস এবং ১৭১টি কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত পণ্যের মোট বাজারমূল্য ২ লাখ ৩ হাজার ১০০ টাকা।সীমান্তে বাড়ছে নজরদারিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান রোধে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে অবৈধভাবে প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য, মাদক ও অন্যান্য পণ্য পাচারের চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত টহল ও তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে একের পর এক চোরাচালান চেষ্টার ঘটনা ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি করছে বিজিবি।অধিনায়কের বক্তব্যএ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রম বিজিবির অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্বের অংশ। বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিযানিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।তিনি আরও জানান, যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান?বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করা পণ্য শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করে না, বৈধ ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির মুখে ফেলে। এছাড়া মান নিয়ন্ত্রণবিহীন প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চোরাচালান চক্রের জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। তবে শুধু অভিযান নয়, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণসাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় আটক হওয়া চালানগুলোর মধ্যে ভারতীয় কসমেটিক্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যাচ্ছে। বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা থাকায় পাচারকারীরা তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে দ্রুত মুনাফার আশায় এই খাতকে বেশি ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।গুরুত্বপূর্ণ দিক• বেনাপোল আইসিপি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি।• ১৭১টি ভারতীয় কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।• ভারতীয় শাড়ি, ফুসকা ও কিসমিসও আটক করা হয়েছে।• জব্দকৃত পণ্যের মূল্য ২ লাখ ৩ হাজার ১০০ টাকা।• সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিজিবি।সাধারণ মানুষের ভাবনাসীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, নিয়মিত অভিযান চোরাচালান কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা এবং সীমান্ত নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে অবৈধ বাণিজ্য আরও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।বিজিবি জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আইসিপি বিজিবির অভিযানে ২ লক্ষ টাকার ভারতীয় কসমেটিক্স আটক