দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

কটিয়াদীতে রক্তদান সমিতির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: গাছে গাছে পাখির বাসা, মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণে সবুজ ভবিষ্যতের বার্তা

একদিকে বাড়ছে তাপমাত্রা, অন্যদিকে কমছে গাছপালা ও পাখির আবাসস্থল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যখন দিন দিন প্রকট হচ্ছে, ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুধু গাছ লাগানো নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের জন্য কৃত্রিম বাসা তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে তারা। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।শুধু গাছ নয়, পাখিদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়শুধু গাছ নয়, পাখিদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়শুক্রবার বিকেলে কটিয়াদী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং রক্তদান সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক বদরুল আলম নাঈম।[TECHTARANGA-POST:1570]আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো পাখিদের জন্য কৃত্রিম বাসা স্থাপন। বিভিন্ন গাছে মাটির কলস বসিয়ে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।সংগঠনের সদস্যরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ এলাকাতেও পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গাছ কাটার ফলে অনেক পাখি তাদের স্বাভাবিক আবাস হারাচ্ছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মাসজুড়ে চলবে সবুজায়ন অভিযানকর্মসূচির আওতায় কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং জনসমাগমস্থলে পর্যায়ক্রমে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারলেই পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ অনেক সময় আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগানো হলেও পরবর্তীতে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বদরুল আলম নাঈম বলেন, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব থেকে বাংলাদেশও নিরাপদ নয়।তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে এখন থেকেই বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।তার মতে, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; সমাজের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।মানবসৃষ্ট সংকট, সমাধানও মানুষের হাতেইসংগঠনের কার্যকরী সমন্বয়ক ও চলচ্চিত্রকর্মী জিসান আজাদ বলেন, বর্তমান পরিবেশ সংকটের বড় অংশই মানুষের তৈরি। নির্বিচারে বন উজাড়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহারের কারণে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।তিনি বলেন, সচেতনতা তৈরি এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি সংরক্ষণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?পরিবেশবিদদের মতে, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না; এটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ কমানো, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অন্যদিকে পাখি হলো প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাখির সংখ্যা কমে গেলে পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়। ফলে গাছ লাগানোর পাশাপাশি পাখিদের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি কেবল সরকারি নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। স্থানীয় পর্যায়ে এমন জনসম্পৃক্ত উদ্যোগই ভবিষ্যতের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য কাওসার আহমেদ, ইমরান হোসেন, ইয়াসিন আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, হাসিব আল মাহমুদ রাস্কি, সাব্বির হোসেন রিয়াদ, আরিফুল ইসলাম আকাশসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয়দের আশা, কটিয়াদীতে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ শুধু একটি কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পরিবেশ রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠবে।

কটিয়াদীতে রক্তদান সমিতির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: গাছে গাছে পাখির বাসা, মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণে সবুজ ভবিষ্যতের বার্তা