রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, উদ্বেগ স্থানীয়দের
রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে পার্কিং এলাকায় দোকান বসানোর সুযোগ দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম ফারুক হোসেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করছেন। এমনকি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষকে দোকান বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি।
দোকান দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করতেন যে তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এবং চাইলে বিমানবন্দর রেলওয়ে পার্কিং এলাকায় দোকান বসানোর ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন।
এই আশ্বাসে অনেকেই তার কাছে টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রথমে অল্প পরিমাণ টাকা নেওয়া হলেও পরে নানা অজুহাতে আরও অর্থ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা দিতে দেরি হলে কিংবা আপত্তি জানালে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হতো। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অভিযোগে বাড়ছে ক্ষোভ
স্থানীয় এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, জীবিকার আশায় তিনি দোকান বসানোর সুযোগ খুঁজছিলেন। এ সময় অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করে টাকা দেন।
তার দাবি, দোকান দেওয়ার পরিবর্তে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একজন অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছ থেকেও যদি এভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশার নাম ব্যবহার করে যদি কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় বা চাঁদাবাজির চেষ্টা করেন, তাহলে তা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদৌ কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
তদন্ত দাবি স্থানীয়দের
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক সাধারণ মানুষ জীবিকার আশায় টাকা দিয়েছেন। এখন তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।”
তারা আরও বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসনের বক্তব্য মেলেনি
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে সচেতন মহল বলছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের জীবিকা ও অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা বা চাঁদাবাজির অভিযোগ সামাজিকভাবে বড় উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
বাড়ছে সামাজিক উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী বা প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত পেশাজীবীরাও বিব্রত হন এবং সাধারণ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সব মিলিয়ে, বিমানবন্দর রেলওয়ে পার্কিং এলাকায় ওঠা এই অভিযোগ এখন স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।