বীর মুক্তিযোদ্ধা আমানউল্লা মোল্লার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিল বিজিবি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নায়েব সুবেদার আমানউল্লা মোল্লার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল বেশ প্রবীণ এবং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।মরহুম আমানউল্লা মোল্লা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (তৎকালীন বিডিআর) দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।[TECHTARANGA-POST:1377]মুক্তিযুদ্ধের একজন নীরব সাহসী যোদ্ধাস্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আমানউল্লা মোল্লা ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে ও দেশপ্রেমিক একজন মানুষ। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন তিনি। যুদ্ধ শেষে দীর্ঘ সময় সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামের মানুষের কাছে তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতেন বিভিন্ন সময়।একজন প্রতিবেশী বলেন, “তিনি খুবই শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। এলাকার যে কোনো সামাজিক কাজে এগিয়ে আসতেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমরা তাকে সবসময় সম্মানের চোখে দেখেছি।”বিজিবির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মানবিজিবি সূত্র জানায়, কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের মৃত্যু হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান প্রদর্শনের জন্য গার্ড অব অনার দেওয়ার নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালার অংশ হিসেবেই মরহুম আমানউল্লা মোল্লাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর একটি চৌকস দল গোপালগঞ্জে মরহুমের বাড়িতে গিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এ সম্মান প্রদর্শনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বজন এবং এলাকাবাসীর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।পরিবারের শোক, এলাকাজুড়ে বিষণ্নতামরহুমের মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনরা জানান, বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরাই তার পাশে ছিলেন।তার এক আত্মীয় বলেন, “তিনি সবসময় দেশের কথা বলতেন। আমাদেরকে সৎভাবে চলার উপদেশ দিতেন। আজ আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম।”স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, একে একে মুক্তিযুদ্ধের অনেক সাহসী যোদ্ধা হারিয়ে যাচ্ছেন, যা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিয়ে ইতিবাচক বার্তাবিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান প্রদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এতে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিষয়টি আরও বেশি স্মরণীয় হয়ে ওঠে।সামাজিকভাবেও এ ধরনের উদ্যোগ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান স্মরণে বিজিবির এ আয়োজন প্রশংসিত হচ্ছে।অনেকে মনে করছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের গল্প ও অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে আরও বেশি তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ না থাকে এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত হয়।[TECHTARANGA-POST:1375]গভীর শোক প্রকাশ বিজিবিরবিজিবি কর্তৃপক্ষ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তার মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন, সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখা এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় মানুষজনও দলে দলে তার বাড়িতে ভিড় করেন।